ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর তিন দিনের বাংলাদেশ সফরে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি বিষয়ে দুই দেশে মধ্যে দু’টি চুক্তি হতে পারে। সব দিক চূড়ান্ত করে গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য ফাইল পাঠানো হয়েছে জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে। জ্বালানি বিভাগের একজন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো শনিবার (২৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সফরে এসেছেন। সফরকালে তিনি কক্সবাজার রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবেন। এছাড়া বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে কয়েকটি চুক্তি হওয়ারও কথা রয়েছে।
শনিবার এক অনুষ্ঠান শেষে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সাংবাদিকদের জানান, ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে দেশের জ্বালানিখাতের দু’টি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেলে চুক্তি দু’টি হবে। এলএনজি আমদানির বিষয়ে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। আগামীকাল চুক্তি হতে পারে। এছাড়া এলএনজিভিত্তিক একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনেরও বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন তারা। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপনের বিষয়ে সমঝোতা চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে এমওইউ-এর ভিত্তিতে বাংলাদেশে এলএনজি অবকাঠামো নির্মাণ এবং এলএনজি সরবরাহ করবে দেশটি। এজন্য পেট্রোবাংলা ও ইন্দোনেশিয়ার পারটামিনা একটি কমিটি গঠন করে কর্মপরিধি নির্ধারণ করবে। ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ জি-টু-জি ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেও জ্বালানি বিভাগে এমন নজির নেই বললেই চলে। তবে এই প্রকল্পর মধ্য দিয়ে সরকারি অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা হতে পারে।
এর বাইরে সরকার ইন্দোনেশিয়া থেকে সরকারি পর্যায়ে কয়লা আমদানি করতে চায়। যদিও এখনও সে বিষয়ে আলোচনা শুরু করেনি উভয় দেশ।
এরই মধ্যে দেশটির বারাতাবাং নামের একটি কোম্পানির সঙ্গে বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে। বারাতাবাং পায়রায় এক হাজার ৩২০মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা সরবরাহ করবে।
গত ১০ জানুয়ারি সচিবালয়ে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত রিনা পি. সোইমারনু বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত এলএনজি আমদানির চুক্তির সঙ্গে বাংলাদেশে এলএনজি এবং তরল জ্বালানি নির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে তার দেশের আগ্রহের কথা জানান। তিনি এলএনজি ও কয়লার বাইরেও এই দুই বিষয়ে চুক্তি করার অনুরোধ জানান।








