এক দশক আগেও বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) অন্যতম বড় উৎস ছিল যুক্তরাষ্ট্র। দেশের জ্বালানি, গ্যাস, ভোগ্যপণ্য, আর্থিক-সেবা এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই অবস্থান অনেকটাই বদলে গেছে। চীন, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগ দ্রুত বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের অংশ কমেছে ধারাবাহিকভাবে।
তবে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন একটি বার্তা দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরের ঢাকা সফর, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তার বৈঠক, বাংলাদেশের জন্য মার্কিন ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি ইতিবাচকভাবে সংশোধন এবং আগামী সপ্তাহে ২৫টি শীর্ষ মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ৪৫ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ঢাকা সফর— সব মিলিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন মোড় নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি কূটনৈতিক সফর নয়, বরং বাংলাদেশের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কৌশলের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।
একসময়ের শীর্ষ বিনিয়োগকারী, এখন অনেকটাই পিছিয়ে
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে বাংলাদেশের মোট এফডিআই স্টকের প্রায় ২২ শতাংশ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের দখলে। সে সময় মার্কিন বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৩০ কোটি ডলার।
কিন্তু ২০২৫ সালের শেষে সেই অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এফডিআই স্টক কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০০ কোটি ডলারে এবং মোট এফডিআই স্টকে তাদের অংশ নেমে এসেছে মাত্র ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশে।
একই সময়ে চীনের বিনিয়োগ সাত গুণেরও বেশি বেড়েছে। ফলে বর্তমানে বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় বিদেশি বিনিয়োগকারী দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে চীন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ কমে যাওয়ার পেছনে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, নীতিগত ধারাবাহিকতার অভাব, ডলার সংকট, মুনাফা প্রত্যাবাসনের জটিলতা, জ্বালানি সংকট এবং ব্যবসা পরিচালনার উচ্চ ব্যয় বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে।
বর্তমানে কোথায় রয়েছে মার্কিন বিনিয়োগ
যদিও নতুন বড় শিল্প প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি আগের তুলনায় কম, তবুও বাংলাদেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে এখনও মার্কিন কোম্পানিগুলোর শক্ত অবস্থান রয়েছে। সবচেয়ে বড় উপস্থিতি রয়েছে জ্বালানি খাতে। দেশের প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান, উৎপাদন এবং এলএনজি সরবরাহে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তৈরি পোশাক শিল্পেও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্যাপ, পিভিএইচ, ভিএফ করপোরেশন, ওয়ালমার্ট, টার্গেটসহ অসংখ্য মার্কিন ব্র্যান্ড বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর কয়েক বিলিয়ন ডলারের পোশাক সংগ্রহ করে। যুক্তরাষ্ট্র এখনও বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের একক বৃহত্তম রফতানি বাজার।
এ ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি সেবা, সফটওয়্যার আউটসোর্সিং, ফার্মাসিউটিক্যালস, কৃষিপণ্য বাণিজ্য, আর্থিক সেবা, ভোগ্যপণ্য এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি খাতেও মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক উপস্থিতি রয়েছে।
এবার নতুন যেসব খাতে নজর যুক্তরাষ্ট্রের
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে সার্জিও গোর যে খাতগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন, সেগুলো বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়— ভবিষ্যতের মার্কিন বিনিয়োগ ঐতিহ্যগত জ্বালানি খাতের বাইরে আরও বৈচিত্র্যময় হতে যাচ্ছে।
প্রথমত, কৃষি সরবরাহব্যবস্থা ও ওয়্যারহাউজিং। প্রধানমন্ত্রী সয়াবিন, তুলা, গমসহ কৃষিপণ্যের আধুনিক সংরক্ষণাগার নির্মাণে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ আহ্বান জানিয়েছেন। এতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও সরবরাহব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
দ্বিতীয়ত, তথ্যপ্রযুক্তি। সার্জিও গর স্পষ্টভাবে বলেছেন, বাংলাদেশের আইটি খাতে উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। সফটওয়্যার উন্নয়ন, ক্লাউড কম্পিউটিং, ডেটা সেন্টার, সাইবার নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল সেবায় যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।
তৃতীয়ত, ওষুধশিল্প। বাংলাদেশে এফডিএ’র পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ সহজ হবে এবং মার্কিন বিনিয়োগও বাড়তে পারে।
চতুর্থত, উন্নয়ন অর্থায়ন। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন করপোরেশন (ডিএফসি)-এর মাধ্যমে অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং বেসরকারি খাতে নতুন অর্থায়নের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
উচ্চপ্রযুক্তির নতুন দিগন্ত
বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি ছিল ‘প্যাক্স সিলিকা’ উদ্যোগ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে চালু হওয়া এই মার্কিন উদ্যোগের লক্ষ্য হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, উন্নত প্রযুক্তি এবং নিরাপদ বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলা। সার্জিও গর বলেছেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ এ উদ্যোগের অংশীদার হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের জন্য নতুন ধরনের শিল্পায়নের সুযোগ তৈরি হবে। শুধু পোশাক শিল্প নয়, বরং ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর উপাদান, ডেটা অবকাঠামো, এআইভিত্তিক সেবা এবং উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনেও মার্কিন বিনিয়োগ আসতে পারে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক গবেষক ড. জায়েদ বখত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগে আগ্রহ বাংলাদেশের জন্য অবশ্যই ইতিবাচক। তবে বিনিয়োগ (এফডিআই) এবং ঋণভিত্তিক অর্থায়ন— এই দুটি বিষয়কে আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে। বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ যত বেশি আসবে, ততই কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়বে। কিন্তু উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিদেশি ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা ও ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।’’
তিনি বলেন, ‘‘বড় অবকাঠামো প্রকল্পে অর্থায়নের প্রয়োজন হলে কোনও একক দেশের দ্বিপক্ষীয় (বাইলেটারাল) ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়াই দীর্ঘমেয়াদে বেশি নিরাপদ। কারণ, কোনও নির্দিষ্ট দেশ যেমন- যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান বা ভারত থেকে ঋণ নিলে অনেক সময় নীতিগত, বাণিজ্যিক বা কৌশলগত বিভিন্ন শর্ত যুক্ত থাকে, যা ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক ও নীতিগত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।’’
ড. জায়েদ বখতের মতে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), বিশ্বব্যাংক, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি), জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মতো বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন তুলনামূলকভাবে বেশি স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য। এসব প্রতিষ্ঠানের ঋণে রাজনৈতিক বা দ্বিপক্ষীয় চাপের ঝুঁকি কম থাকে এবং প্রকল্প মূল্যায়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কোনও একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে বিনিয়োগ ও অর্থায়নের উৎস বহুমুখী করা। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বিনিয়োগ আগ্রহ যেমন দেশের জন্য ইতিবাচক, তেমনি চীন, জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অন্যান্য উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গেও ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। এই বহুমুখী কৌশলই দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে কার্যকর হবে।’’
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ২৫ মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সফর
আগামী সপ্তাহে ২৫টি শীর্ষ মার্কিন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪৫ জন জ্যেষ্ঠ নির্বাহীর বাংলাদেশ সফরকে কেবল সৌজন্য সফর হিসেবে দেখছেন না অর্থনীতিবিদরা।
এই প্রতিনিধিদল বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বেসরকারি উদ্যোক্তা এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবে। সম্ভাব্য বিনিয়োগ প্রকল্প, নীতিগত সহায়তা, কর কাঠামো, জমি, জ্বালানি এবং অবকাঠামো পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে।
একই সঙ্গে ঢাকায় একটি ‘ইউএস ইনভেস্টর সামিট’ আয়োজনের বিষয়েও আলোচনা চলছে। এটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের বিনিয়োগ প্রচারণায় নতুন গতি আসতে পারে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিনিয়োগের ইতিবাচক বার্তা এবং শীর্ষ মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফরের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে উৎসাহব্যঞ্জক। তবে এটিকে শুধু একটি কূটনৈতিক বা আনুষ্ঠানিক সফর হিসেবে দেখলে চলবে না। এই আগ্রহকে বাস্তব বিনিয়োগে রূপ দিতে হলে বাংলাদেশকে দ্রুত ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’’
তিনি বলেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় একক রফতানি বাজার। কিন্তু ভবিষ্যতের সম্পর্ক শুধু ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এখন সময় এসেছে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে উৎপাদন, লজিস্টিকস, গুদামজাতকরণ, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবা, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং উচ্চ মূল্যসংযোজন শিল্পে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করার।’’
মহিউদ্দিন রুবেলের মতে, বর্তমানে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা পুনর্গঠনের একটি ধারা চলছে। অনেক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান উৎপাদন ও সরবরাহের উৎস বৈচিত্র্যময় করতে চাইছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় বাংলাদেশ যদি নীতিগত স্থিতিশীলতা, নির্ভরযোগ্য জ্বালানি, দ্রুত বন্দরসেবা, সহজ শুল্ক ও করব্যবস্থা এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য পূর্বানুমানযোগ্য নীতিপরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের বড় সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘‘আগামী সপ্তাহে মার্কিন ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদলের সফরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘কনফিডেন্স বিল্ডিং’ উদ্যোগ হিসেবে দেখা উচিত। এই সফরের পর যদি দ্রুত প্রকল্পভিত্তিক সিদ্ধান্ত, নীতিগত সহায়তা এবং বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিশ্চিত করা যায়, তাহলে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, অন্যান্য পশ্চিমা দেশ থেকেও নতুন প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
শুধু রাজনৈতিক বার্তা নয়, অর্থনৈতিক আস্থারও ইঙ্গিত
সার্জিও গরের বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে— বাংলাদেশের জন্য ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি শিথিল করাকে যুক্তরাষ্ট্র শুধু ভ্রমণ সহজ করার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে না, বরং এটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে আস্থার বার্তা হিসেবেও বিবেচনা করছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা এবং নীতির ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের এই ইতিবাচক অবস্থান অন্যান্য পশ্চিমা বিনিয়োগকারীদেরও উৎসাহিত করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে সামনে বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে
যদিও যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে, বাস্তবে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ আসতে হলে বাংলাদেশকে বেশ কিছু কাঠামোগত সংস্কার করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার জটিলতা কমানো, দ্রুত জমি বরাদ্দ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ, বন্দর ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, কর ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, বৈদেশিক মুদ্রা সহজে প্রত্যাবাসনের সুযোগ এবং চুক্তি বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা ছাড়া বড় বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে না।
আঙ্কটাডের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে মোট এফডিআই এসেছে মাত্র ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়া সত্ত্বেও এই পরিমাণ এখনো প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম।
ভবিষ্যৎ কোথায় দাঁড়াবে?
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের চরিত্র বদলে যেতে পারে। আগে যেখানে বিনিয়োগের মূল কেন্দ্র ছিল জ্বালানি ও গ্যাস, সেখানে ভবিষ্যতে গুরুত্ব পাবে কৃষি সরবরাহব্যবস্থা, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা অবকাঠামো, সেমিকন্ডাক্টর-সম্পর্কিত শিল্প, ওষুধশিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, লজিস্টিকস এবং উচ্চ মূল্যসংযোজন উৎপাদন খাত।
তবে এই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ দিতে হলে বাংলাদেশকে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং বহুপক্ষীয় উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, বাংলাদেশ যদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নীতিগত ধারাবাহিকতা এবং ব্যবসাবান্ধব সংস্কার ধরে রাখতে পারে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র শুধু বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানি বাজারই নয়, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আবারও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগকারী দেশ হিসেবেও ফিরে আসতে পারে।









