বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, চলতি বছরের শেষে মহেশখালীতে সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং বা এসপিএম-এর নির্মাণ কাজ শেষ হবে। এতে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ জট কমবে। বছরে পরিবহন ব্যয় সাশ্রয় হবে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। সেই সঙ্গে বাড়বে বাংলাদেশের তেল মজুত ক্ষমতা।’
সম্প্রতি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ তথ্য জানান।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে লেখেন, ‘মহেশখালীতে সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং বা এসপিএম-এর নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ। জ্বালানি ব্যবস্থাপনার নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।’
প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে আমদানি করা জ্বালানি তেল বড় জাহাজ থেকে লাইটারে, সেখান থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পৌঁছায় রিফাইনারি ট্যাংকে। এতে এক লাখ টনের তেলবাহী জাহাজ খালাস করতে লাগে ১১ দিন। এসপিএম চালু হলে সময় লাগবে মাত্র ৪৮ ঘণ্টা।
বিপিসি জানায়, ২০০৯ সাল থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বিগত ১৩ বছরে জ্বালানি তেলের মজুত ক্ষমতা ৮ দশমিক ৯৩ লাখ মেট্রিক টন থেকে ১৩ দশমিক ৮ লাখ মেট্রিক টনে, অর্থাৎ ৪ দশমিক ১৫ লাখ মেট্রিক টন বৃদ্ধি করা হয়েছে। যা দেশের প্রায় ৪০-৪৫ দিনের জ্বালানি চাহিদা পূরণে সক্ষম। এছাড়া বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর আওতায় আরও ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল মজুত ক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ চলমান রয়েছে। এর ফলে জ্বালানি তেল মজুতের সক্ষমতা প্রায় ৪৫-৫০ দিনে উন্নীত হবে।
এদিকে জ্বালানি তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে দ্রুত, সহজ, নিরাপদ ও ব্যয় সাশ্রয়ীভাবে পরিবহনের জন্য মোট ৬২০ কিলোমিটার জ্বালানি তেল পাইপ লাইন স্থাপন কাজ চলমান রয়েছে। আমদানি করা অপরিশোধিত ক্রুড অয়েল ও পরিশোধিত ডিজেল স্বল্প সময়ে নিরাপদে ও ব্যয় সাশ্রয়ীভাবে খালাস ও পরিবহনের জন্য সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে, যা চলতি বছরের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া জ্বালানি তেলের আমদানিনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে ৩০ লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ইআরএল ইউনিট-২ স্থাপন করার লক্ষ্যে প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।








