জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা।
বৃহস্পতিবার (১৮ মে) বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘ডোন্ট গ্যাস এশিয়া’ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে এক মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে জি-৭-ভুক্ত দেশগুলোর প্রতি তারা এ আহ্বান জানান। ইক্যুয়িটি বিডি, ইয়ুথ নেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস, বেলা, ব্রতী, ক্লিন, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন, গ্লোবাল ল’ থিংকারস সোসাইটি এবং ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে এই মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশসহ টোকিও, ম্যানিলা, ইনচিওন, মান্ডালুইয়ং, জাকার্তা, চিয়াং মাই, হানই, দিল্লি, কলকাতা, কাঠমান্ডু, লাহোর ও করাচিতে একযোগে এই প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। পুরো এশিয়াতে এ সমাবেশ আয়োজন ও সমন্বয় করেছে এশিয়া এনার্জি নেটওয়ার্ক এবং এশিয়ান পিপলস মুভমেন্ট ফর ডেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এপিএমডিডি)। ঢাকায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি এএসএম বদরুল আলম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক এবং ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল।
অনুষ্ঠিতব্য জি-৭ সম্মেলনে জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ হ্রাস করে উন্নত দেশগুলো যাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধিতে এশিয়ার দেশগুলোকে সহায়তা করে সেজন্য সমাবেশ থেকে জীবাশ্ম জ্বালানি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করা হয়।
মানববন্ধনে শরীফ জামিল বলেন, ‘আগামী ১৯ থেকে ২০ মে অনুষ্ঠিতব্য জি-৭ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করবে জোটের একমাত্র এশিয়ান সদস্য জাপান। এ বছরের জি-৭ সম্মেলন এশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, একটি এশিয়ান দেশ এর কর্তৃত্বে রয়েছে। জাপান এবার এই সম্মেলনকে পুঁজি করে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোতে জীবাশ্ম জ্বালানির অর্থায়নের সুযোগ প্রসারিত করার চেষ্টা করবে। যেখানে উন্নত দেশগুলো ইতোমধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা থেকে সরে এসে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে সেখানে বাংলাদেশে এ ধরনের ক্ষতিকর জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগের পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহায়তা দাবি করছি।’
কক্সবাজার বাপার সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, ‘এশিয়ার একটি দেশ হয়ে অন্যান্য এশিয়ার দেশগুলোতে জাপান যেভাবে জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ঘটাচ্ছে আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা আশা করবো, আসন্ন জি-৭ সম্মেলনে এ দেশের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে তারা সিদ্ধান্ত প্রণয়ন করবে।’
মোংলা বাপার আহ্বায়ক নূর আলম শেখ বলেন, ‘আশা করি জি-৭ সম্মেলনে এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না যা এ দেশের প্রাণ, প্রকৃতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এ দেশের বাস্তবতা এবং পরিণতির কথা মাথায় রেখে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরিতে জি-৭-ভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা কামনা করছি।’
সমাপনী বক্তব্যে অনুষ্ঠানের সভাপতি এএসএম বদরুল আলম বলেন, ‘উন্নত দেশগুলো জীবাশ্ম জ্বালানির ভয়াবহতা সম্পর্কে জানা সত্ত্বেও বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল এবং জলবায়ু সংকটের ঝুঁকিতে থাকা দেশে শুধু অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জনের জন্য এই খাতে বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন করছে। তাই দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহায়তা বাড়াতে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখতে হবে।’









