বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন ও গবেষণা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইলের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করা, বাণিজ্য আলোচনার সক্ষমতা বৃদ্ধি, গবেষণা সহযোগিতা এবং শিক্ষা, কৃষি, পশুসম্পদ ও বিনিয়োগ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে মতবিনিময় হয়। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিশেষ করে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) আইন ও বাণিজ্য আলোচনায় সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে একটি গবেষণা ও স্টাডি সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রটিকে ভবিষ্যতে আঞ্চলিক পর্যায়ে জ্ঞান ও দক্ষতা বিনিময়ের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সফল বাস্তবায়নে প্রকল্প পরিচালকদের দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, অতীতে বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। এবার আরও পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা চলছে। এসব কর্মসূচিতে বাণিজ্য আলোচনা, আন্তর্জাতিক চুক্তির আইনগত দিক এবং নীতিনির্ধারণী দক্ষতা উন্নয়নের বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
এ উদ্যোগে অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাকে সম্পৃক্ত করার সম্ভাবনার কথাও জানান অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার।
বৈঠকে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ-পরবর্তী বাণিজ্য সুবিধা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান এবং ভবিষ্যতে বিভিন্ন বাজারে প্রবেশাধিকারের বিষয়েও আলোচনা হয়। এসব বিষয়ে নিয়মিত সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেয় উভয় পক্ষ।
সুসান রাইল জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুই দেশের বাণিজ্য ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। শিক্ষা, ট্রান্সন্যাশনাল এডুকেশন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ব্যবসায়িক বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন জানান, অস্ট্রেলিয়ার একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল শিগগির বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা করছে। এই সফর দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে বলে বৈঠকে আশা প্রকাশ করা হয়।
এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া থেকে উচ্চমানের গরুর মাংস বাংলাদেশে রফতানির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে হালাল সনদ, পশুর পরিচয় ও উৎপাদনপ্রক্রিয়া শনাক্তের ব্যবস্থা বা ট্রেসেবিলিটি এবং আধুনিক প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার বিষয়ও আলোচনায় আসে।
বৈঠকের শেষে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ক আরও বহুমাত্রিক, টেকসই ও কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উভয় পক্ষ।









