লোডশেডিং বাড়তে পারে উত্তরাঞ্চলে

সঞ্চিতা সীতু
২০ জুলাই ২০২২, ১৭:৩৭আপডেট : ২০ জুলাই ২০২২, ২৩:২৩

বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে পরিমাণ কয়লা মজুত থাকার কথা তার চেয়ে কম মজুত থাকায় আগামী মাসের শুরুতেই দেশের উত্তরাঞ্চলের আট জেলায় লোডশেডিং বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। খনি কর্তৃপক্ষ বলছে, আগস্টের মাঝামাঝির আগে নতুন কয়লা তোলা যাবে না। অন্যদিকে বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র জানায়, যে পরিমাণ কয়লা মজুত আছে তাতে আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে। ফলে কম কয়লায় কেন্দ্র চালিয়ে কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হলে উত্তরাঞ্চলের লোডশেডিং আরও বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।

উত্তরবঙ্গের দিনাজপুর, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও পঞ্চগড়—এই আট জেলার জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে একটিই। সেটি দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র। এই কেন্দ্রের  ১২৫ মেগাওয়াট করে ২৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুই ইউনিট এখন বন্ধ। আরেকটি ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইউনিট থেকে এখন গড়ে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এই ইউনিটটিতে কয়লার অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন আরও কমে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গত ৩০ এপ্রিল থেকে খনির এক ফেজের কাজ শেষ হয়ে যাওয়ায় আপাতত কয়লা উৎপাদন বন্ধ। গত তিন মাস মজুত কয়লা দিয়ে চলছে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। এদিকে এলসি খুলতে দেরি হওয়ার কারণে প্রায় দুই মাস পিছিয়ে পড়েছে নতুন ফেজ শুরুর কাজ।

বড়পুকুরিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, নতুন ফেজের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী আগস্ট মাসের ফের মাঝামাঝি কয়লা তোলা শুরু হবে। এখন যা মজুত আছে তা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে।

এদিকে বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী ওয়াজেদ আলী সরকার জানান, তাদের কাছে গড়ে ৩৫ থেকে ৩৬ হাজার টন কয়লা মজুত আছে। এদিকে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে প্রতিদিন ২২০০ থেকে ২৫০০ টন কয়লার প্রয়োজন হয়। সে হিসেবে আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত কোনওমতে বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানো যাবে। তিনি বলেন, ঠিকাদারের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা প্রথম সপ্তাহেই কয়লা দিতে পারবে। সুতরাং ঘাটতির শঙ্কা আপাতত নেই।

যদিও হিসেব বলছে, মজুত কয়লায় আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে না। যদি খনির হিসেব বিবেচনা করা হয় তাহলে কয়লা আসবে আগস্টের মাঝামাঝি। সে হিসাবেও কয়লার ঘাটতিতে পড়তে যাচ্ছে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি।

এদিকে বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কয়লার এই ঘাটতি মেটাতে হলে ২০০ মেগাওয়াটের পরিবর্তে ১০০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেতে পারে। এতে লোডশেডিং বাড়বে। আর যদি অন্য এলাকার কিছু বিদ্যুৎ দেওয়া হয় তাহলেও কিছুটা সমস্যার সমাধান হতে পারে। এর আগেও একবার এভাবে উত্তরাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে লো ভোল্টেজের সমস্যা হতে পারে।

/এমআর/
সম্পর্কিত
বিদ্যুতের দাম কমাতে রিভিউ আবেদন
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: সবচেয়ে বেশি চাপে মধ্যবিত্ত
মূল্যস্ফীতির আগুনে পুড়ছে মানুষ, বাড়ছে বিদ্যুতের দাম এরপর কী
সর্বশেষ খবর
রেললাইনে আটকে গেলো মাইক্রোবাস, ট্রেনের ধাক্কায় পুকুরে
রেললাইনে আটকে গেলো মাইক্রোবাস, ট্রেনের ধাক্কায় পুকুরে
দেশীয় খামারিদের পশুতেই শতভাগ কোরবানি হয়েছে:  প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
দেশীয় খামারিদের পশুতেই শতভাগ কোরবানি হয়েছে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
পদত্যাগ করেছেন শন টেইট
পদত্যাগ করেছেন শন টেইট
আদ-দ্বীনে ছয় নবজাতকের মৃত্যু: যা আছে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে
আদ-দ্বীনে ছয় নবজাতকের মৃত্যু: যা আছে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের