বাংলাদেশে জ্বালানি ন্যায়বিচার ও জেন্ডার সমতা নিশ্চিত করতে জ্বালানি রূপান্তর প্রক্রিয়ায় নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)। একইসঙ্গে এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে এমজেএফ-এর নেতৃত্বে ৩৪টি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত জোট ‘উই-নেট’ (WEE-NET— Women’s Empowerment and Energy Network) আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই নতুন নেটওয়ার্কের যাত্রা শুরু এবং জ্বালানি খাতের বিদ্যমান বৈষম্য তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এমজেএফ-এর রাইটস অ্যান্ড গভর্ন্যান্স প্রোগ্রামসের পরিচালক বনশ্রী মিত্র নিয়োগী জানান, দেশের শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ এখনও মাত্র ১৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে যারা চাকরি হারিয়েছেন, তাদের মধ্যে ৮৬ শতাংশই নারী।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি খাতেও বৈষম্য স্পষ্ট। বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নারীর অংশগ্রহণ ১০ শতাংশেরও কম। এছাড়া প্রায় ৯০ শতাংশ পরিবার এখনও রান্নার কাজে ক্ষতিকর বায়োমাস জ্বালানি ব্যবহার করছে, যার চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি বহন করতে হচ্ছে মূলত নারীদেরই।
নবগঠিত এই নেটওয়ার্কের মূল লক্ষ্য হলো— ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরে নারীর নেতৃত্ব ও সক্ষমতা শক্তিশালী করা। জোটটি নারী-নেতৃত্বাধীন নবায়নযোগ্য জ্বালানি উদ্যোগের জন্য সরকারি-বেসরকারি অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং জেন্ডার-সংবেদনশীল জাতীয় জ্বালানি নীতি প্রণয়নে অ্যাডভোকেসি বা পক্ষসমর্থন করবে।
এমজেএফ-এর লিড ইয়ুথ অ্যান্ড সোশ্যাল কোহেশন ওয়াসিউর রহমান তন্ময় নতুন সরকারের কাছে জোর দাবি জানান, যেন নারীরা নবায়নযোগ্য জ্বালানির সকল খাতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারে, তার জন্য প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এমজেএফ-এর অ্যাডভোকেসি অফিসার মৌসুমী ইয়াসমিন গ্রামীণ ও প্রান্তিক নারীদের জন্য এই খাতে বিশেষ বিনিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন নেটওয়ার্কের সদস্য সংগঠন ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ-এর সানজিদা রহমান, ঝিনাইদহের ওয়েলফেয়ার ইফোর্টস-এর শরীফা খাতুন এবং চট্টগ্রামের পথচলা ফাউন্ডেশনের আমাইরা ইরতেজা ইরা।








