রাজধানীর সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোর সামনে এখন প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে একই দৃশ্য। ভোর থেকে গভীর রাত— যেদিকেই চোখ যায়, গ্যাসের অপেক্ষায় সারিবদ্ধ শত শত সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মাইক্রোবাস। কোথাও দুই ঘণ্টা, কোথাও তিন থেকে পাঁচ ঘণ্টা, আবার অনেক ক্ষেত্রে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা অপেক্ষার পরও মিলছে মাত্র ৭০ থেকে ২০০ টাকার গ্যাস।
এই দীর্ঘ অপেক্ষা শুধু চালকদের ব্যক্তিগত দুর্ভোগ নয়—এটি এখন দেশের অর্থনীতির জন্যও একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। কারণ, প্রতিটি ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানে উৎপাদনশীল কর্মঘণ্টা হারিয়ে যাওয়া। আর সেই হারানো কর্মঘণ্টার মূল্য শেষ পর্যন্ত যোগ হচ্ছে জাতীয় অর্থনীতির ক্ষতির হিসাবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাস সংকটের ফলে যে সময় অপচয় হচ্ছে, সেটি সরাসরি জাতীয় উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দিচ্ছে। একই সময়ে বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে তাপপ্রবাহের কারণে কর্মঘণ্টা হারিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বছরে ১ দশমিক ৩ থেকে ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, গ্যাস সংকট সেই চাপকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
কেন তৈরি হলো এই সংকট
বর্তমান সংকটের মূল কারণ কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ড ও যান্ত্রিক ত্রুটি। এর ফলে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে।
বাংলাদেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট, কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ নেমে এসেছে ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুটে। অর্থাৎ আগের ঘাটতির সঙ্গে নতুন করে বড় ধরনের সরবরাহ সংকট যুক্ত হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা, সার কারখানা, আবাসিক গ্রাহক এবং সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোর ওপর।
প্রতিদিন কত কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে
রাজধানীর তেজগাঁও, মগবাজার, মালিবাগ, গাবতলী, কাওরান বাজার, যাত্রাবাড়ী, বাড্ডা, উত্তরা, মিরপুর, বনশ্রী, খিলগাঁও, মতিঝিল, সবুজবাগসহ প্রায় সব এলাকার ফিলিং স্টেশনেই এখন একই অবস্থা।
চালকদের ভাষ্য অনুযায়ী—গড়ে ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা অপেক্ষার পরও পর্যাপ্ত গ্যাস মিলছে না। অনেক স্টেশনে মাত্র ১ থেকে দেড় ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ হওয়ার পর আবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছে মাত্র ৮০ টাকার গ্যাস।
একজন সিএনজি-চালক সাধারণ দিনে যেখানে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে ১২-১৫টি ট্রিপ দিতে পারেন, সেখানে এখন গ্যাসের লাইনে দাঁড়িয়ে সেই সময়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হারিয়ে ফেলছেন। অর্থাৎ একজন চালকের প্রতিদিনের কর্মঘণ্টা কমে যাচ্ছে ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা, যা তার দৈনিক আয়ের ওপর সরাসরি আঘাত করছে।
কত বড় অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে
বাংলাদেশে নিবন্ধিত সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যক্তিগত সিএনজি গাড়ি, মাইক্রোবাস ও অন্যান্য গ্যাসচালিত যানবাহনের সংখ্যা কয়েক লাখ। যদি শুধু এক লাখ চালকও প্রতিদিন গড়ে তিন ঘণ্টা করে লাইনে অপেক্ষা করেন, তাহলে একদিনেই নষ্ট হচ্ছে প্রায় ৩ লাখ কর্মঘণ্টা। আর যদি এই সংখ্যা দুই লাখে পৌঁছায়, তাহলে প্রতিদিন হারিয়ে যাচ্ছে ৬ লাখ কর্মঘণ্টা।
এই হারানো সময়ের অর্থ—হাজার হাজার ট্রিপ কম হচ্ছে। যাত্রী পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসায়িক কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে। পণ্য পরিবহন ধীর হয়ে যাচ্ছে। জ্বালানি নিতে অপেক্ষার সময় কোনও উৎপাদন হচ্ছে না।
অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, এটি অদৃশ্য উৎপাদন ক্ষতি, যা জিডিপির হিসাবে সরাসরি ধরা না পড়লেও অর্থনীতির গতি কমিয়ে দেয়।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেম (সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘গ্যাস সংকটের কারণে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে চালকদের তিন থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা শুধু তাদের ব্যক্তিগত আয়ের ক্ষতিই নয়, এটি জাতীয় অর্থনীতির উৎপাদনশীল কর্মঘণ্টারও বড় ধরনের অপচয়।’’
তিনি বলেন, ‘‘এ ধরনের পরিস্থিতির প্রভাব ধীরে ধীরে শিল্প উৎপাদন, ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় এবং বাজারব্যবস্থার ওপর পড়তে শুরু করে। পরিবহন ও সরবরাহে বিলম্বের কারণে উৎপাদন ব্যয় বাড়ে, পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং শেষ পর্যন্ত এর চাপ ভোক্তা পর্যায়ের মূল্যস্ফীতিতেও প্রতিফলিত হতে পারে।’’
ড. সেলিম রায়হান বলেন, ‘‘প্রতিদিনের আর্থিক ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করতে আরও বিস্তারিত তথ্য ও পরিসংখ্যান প্রয়োজন। তবে অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি স্পষ্ট—যখন হাজার হাজার মানুষ উৎপাদনশীল কাজে নিয়োজিত থাকার পরিবর্তে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে সময় ব্যয় করেন, তখন তা জাতীয় উৎপাদনশীলতা, অর্থনৈতিক দক্ষতা এবং প্রবৃদ্ধির ওপর বাস্তব ও পরিমাপযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।’’
তার মতে, তাই গ্যাস সংকটকে কেবল জ্বালানি সরবরাহের সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি শ্রম উৎপাদনশীলতা, পরিবহন ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ।
এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা এখন বাংলাদেশের অর্থনীতির উৎপাদনশীলতার জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। গ্যাসের ঘাটতির কারণে যে কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, সেটি অর্থনীতির জন্য স্থায়ী ক্ষতি। কারণ হারিয়ে যাওয়া উৎপাদনশীল সময় পরে আর পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয় না।’’
তিনি বলেন, ‘‘পরিবহন খাতে গ্যাস সংকটের কারণে চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে শুধু তাদের ব্যক্তিগত আয়ই কমছে না, যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের সক্ষমতাও হ্রাস পাচ্ছে। এর প্রভাব ধাপে ধাপে সরবরাহ ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ছড়িয়ে পড়ছে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘দীর্ঘ সময় ধরে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা বিরাজ করলে নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হয়, শিল্প সম্প্রসারণের গতি কমে যায় এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাও দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই গ্যাস সংকটকে শুধু জ্বালানির সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি উৎপাদনশীলতা, আয়, বিনিয়োগ এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর বহুমাত্রিক প্রভাব ফেলছে।’’
চালকদের আয়ে বড় ধাক্কা
রাজধানীর বিভিন্ন স্টেশনে কথা বলা চালকদের প্রায় সবার অভিযোগ একই। আগে যে সময়ে তিন-চারটি ট্রিপ দেওয়া যেত, এখন সেই সময় কেটে যাচ্ছে লাইনে দাঁড়িয়ে। ফলে দৈনিক আয় কয়েকশত টাকা পর্যন্ত কমে যাচ্ছে। অনেকে বলছেন, সারা দিন পরিশ্রম করেও এখন আগের মতো জমা তুলতে পারছেন না। সংসারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
যাত্রীদেরও বাড়তি ভোগান্তি
রাস্তায় সিএনজিচালিত যানবাহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় যাত্রীদের অপেক্ষার সময় বেড়েছে। একইসঙ্গে বেড়েছে ভাড়া। অনেক চালক বলছেন, গ্যাস কম পাওয়ায় সীমিত ট্রিপ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে আগের তুলনায় বেশি ভাড়া না নিলে খরচই উঠে আসে না।
শুধু পরিবহন নয়, শিল্পেও চাপ
গ্যাস সংকট শুধু সিএনজি স্টেশনেই সীমাবদ্ধ নেই। অনেক শিল্পকারখানায় উৎপাদন কমে গেছে। কোথাও কোথাও গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। এর প্রভাব তৈরি পোশাক, সিরামিক, টেক্সটাইল, ইস্পাত, কাচ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতসহ বিভিন্ন শিল্পে পড়ছে। শিল্প উৎপাদন কমে গেলে রফতানি আয়, কর্মসংস্থান এবং কর আদায়—সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিজিএমইএ’র সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘বর্তমানে গ্যাস সংকটকে শুধু জ্বালানি সরবরাহের সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি এখন উৎপাদনশীলতা ও অর্থনীতির একটি বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ কর্মঘণ্টার একটি বড় অংশ গ্যাসের লাইনে দাঁড়িয়ে নষ্ট করছেন। অন্যদিকে শিল্পকারখানাও পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে পারছে না।’’
তিনি বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পে গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডাইং, ওয়াশিং, ফিনিশিং, বয়লার এবং স্টিমনির্ভর বিভিন্ন উৎপাদন প্রক্রিয়া গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। গ্যাসের চাপ কমে গেলে উৎপাদনের ধারাবাহিকতা ভেঙে যায়, মেশিন অলস বসে থাকে, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায় এবং নির্ধারিত সময়ে রফতানি চালান প্রস্তুত করা কঠিন হয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে সময়মতো পণ্য সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরবরাহে বিলম্ব হলে ক্রেতাদের আস্থা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ অর্ডারও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।’’
মহিউদ্দিন রুবেল আরও বলেন, ‘‘গ্যাস সংকটের প্রভাব শুধু কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়। পরিবহন খাতেও এর বড় প্রভাব পড়ছে। সিএনজিচালিত যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকায় শ্রমিকদের যাতায়াত, কাঁচামাল পরিবহন এবং বিভিন্ন সাপোর্ট সার্ভিস ব্যাহত হচ্ছে। এতে পুরো সরবরাহ শৃঙ্খল ধীর হয়ে যাচ্ছে। একটি শিল্পের উৎপাদনশীলতা শুধু কারখানার ভেতরের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করে না; এর সঙ্গে জড়িত থাকে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সেবা খাতের দক্ষতা। সেখানে কর্মঘণ্টা নষ্ট হলে তার নেতিবাচক প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়ে।’’
বাসাবাড়িতেও দুর্ভোগ
রাজধানীর বনশ্রী, বাড্ডা, খিলগাঁও, যাত্রাবাড়ী, মিরপুর, মতিঝিল, ফকিরাপুলসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় গ্যাসের চাপ থাকছে না। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করছে। ফলে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়ে যাচ্ছে।
তাপপ্রবাহের ক্ষতির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে গ্যাস সংকট
বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তীব্র গরমের কারণে শুধু ২০২৪ সালেই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ১ দশমিক ৩ থেকে ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতি হয়েছে। ঢাকায় বছরে প্রায় ৪ লাখ ৬৫ হাজার পূর্ণকালীন চাকরির সমপরিমাণ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, যা ২০৮০ সালে বেড়ে ১৬ লাখ ৫০ হাজার পূর্ণকালীন চাকরির সমপরিমাণে পৌঁছাতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই তাপজনিত কর্মঘণ্টা ক্ষতির সঙ্গে যদি বর্তমান গ্যাস সংকটের কারণে প্রতিদিনের দীর্ঘ অপেক্ষা, পরিবহন ব্যাহত হওয়া এবং শিল্প উৎপাদন কমে যাওয়ার বিষয়টি যোগ হয়, তাহলে উৎপাদনশীলতার ওপর চাপ আরও বাড়বে।
পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, এলএনজি টার্মিনালের যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। মেরামত শেষ হলে সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছে সংস্থাটি। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টার্মিনাল পুরোপুরি সচল না হওয়া পর্যন্ত সংকট পুরোপুরি কাটার সম্ভাবনা কম।
স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং স্ট্যামফোর্ড বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘সিএনজি স্টেশনে জ্বালানির জন্য চালকদের প্রতিদিন ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হওয়া কেবল সময়ের অপচয় নয়; এটি জাতীয় অর্থনীতির জন্য এক ধরনের ‘নীরব রক্তক্ষরণ’। প্রতিদিন লাখ লাখ কর্মঘণ্টা শুধু লাইনে দাঁড়িয়ে নষ্ট হওয়ায় দেশের পরিবহন খাতের উৎপাদনশীলতা ও কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে।’’
‘‘তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার কারণে চালকদের দৈনিক ট্রিপের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। ফলে তাদের আয় সরাসরি হ্রাস পাচ্ছে এবং প্রান্তিক এই পেশাজীবীদের জীবিকা ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে পরিবহন ব্যবস্থার ধীরগতির প্রভাব দেশের সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থায়ও পড়ছে। সময়মতো কাঁচামাল ও পণ্য গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় শিল্পকারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে এবং উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে।’’
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে তিনি গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার দক্ষ ও সুশাসনভিত্তিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের নীতি দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থে জ্বালানি সংকট নিরসনে দ্রুত, কার্যকর এবং দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণের এখনই উপযুক্ত সময়।








