তেল পাচার রোধে বিজিবি-পুলিশকে জ্বালানি বিভাগের চিঠি

সঞ্চিতা সীতু
০৯ নভেম্বর ২০২১, ১৯:০২আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২১, ২২:৩৫

জ্বালানি তেল পাচার বন্ধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। সম্প্রতি এই চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অনেক দিন থেকেই সরকার দাবি করছিল ভারতে তেল পাচার হয়। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছুই উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়নি। তবে সরকারের দেওয়া এ চিঠির ভিত্তিতে অনেকে মনে করছেন, তেল পাচারের সত্যতা রয়েছে।

সম্প্রতি দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ভারতে জ্বালানি তেলের দাম বেশি বলেও সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে। ডিজেল ও কেরোসিনে ১৫ টাকা লিটারে বৃদ্ধি জনজীবনে প্রভাব ফেলেছে। তেলের দামের কারণে নিত্যপণ্যের দাম ও পরিবহন ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বেড়েছে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র বলছে, ভারত ও বাংলাদেশের তেলের দাম উল্লেখ করে প্রতিবেশী দেশে তেল পাচার হওয়ার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ওই চিঠিতে অনুরোধ করা হয়েছে। জ্বালানি বিভাগের সাম্প্রতিক এক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান।

গত ৭ নভেম্বর জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ সচিব আনিছুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি বৈঠকের কার্যপত্র থেকে এ বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে।

জ্বালানি বিভাগ বলছে, পশ্চিমবঙ্গে ১০১ রুপিতে ডিজেল বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ১২৪ টাকা। অর্থাৎ এখনও ৪৪ টাকা বেশি দামে ভারতে ডিজেল বিক্রি হচ্ছে। প্রতিবেশী দেশটি ডিজেল থেকে বিপুল পরিমাণ মুনাফা করাতেই এত বেশি দামে সেখানে জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে।

জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, দাম বৃদ্ধির আগে ভারত এবং আমাদের ডিজেলের বিক্রি দরের মধ্যে ৫৯ টাকা পার্থক্য ছিল। কোনোভাবে এক লিটার ডিজেল ভারতে পাচার করতে পারলে ৫০ টাকার মতো চোরাকারবারিদের লাভ হতো। ভারতের সঙ্গে আমাদের বিস্তীর্ণ সীমান্ত রয়েছে। এই সীমান্ত দিয়ে নানা রকম পণ্য অবৈধ পথে আসা-যাওয়া করে। ফলে তেলের ক্ষেত্রেও আমরা সতর্ক নজর রেখেছি।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, আমরা সবসময় নজর রাখছি সীমান্ত জেলাগুলোতে বিপণনকারীরা হুট করে বাড়তি তেল নিচ্ছে কিনা। সুনির্দিষ্ট কোনও প্রমাণ না পাওয়া গেলেও দেশের একেবারে সীমান্ত জেলাগুলো থেকে তেল না নিয়ে অন্য জেলা থেকেও তেল নিয়ে তা পাচার হতে পারে।

দেশে প্রতি বছর জ্বালানির (ডিজেলে) চাহিদা রয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টন। এই চাহিদা ক্রমান্বয়ে কমছে। ডিজেল ছাড়াও এলপিজি এবং ফার্নেস অয়েল ব্যবহারের কারণে এই চাহিদা কমছে। তবে বছর শেষ হওয়ার আগে গড় চাহিদা কমার কোনও চিত্র বের করা সম্ভব নয়। সঙ্গত কারণে ভর্তুকি দিয়ে বিক্রি করা তেল পাচার হলে সরকারের বিপুল লোকসান হবে।

প্রসঙ্গত, এর আগেও মিয়ানমারে সমুদ্রপথে তেল পাচার করতে গিয়ে চোরাকারবারিরা কোস্টগার্ডের হাতে আটক হয়েছে।

 

/আইএ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারে দিতে হবে না বাড়তি দাম
বিদ্যুতের দাম কমাতে রিভিউ আবেদন
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: সবচেয়ে বেশি চাপে মধ্যবিত্ত
সর্বশেষ খবর
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
ভাতের সঙ্গে জমবে মজাদার সরষে সবজি
ভাতের সঙ্গে জমবে মজাদার সরষে সবজি
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী