পিডিবি ও পিজিসিবি দেশের বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে বকেয়া বাবদ ৮ হাজার ৪৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা পায়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী মার্চ মাস পর্যন্ত এই বকেয়া জমেছে। আইপিপি ও সরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানির কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে দ্রুত এই বকেয়া পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
বিদ্যুৎ বিভাগের সর্বশেষ মাসিক সমন্বয় সভায় বলা হয়, আইপিপি ও সরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানির কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে সব কোম্পানিকে আন্তদেনার অর্থ অবিলম্বে পিডিবিকে অগ্রিম হিসেবে পরিশোধ করতে হবে। একইভাবে পিডিবিকে পিজিসিবির দেনাও পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পিডিবি ডিপিডিসির কাছে পাওনা ২ হাজার ৯৫৩ কোটি ৫৯ লাখ, ডেসকোর কাছে পাওনা ৪৩৯ কোটি ৬৯ লাখ, আরইবির কাছে ২ হাজার ৬৭৩ কোটি ৮৯ লাখ, ওজোপাডিকোর কাছে ২৫১ কোটি ১৯ লাখ এবং নেসকোর কাছে ৭৭৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকা পায়।
একইভাবে পিজিসিবি পিডিবির কাছে ৬৩৯ কোটি ৮০ লাখ, ডিপিডিসির কাছে ৪৬ কোটি ৫৭ লাখ, ডেসকোর কাছে ২৭ কোটি ৯৩ লাখ, আরইবির কাছে ২০১ কোটি ১৮ লাখ, ওজোপাডিকোর কাছে ১৫ কোটি ৬০ লাখ এবং নেসকোর কাছে ১৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা পাওনা।
পিডিবি সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে, আগামী ছয় মাসের বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে তাদের ৪৩ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। মূলত বিদ্যুৎ বিক্রি থেকে এই অর্থের বড় একটি অংশ আসে। অন্যদিকে সরকারের ভর্তুকি থেকেও একটি অংশের সংস্থান হয়।
পিডিবি কর্মকর্তারা বলছেন, সব খাত থেকেই অর্থ না পাওয়াতে পিডিবি বিশাল দেনার দায়ে ডুবতে বসেছে।
পিডিবির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, পিডিবির কাছে বিভিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কেন্দ্রগুলো ৩৪ হাজার কোটি টাকা পাবে। কেন্দ্রগুলোকে বিল পরিশোধ না করায় তারা জ্বালানি আমদানি করতে পারছে না। এটিকে কেউ কেউ আর্থিক বিশৃঙ্খলা হিসেবেও দেখছেন।
অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, গত অর্থবছরে সরকার ঠিকমতো ভর্তুকির অর্থ ছাড় না করায় এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিমাসে পিডিবির ৪ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির প্রয়োজন। কিন্তু পিডিবিকে এর অর্ধেক দেওয়া হয়। এতে বকেয়ার জালে জড়িয়ে গেছে পিডিবি।
এই পাওনা টাকা আদায়ের বিষয়ে পিডিবি জানায়, ডিপিডিসি ২০২২ সালের এপ্রিল মাসের সমপরিমাণ ৬৪৩ কোটি টাকা বিলের বিপরীতে এ পর্যন্ত ৩৭৭ কোটি টাকা অগ্রিম প্রদান করেছে।
ডেসকো এপ্রিল মাসের সমপরিমাণ ৪১২ কোটি টাকা বিলের বিপরীতে এ পর্যন্ত ৩০০ কোটি টাকা অগ্রিম প্রদান করেছে। আরইবি এপ্রিল মাসের সমপরিমাণ ১ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা বিলের বিপরীতে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা অগ্রিম প্রদান করেছে।
ওজোপাডিকো ও নেসকো এপ্রিল মাসের সমপরিমাণ যথাক্রমে ২০৫ ও ২০৮ কোটি টাকা বিলের বিপরীতে সমুদয় টাকা অগ্রিম প্রদান করেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহম্মদ হোসেইন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কোম্পানিগুলোর মধ্যে আন্তদেনা এখন অনেক বড় বিষয় হয়ে গেছে। শুরু থেকেই সবাই দেনা পরিশোধ করলে আজকের এই পরিস্থিতি হতো না। তিনি বলেন, আমরা দ্রুত দেনা পরিশোধের কথা বলছি যাতে পিডিবি আর্থিক সংকটে না পড়ে।








