বঙ্গোপসাগরে তেল গ্যাস অনুসন্ধানে বহুজাতিক তেল গ্যাস কোম্পানির (আইওসি) জন্য সমান গ্যাসের হিস্যা রাখার সুপারিশ করে মডেল উৎপাদন বণ্টন চুক্তির (পিএসসির) খসড়া জমা দিয়েছে পরামর্শক কমিটি।
গত সপ্তাহের শেষ দিনে জমা দেওয়া এই খসড়ায় বলা হয়েছে, গ্যাস উৎপাদনের শুরুতে পেট্রোবাংলা এবং আইওসির গ্যাসের ভাগাভাগির মধ্যে ১০ ভাগ পার্থক্য থাকে। কিন্তু উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পেট্রোবাংলা ৮০ ভাগ এবং আইওসি ২০ ভাগ গ্যাস পেয়ে থাকে। এখন থেকে এটির সমবণ্টন করতে হবে। একইসঙ্গে গ্যাসের দাম বাড়ানোরও সুপারিশ করেছে পরামর্শক কমিটি।
বঙ্গোপসাগরে তেল গ্যাস অনুসন্ধানে চলতি বছরের শেষে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের পরিকল্পনা করছে সরকার। এজন্য উৎপাদন বণ্টন চুক্তিকে আকর্ষণীয় করে বিদেশি কোম্পানিগুলো আকৃষ্ট করতে সংশোধন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সংশোধন কাজের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয় সিঙ্গাপুরের উড ম্যাকেঞ্জি এশিয়া প্যাসিফিককে। তারা গত বুধবার প্রতিবেদনে এইসব পরামর্শ দিয়েছে।
পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ আবার সাগরে তেল গ্যাস অনুসন্ধানে দরপত্র আহ্বান করা হবে। এজন্য পেট্রোবাংলা প্রস্তুতি নিচ্ছে।
পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা জানান, আমরা এখন উড ম্যাকেঞ্জির করা প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে দেখবো। এরপর জ্বালানি মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত, মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন এবং প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর দরপত্র আহ্বান করা হবে।
পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, এর আগের পিএসসি অনুযায়ী ৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করলে পেট্রোবাংলা পেতো ৫৫ ভাগ, আইওসি পেতো ৪৫ ভাগ। এভাবে ১৫০ মিলিয়ন উত্তোলনে পেট্রোবাংলা ৬০ ভাগ আইওসি ৪০ ভাগ, ২৫০ মিলিয়নের ক্ষেত্রে পেট্রোবাংলা ৬৫ ভাগ আইওসি ৩৫ ভাগ গ্যাস পেতো। এভাবে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট উৎপাদন হলে পেট্রোবাংলা ৮০ ভাগ এবং আইওসি ২০ ভাগ গ্যাস পেতো। এখন পরামর্শক কমিটি এই হিস্যা অর্ধেক অর্ধেক করতে বলছে।
নিয়ম অনুযায়ী দরপত্রে অংশ নেওয়া গ্যাস কোম্পানি গ্যাস পেলে তার অনুসন্ধান উত্তোলন ব্যয়ও ওই গ্যাস থেকে তারা তুলে নেয়। আর গ্যাস না পেলে সে কোনও কিছু দাবি করতে পারে না।
পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, পরামর্শক কোম্পানি যেসব পরামর্শ দিয়েছে তার মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য পরামর্শটি হচ্ছে গ্যাসের দাম বাড়ানো। বর্তমান পিএসসিতে গভীর সমুদ্রে প্রতি ইউনিট সোয়া সাত ডলার ও অগভীর সমুদ্রে গ্যাসের দাম ধরা হয়েছে সাড়ে পাঁচ ডলার। তবে পিএসসির এই পর্যায়ে এসে পরামর্শক কমিটি দাম ঠিক করে দেয় না। তারা এই দাম বাড়িয়ে আট/নয় বা ১০ ডলার হলে কী পরিস্থিতি হতে পারে তা উল্লেখ করে পরামর্শ দেয়।
এখন পিএসসিতে গভীর সমুদ্রে কাজ করা কোম্পানিগুলো গ্যাসের দাম পাবে সোয়া সাত ডলার করে, সঙ্গে পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে তার কর দিয়ে দেয়া এবং প্রতিবছর দেড়ভাগ হারে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। যা এখন অগভীর সমুদ্রে কাজ কোম্পানির ক্ষেত্রে নেই।
বর্তমানে গভীর ও অগভীর সাগরের মোট ২৬টি ব্লকের মধ্যে ৪ ও ৯ নম্বর এই দুইটি ব্লকে কাজ করছে ভারতীয় কোম্পানি ওএনজিসি।
সর্বশেষ ২০২০ সালে আগ্রহী কয়েকটি কোম্পানির সাথে মত বিনিময় সভা করেছিল পেট্রোবাংলা। সভায় কনকো ফিলিপস, ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম, এক্সম মোবিলের মতো কোম্পানি অংশ নিয়েছিল। সে সময় তাদের কাছে যে পিএসসি উপস্থাপন করা হয়েছিল সেটি পিএসসি-২০১৯ এর সংশোধন করা। এ বিষয়ে সেই সময় কোম্পানিগুলো এই পিএসসি সংশোধন করে আরও আকর্ষণীয় করার পরামর্শ দেয়।








