স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরও তিন বছরের ট্রানজিশনাল পিরিয়ডে বাংলাদেশের ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ পণ্য যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার জেমস গোল্ডম্যান। তিনি জানান, ট্রানজিশনাল পিরিয়ড শেষ হওয়ার পরও প্রায় ৯২ শতাংশ বাংলাদেশি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আমিরুল হকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন জেমস গোল্ডম্যান। চেম্বার কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
জেমস গোল্ডম্যান বলেন, ব্রিটিশ পণ্য, সেবা ও প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের আর্থিক সহায়তা দিতে ব্রিটিশ সরকার দুই বিলিয়ন পাউন্ডের একটি তহবিল গঠন করেছে। এই তহবিলের মাধ্যমে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা যুক্তরাজ্যে নিজেদের পণ্যের বাজার আরও সম্প্রসারণের সুযোগ পাবেন।
যুক্তরাজ্যের বাজারে প্রবেশের সুযোগ, পদ্ধতি ও আনুষঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে চেম্বারের সদস্যদের অবহিত করতে শিগগির চিটাগাং চেম্বারে একটি কর্মশালার আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি।
সাক্ষাতে চেম্বার প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, চট্টগ্রামকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক বিনিয়োগ ও লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দরসহ সামগ্রিক লজিস্টিক খাতে আরও বিনিয়োগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্রিটিশ বিনিয়োগ প্রত্যাশা করেন তিনি।
লালদিয়া টার্মিনালের মতো বড় অবকাঠামো নির্মাণ ও পরিচালনার পাশাপাশি চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিচালনায়ও ব্রিটিশ বিনিয়োগের আহ্বান জানান আমিরুল হক।
এ ছাড়া চট্টগ্রামের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান কাজে লাগিয়ে এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করতে ফার্মাসিউটিক্যাল, স্টিল, টেক্সটাইল ও গ্রিন এনার্জিসহ বড় শিল্প খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে ব্রিটিশ ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করার অনুরোধ জানান তিনি।
সাক্ষাতে চেম্বারের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ, সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী, সাবেক সহ-সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডাইরেক্টর অব ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সাকিব এরশাদসহ চেম্বারের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।









