কামরাঙ্গীরচরে গ্যাসের জন্য আন্দোলন

‘চুক্তি অনুযায়ী বৈধ গ্রাহকদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা যায় না’

সঞ্চিতা সীতু
১৬ মে ২০২২, ১৬:৩৩আপডেট : ১৬ মে ২০২২, ১৭:০৪

‘গ্যাস নেই সাত দিন, চরের সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। অথচ এলাকার জনপ্রতিনিধি বা তিতাসের কারও কোনও মাথাব্যথা নেই। ছয় দিন ধরে এলাকাবাসী মাটির চুলা, কেরোসিনের চুলা, রাইসকুকারে রান্না করে খাচ্ছে। এই সুযোগে লাকড়ি-কেরোসিনের দাম বেড়েছে। মাঝে মাঝে হোটেল থেকে কিনেও খাচ্ছে মানুষ। সেখানেও খাবারের দাম বেড়েছে। এই ভোগান্তি দেখার কেউ নেই। তাই আজ আমরা রাস্তায় নেমেছি প্রতিবাদ করতে।’ এভাবে কামরাঙ্গীরচরের মানুষের ভোগান্তির কথা জানাচ্ছিলেন সেখানকার বাসিন্দা ইরতেজা হাসান রেজা।

বৈধ সংযোগের চেয়ে পাঁচগুণ অবৈধ সংযোগ, আর বৈধ গ্রাহকদের কাছে ৬৭ কোটি টাকা বকেয়ার অভিযোগে গত ১০ মে সন্ধ্যা ছয়টায় রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে সব গ্যাস লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয় তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানি।

গ্যাসের জন্য কামরাঙ্গীরচরে আন্দোলন (ছবি: নাসিরুল ইসলাম) তিতাসের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অবৈধ গ্রাহকদের শায়েস্তা করতে গ্যাসের ভাল্ব খুলে নিয়ে আসা হয়েছে। এ জন্য বৈধদের গ্যাসও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। 

বর্তমানে আবাসিক, শিল্প ও বাণিজ্যিক মিলিয়ে কামরাঙ্গীরচরে তিতাসের গ্রাহক ১২ হাজারের মতো।

এভাবে বৈধ গ্রাহকদের লাইন কেটে দেওয়া যায় কিনা জানতে চাইলে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ সালেক সুফি বলেন, ‘গ্রাহকদের সঙ্গে গ্যাস বিতরণ কোম্পানির চুক্তি মোতাবেক কারিগরি কারণে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়া, বৈধ গ্রাহকের অবৈধ ব্যবহার অথবা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মূল্য পরিশোধে ব্যর্থ হওয়া ছাড়া গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা চুক্তির লঙ্ঘন। অবৈধ গ্রাহকের দোহাই দিয়ে বৈধ গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা গণতান্ত্রিক দেশে কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক আইনের আশ্রয় নিয়ে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘বিপুল সংখ্যক অবৈধ গ্রাহক থাকার জন্য তিতাস কর্তৃপক্ষও সমানভাবে দায়ী। বৈধ গ্রাহক যারা নিয়মিত বিল পরিশোধ করছেন, তাদের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা চুক্তির বরখেলাপ ও অন্যায়। 

কামরাঙ্গীরচরে লাকড়ির চুলায় চলছে রান্না স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আর কত আমরা এই অত্যাচার সহ্য করবো। নিয়মিত বিল দিয়েছি। বৈধ লাইন আমাদের, কিন্তু তিতাস কোনও যুক্তি ছাড়াই লাইন কেটে দিলো। এই যে সাত দিন গ্যাস নেই, তার বিল কি তিতাস নেবে না? তাহলে আমি যে গ্যাস পেলাম না, তা দেখবে কে? অবৈধদের শায়েস্তা করতে গিয়ে আমাদের কেন শাস্তি দেওয়া হলো। এর জন্য বিচার চাই। এ কারণে আজ আমরা রাস্তায় নেমেছি। শুনেছি আজ তিতাসের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের সভা আছে। আজকের মধ্যে আমরা গ্যাস চাই।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গত শনিবার তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হারুনুর রশীদ মোল্লা বলেন, ‌‘আজ সোমবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মিটিং আছে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তারা একটি কমিটি গঠন করবেন। সেই কমিটির মাধ্যমে অবৈধ সংযোগ উচ্ছেদ করবেন। বকেয়া আদায় করে দেবেন। তারপর আমরা লাইন দিয়ে দেবো।’

কামরাঙ্গীরচরে লাকড়ির চুলায় চলছে রান্না আজ তিতাসে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিকালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে এ বিষয়ে সভা হতে পারে।

জানা যায়, বৈধ গ্রাহকদের কাছে যে বকেয়া ৬৭ কোটির কথা বলা হচ্ছে, তা কেবল কয়েকজন বড় গ্রাহকের কাছেই পাওনা। একেকজনের কাছে প্রায় ৯ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বকেয়া আছে।

 

/এসএনএস/আইএ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারে দিতে হবে না বাড়তি দাম
বিদ্যুতের দাম কমাতে রিভিউ আবেদন
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: সবচেয়ে বেশি চাপে মধ্যবিত্ত
সর্বশেষ খবর
'মুখ খোলো মমতা, জানতে চায় জনতা' স্লোগানে ইনকিলাব মঞ্চের মশাল মিছিল
'মুখ খোলো মমতা, জানতে চায় জনতা' স্লোগানে ইনকিলাব মঞ্চের মশাল মিছিল
আর্জেন্টিনা আরও চার ফুটবলারকে প্রস্তুত রাখছে
আর্জেন্টিনা আরও চার ফুটবলারকে প্রস্তুত রাখছে
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের