নতুন পরিস্থিতির আলোকে বিদ্যুৎ বিকাশের নতুন পরিকল্পনা প্রণয়নে সুপারিশ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ২০:৫৩আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ২৩:৫৬

নতুন পরিস্থিতির আলোকে ভবিষ্যৎ চাহিদা এবং সরবরাহের মধ্যে গতিশীল সামঞ্জস্য নিশ্চিত করে, রিজার্ভ মার্জিন ১৫ থেকে ২০ শতাংশে সীমাবদ্ধ রেখে বিদ্যুৎ বিকাশের নতুন পরিকল্পনা প্রণয়নের সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্কের (বেন)।

শনিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) আয়োজিত বাপা-বেনের বার্ষিক সম্মেলন থেকে জ্বালানি বিষয়ে এই সুপারিশ করা হয়। ঢাকার স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাসে হাইব্রিড পদ্ধতিতে "জ্বালানি, জলবায়ু পরিবর্তন ও স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন বিষয়ক এই বিশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে একদিকে ছিলেন পরিবেশের বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ এবং অন্যদিকে ছিলেন বাপার বিভিন্ন শাখার নেতারা এবং পরিবেশ আন্দোলনের কর্মীরা।

সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন রেহমান সোবহান।

সম্মেলনে জ্বালানি বিষয়ে আরও যেসব সুপারিশ করা হয় সেগুলো হচ্ছে—চাহিদার সঙ্গে উৎপাদনের সমন্বয় করতে হলে শিল্পায়নের হার দ্রুতকরণ করতে হবে, আরও বেশি মানুষের কাছে বিদ্যুতের সরবরাহ পৌঁছানো, প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে  বিদ্যুৎ রফতানি,  অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ থেকে বিরত থাকা,  ব্যক্তি খাতে বিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে সরকারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ক্রয়ের গ্যারান্টি দেওয়া থেকে বিরত থাকা।

সমাপনী বক্তব্যে রেহমান সোবহান বলেন, আমাদের এখন বিদ্যুৎখাতের পরিকল্পনা নতুন করে সাজাতে হবে। জ্বালানির উপর নির্ভর করে বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি বড় অংশ। তাই সরকারের সাবসিডির ক্ষেত্রটিও নতুন করে বিবেচনা করা উচিত।

সুপারিশগুলো উপস্থাপন করেন—বাপার সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল। তিনি বলেন, সম্মেলন থেকে মনে করা হয় যে, বিদ্যুতের অভাব মোচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের জ্বালানিখাত এক নতুন পর্বে উপনীত হয়েছে। কিন্তু এই নতুন পর্বে আবার উদ্ধৃত হয়েছে এক নতুন প্রজন্মের সমস্যা, ইস্যু এবং চ্যালেঞ্জ। অনেক ক্ষেত্রে, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে যেসব নীতি অনুসরণ করা হয়েছে, তার কিছু দিকই এসব নতুন চ্যালেঞ্জের উৎস হিসেবে কাজ করেছে।

এখন প্রয়োজন সাফল্যের সঙ্গে এসব নতুন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করা। তবেই বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যেতে পারবে। সেই উপলব্ধি থেকে সম্মেলনে এইসব সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়।

দুদিনের সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন দুপুরের সেশনে কথা বলেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম. তামিম। তিনি বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গ্রিন এনার্জি এবং সাশ্রয়ী জ্বালানির উপর জোর দিতে হবে। তিনি বলেন, এখন সরকার যে দামে এলএনজি কিনছে তা খুবই ব্যয়বহুল। এটি বিদ্যুতে ব্যবহার করা মানেই বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হবে। তাই আমাদের বিকল্প চিন্তা করতে হবে। বিকল্প বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি দেশীয় গ্যাসের উৎপাদনের বিষয়ে আরও জোর দেওয়া দরকার।

 

/এসএনএস/এমএস/
সম্পর্কিত
৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারে দিতে হবে না বাড়তি দাম
বিদ্যুতের দাম কমাতে রিভিউ আবেদন
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: সবচেয়ে বেশি চাপে মধ্যবিত্ত
সর্বশেষ খবর
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
পুলিশের পোশাকে ‘ধর্ষককে’ নেওয়া হলো থানায়, ১৩ দিনে আদালতে অভিযোগপত্র
পুলিশের পোশাকে ‘ধর্ষককে’ নেওয়া হলো থানায়, ১৩ দিনে আদালতে অভিযোগপত্র
ইরানি ইসলামি শাসনবিরোধী শিল্পী মারজান সাত্রাপির প্রয়াণ
ইরানি ইসলামি শাসনবিরোধী শিল্পী মারজান সাত্রাপির প্রয়াণ
হজে গিয়ে পাসপোর্ট হারালে যা করবেন
হজে গিয়ে পাসপোর্ট হারালে যা করবেন
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী