অনলাইনভিত্তিক ব্যবসার প্রসারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভ্যাট ফাঁকির প্রবণতা— এমন অভিযোগে রাজধানীর আলফা ই-শপ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের দুই শোরুমে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীন নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), ঢাকা। অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন বাণিজ্যিক দলিল জব্দ করে প্রাথমিক পর্যালোচনায় প্রায় ২ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বনানী-১১ ও মিরপুর-১২ এলাকায় অবস্থিত আলফা ই-শপের দুটি শোরুমে একযোগে অভিযান চালায় অধিদফতরের দুটি প্রতিরোধ দল।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
এনবিআর জানায়, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যবসা বাড়ার সঙ্গে ভ্যাট ফাঁকির বিষয়টি নজরে আসায় নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের গবেষণা দল মাঠপর্যায়ে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করে। এর ভিত্তিতে বেশ কয়েকটি অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানকে অনুসন্ধানের আওতায় আনা হয়েছে। আলফা ই-শপও ওই অনুসন্ধানের আওতাধীন একটি প্রতিষ্ঠান।
অভিযানকালে প্রতিষ্ঠানটিতে সংরক্ষিত ক্রয়-বিক্রয়সংক্রান্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক দলিল জব্দ করা হয়। এসব নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আলফা ই-শপ বিভিন্ন মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে করপোরেট বিক্রি, শোরুম বিক্রি, বনানী অনলাইন শোরুম বিক্রি, অনলাইন ফোনে বিক্রি, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বিক্রি, অনলাইন ডিলার বিক্রি এবং নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিক্রি।
এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ধরনের দামি ব্র্যান্ডের ফ্যান, ডেকোরেটিভ ফ্যান, ঘর সাজানোর লাইটিং ও ঝাড়বাতি, ইলেকট্রনিক পণ্য, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র (এসি), টেলিভিশনসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি ও স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করে বিক্রি করে। পাশাপাশি নিজস্ব ইন্টেরিয়র ডিজাইন দলের মাধ্যমে অফিস ও বাসার অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার কাজও করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি।
ক্রেতা আকর্ষণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেও ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে আলফা ই-শপ। বিশেষ করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে পণ্য বিক্রি করা হয়। পোশাকের ব্র্যান্ডগুলোর মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালীদের ব্যবহার করেও পণ্যের প্রচার ও বিক্রি করা হয় বলে জানিয়েছে এনবিআর।
অভিযানে জব্দ করা দলিলপত্রের প্রাথমিক পর্যালোচনায় প্রায় ২ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে এনবিআর। তবে এটি প্রাথমিক হিসাব, জব্দ করা নথিপত্র বিস্তারিত পর্যালোচনার পর ফাঁকির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
এনবিআর জানায়, ফাঁকিকৃত রাজস্ব পরিশোধে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে মৌখিক সম্মতি দেওয়া হয়েছে। তবে জব্দ করা দলিলপত্র পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
অনলাইন ব্যবসার পরিধি দ্রুত বাড়লেও এসব প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট নিবন্ধন, বিক্রয় হিসাব ও প্রকৃত লেনদেনের তথ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। এনবিআরের সাম্প্রতিক মাঠপর্যায়ের জরিপ ও অনুসন্ধানের ফলে অনলাইনভিত্তিক ব্যবসায় ভ্যাট ফাঁকির বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।








