দেশের জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট ও মজুতদারি রোধে জোরদার অভিযান চালাচ্ছে সরকার। এ পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ৮৬ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১৬ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ৭৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। মোট মামলা হয়েছে এক হাজার ৫৩টি। জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মজুত ও বেশি দামে বিক্রির প্রবণতা রোধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি বিভাগের যুগ্মসচিব মুনির হোসেন চৌধুরী এসব তথ্য জানান।
মুনির হোসেন চৌধুরী জানান, সারাদেশে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করা হচ্ছে, যেখানে জ্বালানি তেলের মজুত, সরবরাহ ও বিতরণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং সমস্যা চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এছাড়া প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে সরকারি ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ দিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থাপনা স্বচ্ছ রাখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, একই সঙ্গে সরকার কৃষিখাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের কাছে তালিকা থাকা দরকার, যাতে তালিকার ভিত্তিতে কৃষকরা ফিলিং স্টেশন থেকে ডিজেল সংগ্রহ করতে পারে। জ্বালানি বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনও জেলা থেকে কৃষিতে তেলের সরবরাহে সমস্যা দেখা দেয়নি। তবে যদি কোথাও সমস্যা দেখা দেয়, সঙ্গে সঙ্গে হস্তক্ষেপ করা হবে।
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, বাজারে মনস্তাত্ত্বিক চাপ ও মজুতদারির কারণে কিছু ক্ষেত্রে সরবরাহে স্বাভাবিক চাপে ভিন্নতা দেখা দিতে পারে। তাই অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং তেলের সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ বিতরণ নিশ্চিত করতে তদারকি বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য টিভি স্ক্রল, জিঙ্গেল, মসজিদ ও স্কুলের শিক্ষকদের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।









