কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (সিএনজি) বিক্রিতে কমিশন বাড়ানোর দাবিতে আগামী ৩০ জুলাই ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সারা দেশে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। দাবি পূরণ না হলে আগামী ২৩ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখারও ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর বিজয়নগরের আকরাম টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য গঠিত স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক আমিরুজ্জামান চৌধুরী। তিনি বলেন, ৩০ জুলাই দেশের সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকবে। এ সময় সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলবে। দাবি পূরণ না হলে ২৩ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হবে।
সংগঠনের নেতারা বলেন, ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রতি ঘনমিটার সিএনজি বিক্রিতে ৮ টাকা কমিশন নির্ধারণ করা হয়। গত ১১ বছরে মূল্যস্ফীতি, শ্রমিকের মজুরি, যন্ত্রাংশের দাম, ব্যাংক কমিশন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) জমির ইজারা ফি এবং বিভিন্ন সরকারি লাইসেন্স ফি বহুগুণ বেড়েছে। ফলে বর্তমান কমিশনে ফিলিং স্টেশন পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তাদের দাবি, প্রতি ঘনমিটারে কমিশন ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা নির্ধারণ করতে হবে। অর্থাৎ, বর্তমান কমিশনের সঙ্গে আরও ৫ টাকা ৯৬ পয়সা যোগ করার দাবি জানানো হয়েছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, ভবিষ্যতে গ্যাসের দাম বাড়লে কমিশনও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করতে হবে। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পুরোনো গ্রাহকদের কাছ থেকে নতুন করে জামানত নেওয়া বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি সওজের ইজারা ফি এবং বিভিন্ন সরকারি দফতরের লাইসেন্স ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মালিকদের দাবি, সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গ্যাসের দামের সঙ্গে আনুপাতিক সমন্বয়ে আরও ৩ টাকা ৩০ পয়সা এবং বিদ্যুতের দাম আট দফা বাড়ার কারণে ২ টাকা ৪৬ পয়সা কমিশনে যুক্ত হওয়ার কথা ছিল। সে হিসাবে ২০২৪ সালের শুরুতেই প্রতি ঘনমিটারে তাদের ন্যায্য কমিশন দাঁড়ায় ১৩ টাকা ১০ পয়সা।
অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সর্বশেষ গত জুনে বিদ্যুতের দাম ১৯ শতাংশ বাড়ায় প্রতি ঘনমিটারে পরিচালন ব্যয় আরও ৮৬ পয়সা বেড়েছে। তবে অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির হিসাব এতে ধরা হয়নি। সরকারি সুপারিশ, মূল্যস্ফীতি এবং বিদ্যুতের ব্যয় বৃদ্ধির হিসাব বিবেচনায় নিয়েই বর্তমান কমিশন ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।
সংগঠনের নেতারা জানান, এসব দাবি নিয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। এমনকি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতিও পাওয়া যায়নি। এ কারণে গত ১৮ জুলাই জরুরি সাধারণ সভা করে ১২ সদস্যের একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।









