জ্বালানি সংকট সামাল দিতে বেশি দামে হলেও স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। মানুষের দুর্ভোগ ও শিল্পকারখানার ক্ষতির কথা বিবেচনা করেই বাড়তি দামে এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাধ্য হচ্ছি। উপায় নেই।’ দীর্ঘমেয়াদি ও মধ্যমেয়াদি চুক্তির কয়েকটি সরবরাহকারী ফোর্স মেজর ঘোষণা করায় স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি সংগ্রহ করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, এলএনজি সরবরাহ পরিস্থিতি এরই মধ্যে প্রায় ৮৮ শতাংশ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ১২ শতাংশ ঘাটতিও দ্রুত পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।
এলএনজি সরবরাহে ঘাটতির অন্যতম কারণ হিসেবে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) নষ্ট হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তার তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ জুলাই টার্মিনালটি নষ্ট হওয়ার পর ১৫ আগস্ট মেরামত করা হয়। তবে এরপরও সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। এ কারণে এলএনজি কার্গোর সময়সূচিও নতুন করে সমন্বয় করতে হয়েছে।
দুটি এফএসআরইউ থেকে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা সম্ভব বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৭০ মিলিয়ন ঘনফুট। দুটি টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করা গেলে গ্যাস সরবরাহ বাড়বে, যার প্রভাব বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতেও পড়বে বলে জানান তিনি।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি জানান, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রয়েছে। রামপালের একটি ইউনিটও পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করছে না। এ ছাড়া বঙ্গোপসাগর কিছুটা উত্তাল থাকায় জাহাজ থেকে কয়লা লাইটারেজ করে মোংলায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে দুই কেন্দ্রের উৎপাদন বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ার বিষয়েও প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে দিনে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যার পর ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে তাদের কাছ থেকে গড়ে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট সরবরাহ পাওয়া যেত। অতিবৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে উৎপাদন কমেছে বলে আদানি জানিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
বাড়তি দামে এলএনজি কেনার কারণ ব্যাখ্যা করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, স্পট মার্কেটে দাম বেশি হলেও মানুষের কষ্ট ও শিল্পকারখানার ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। সংকট যাতে দীর্ঘায়িত না হয়, সে জন্যই সরকার বেশি দামে এলএনজি সংগ্রহ করছে।









