দেশের বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী নেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ আর নেই। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার (২১ জুন) সন্ধ্যায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর।
পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাংলাদেশ সময় রোববার সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। আগামী মঙ্গলবার তার মরদেহ দেশে আনা হবে বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।
সেলিমা আহমাদ দেশের অন্যতম শিল্পগোষ্ঠী নিটল-নিলয় গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুল মাতলুব আহমাদের সহধর্মিণী। ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে তার ভূমিকা ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিডব্লিউসিসিআই)-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে তিনি দেশের নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠিত করা, তাদের জন্য অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ ও বাজারসুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তার নেতৃত্বে হাজারো নারী উদ্যোক্তা ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। একই সঙ্গে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন।
ব্যবসা ও সমাজ উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৪ সালে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে মর্যাদাপূর্ণ ‘অসলো বিজনেস ফর পিস অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন। ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি সামাজিক মূল্যবোধ, শান্তি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
সেলিমা আহমাদের মৃত্যুতে ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন, নারী উদ্যোক্তা সংগঠন এবং রাজনৈতিক নেতারা তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, নারী উদ্যোক্তা বিকাশে সেলিমা আহমাদের অবদান দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তার মৃত্যুতে দেশের ব্যবসায়ী সমাজ একজন দূরদর্শী উদ্যোক্তা, নারী নেতৃত্বের পথিকৃৎ এবং সমাজ উন্নয়নে নিবেদিতপ্রাণ একজন সংগঠককে হারালো।








