জ্বালানি আমদানির খরচে রেকর্ড, এক বছরে বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি

গোলাম মওলা 
২০ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২৭আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২৭

দেশের অর্থনীতিতে জ্বালানি তেলের চাপ নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের দামে অস্থিরতা, অপরদিকে দেশে শিল্প, বিদ্যুৎ, পরিবহন ও অন্যান্য খাতে চাহিদা বৃদ্ধি— এই দুইয়ের চাপে গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জ্বালানি আমদানির ব্যয় অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।  

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশের ব্যয় হয়েছে ১০ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় ছিল ৫ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে জ্বালানি আমদানির ব্যয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১০৭ শতাংশ। 

অন্যদিকে একই সময়ে দেশের মোট পণ্য আমদানি ব্যয় বেড়েছে ১০ দশমিক ১ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৬৮ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার থেকে তা বেড়ে গত অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ৭৫ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার। 

অর্থাৎ দেশের মোট পণ্য আমদানি ব্যয়ের যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে, তার প্রতি প্রায় সাত ডলারের মধ্যে এক ডলারই চলে গেছে জ্বালানি আমদানিতে। বর্তমান বিনিময় হার বিবেচনায় ১০ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলারের এই ব্যয় বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি। 

এটি শুধু একটি আমদানি পরিসংখ্যান নয়; এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে দেশের উৎপাদন, পরিবহন ব্যয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, মূল্যস্ফীতি এবং সর্বোপরি বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবস্থাপনায়। 

এক বছরে খরচ বেড়েছে সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার 

জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য থেকে। বাংলাদেশ পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের দামের পরিবর্তন সরাসরি দেশের আমদানি ব্যয়ে প্রভাব ফেলে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরে এ ব্যয় ছিল মাত্র ৬২ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরে অপরিশোধিত তেল আমদানির ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৯২ শতাংশ। 

অপরদিকে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম, তেল ও লুব্রিকেন্টস পণ্য আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৯ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরে এ ব্যয় ছিল ৪ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার। ফলে এ খাতে ব্যয় বেড়েছে ১০৯ দশমিক ১ শতাংশ। 

অর্থাৎ জ্বালানি আমদানির মোট ব্যয়ের সিংহভাগই এসেছে পরিশোধিত জ্বালানি থেকে। ডিজেল, গ্যাস অয়েল, জেট ফুয়েল, ফার্নেস অয়েল, পেট্রোল, অকটেনসহ বিভিন্ন পরিশোধিত পণ্যের দাম বাড়ায় বাংলাদেশের ওপর আমদানি ব্যয়ের চাপও দ্রুত বেড়েছে। 

রেকর্ড ছাড়িয়েছে আগের সব হিসাব

জ্বালানি আমদানির ব্যয়ের দিকে কয়েক বছরের হিসাব দেখলে পরিস্থিতির পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হয়। 

২০২১-২২ অর্থবছরে করোনা মহামারির পর বিশ্ব অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানো এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দেয়। ওই অর্থবছরে বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৭৯৯ কোটি ডলার। 

এর পরের অর্থবছরে ব্যয় কমে ৫৭৭ কোটি ডলারে নেমে আসে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আবার কিছুটা বেড়ে দাঁড়ায় ৬১৩ কোটি ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা নেমে আসে ৫১৪ কোটি ডলারের কাছাকাছি। 

কিন্তু ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এসে চিত্র পুরোপুরি পাল্টে গেছে। মাত্র এক বছরে ব্যয় বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৬৩ কোটি ডলার। 

অর্থাৎ কয়েক বছরের ব্যবধানে জ্বালানি আমদানির ব্যয় প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। 

শুধু দাম নয়, বেড়েছে আমদানির পরিমাণও

জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে শুধু আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়াই দায়ী নয়। দেশে জ্বালানির চাহিদাও বেড়েছে। 

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে জ্বালানির চাহিদা ছিল প্রায় ৭৪ লাখ টন। 

২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রায় ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টন জ্বালানি আমদানি করেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৫০ লাখ টন। 

অর্থাৎ নয় মাসেই আমদানির পরিমাণ বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার সঙ্গে দেশে ব্যবহারের পরিমাণ বাড়ায় দুই দিক থেকেই ব্যয়ের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। 

আমদানির তালিকায় রয়েছে ডিজেল, অপরিশোধিত তেল, ফার্নেস অয়েল, পেট্রোল, অকটেন, জেট ফুয়েল ও বেস অয়েলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি। 

পরিশোধিত জ্বালানির দাম বেড়েছে বেশি

জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো অপরিশোধিত তেলের তুলনায় পরিশোধিত পণ্যের দাম বেশি হারে বেড়ে যাওয়া। 

২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্যাস অয়েল, ডিজেল ও জেট ফুয়েলের মতো পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যের গড় আন্তর্জাতিক দাম প্রায় ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি ৮৩৫ ডলারে উঠেছে। 

অন্যদিকে একই সময়ে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ১০ দশমিক ৪ শতাংশ। 

বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির বড় অংশই যেহেতু পরিশোধিত পণ্য, তাই আন্তর্জাতিক বাজারে পরিশোধিত জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব বাংলাদেশের ওপর তুলনামূলকভাবে বেশি পড়ে। 

পরিশোধিত জ্বালানির দামের সঙ্গে শুধু অপরিশোধিত তেলের দামই যুক্ত নয়; পরিশোধন ব্যয় ও পরিশোধন মার্জিনও এতে যুক্ত থাকে। আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকট, পরিশোধন সক্ষমতায় ঘাটতি কিংবা হঠাৎ চাহিদা বেড়ে গেলে এসব পণ্যের দাম আরও দ্রুত বাড়তে পারে। 

জুনে এক মাসেই খরচ ১৬০ কোটি ডলার

জ্বালানি আমদানির চাপ যে কতটা তীব্র হয়েছে, তার একটি বড় উদাহরণ গত জুন মাসের হিসাব। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, শুধু জুন মাসে জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৬০ কোটি ৩৩ লাখ ডলার। 

অথচ পুরো ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাসিক গড় ব্যয় ছিল প্রায় ৮৮ কোটি ৬২ লাখ ডলার। 

অর্থাৎ শেষ মাসে জ্বালানি আমদানির ব্যয় স্বাভাবিক মাসিক গড়ের তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে। এর ফলে অর্থবছরের শেষ দিকে আমদানি ব্যয়ের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। 

আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা বড় কারণ

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম গত কয়েক বছর ধরেই স্থিতিশীল নয়। করোনা মহামারির পর বৈশ্বিক অর্থনীতি সচল হওয়ার সময় চাহিদা দ্রুত বাড়ে। এরপর ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে তেলের বাজারে আবার বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। 

সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। 

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এম তামিমের মতে, মূলত চাহিদা ও দাম বৃদ্ধির কারণেই বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় বেড়েছে। বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকলে এই ব্যয় আরও বাড়তে পারে। 

বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এ পরিস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে শুধু আমদানি ব্যয়ই বাড়ে না, এর সঙ্গে বাড়ে পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পের উৎপাদন ব্যয়ও। 

জ্বালানির বাড়তি ব্যয় কি মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াচ্ছে?

জ্বালানি তেলের দাম সরাসরি বাড়ুক বা না বাড়ুক, এর আমদানি ব্যয় বেড়ে গেলে অর্থনীতির বিভিন্ন স্তরে তার প্রভাব পড়ে। 

কারখানায় উৎপাদনের জন্য ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানি প্রয়োজন। পণ্য পরিবহনে জ্বালানি লাগে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের কিছু ক্ষেত্রেও তরল জ্বালানি ব্যবহার করতে হয়। কৃষি যন্ত্রপাতি, সেচ, নৌযান ও সড়ক পরিবহন— সব ক্ষেত্রেই জ্বালানি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। 

ফলে জ্বালানি আমদানির ব্যয় বাড়লে পণ্য উৎপাদন ও পরিবহনের খরচ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। উৎপাদকরা বাড়তি ব্যয়ের একটি অংশ পণ্যের দামে যুক্ত করলে শেষ পর্যন্ত তার চাপ পড়ে ভোক্তার ওপর। 

এ কারণেই জ্বালানি ব্যয়ের এই রেকর্ড বৃদ্ধি দেশের মূল্যস্ফীতির জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি। 

শিল্পে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়ের চাপ

জ্বালানি আমদানির ব্যয়ের সঙ্গে দেশের শিল্প খাতের বাস্তব পরিস্থিতিরও সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। 

ইতোমধ্যে দেশে গ্যাস সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় অনেক কারখানার উৎপাদন কমেছে। কোথাও কোথাও বিকল্প হিসেবে ডিজেল ব্যবহার করতে হচ্ছে। 

কিন্তু গ্যাসের পরিবর্তে ডিজেল ব্যবহার করলে উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। ফলে একদিকে উৎপাদন কমে, অন্যদিকে ইউনিটপ্রতি উৎপাদন খরচ বাড়ে। 

বিশেষ করে তৈরি পোশাক, বস্ত্র, ডায়িং, ইস্পাত, সিরামিক, কাচ, রাসায়নিক ও অন্যান্য জ্বালানি-নির্ভর শিল্পে এর প্রভাব বেশি। 

এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের দাম প্রতিযোগিতামূলক রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। 

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় যেভাবে বাড়ছে, সেটি শুধু বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি করছে না; এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিল্পের উৎপাদন ব্যয় ও রপ্তানি প্রতিযোগিতার ওপর। বিশেষ করে তৈরি পোশাকের মতো রপ্তানিনির্ভর শিল্পে জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা এবং বাড়তি উৎপাদন ব্যয় একই সঙ্গে সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের পোশাকশিল্প এমনিতেই আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ও সরবরাহের দিক থেকে কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে গ্যাসের সংকটের কারণে কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো না গেলে এবং বিকল্প হিসেবে ডিজেল বা তুলনামূলক ব্যয়বহুল জ্বালানি ব্যবহার করতে হলে আমাদের উৎপাদন খরচ আরও বেড়ে যায়। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রেতার কাছে বাড়তি এই খরচ সবসময় পণ্যের দামে তুলে দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে শেষ পর্যন্ত চাপ পড়ে উদ্যোক্তার মুনাফা, বিনিয়োগ এবং নতুন কর্মসংস্থানের ওপর।” 

মহিউদ্দিন রুবেল আরও বলেন, “বর্তমান জ্বালানি সংকটকে সাময়িক সমস্যা হিসেবে দেখলে হবে না। দীর্ঘদিন ধরে দেশে গ্যাসের উৎপাদন কমছে, চাহিদা বাড়ছে এবং আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে তার প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশের শিল্পে চলে আসে। এখন প্রয়োজন দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন বাড়ানোর পাশাপাশি এলএনজি আমদানির সক্ষমতা বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত মজুত ব্যবস্থা এবং জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ।” 

তার মতে, “শিল্পের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এখন শুধু ব্যবসায়ীদের দাবি নয়; এটি দেশের রপ্তানি, কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। একটি কারখানা কয়েক দিন উৎপাদন বন্ধ রাখলে শুধু সেই কারখানার ক্ষতি হয় না— শ্রমিকের আয় কমে, সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়, সরকারের রাজস্ব কমে এবং ক্রেতার কাছে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করা যায় না।” 

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ যদি রপ্তানি বাড়াতে চায় এবং তৈরি পোশাকের বাজার ধরে রাখতে চায়, তাহলে জ্বালানি নিরাপত্তাকে শিল্পনীতির কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে নিতে হবে। শুধু সংকট দেখা দিলে জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি আমদানি করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পরিবর্তে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনা করতে হবে।” 

গ্যাস সংকট সামাল দিতে বাড়ছে এলএনজি আমদানি

জ্বালানি তেলের আমদানি ব্যয়ের রেকর্ডের মধ্যেই দেশে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার বাড়তি এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। 

১৯ আগস্ট অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সাতটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১৪ কার্গো এলএনজি কেনার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। 

প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে দুটি করে কার্গো কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। 

এর পাশাপাশি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি একটি এলএনজি কার্গো আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড ১ থেকে ২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কার্গোটি সরবরাহ করবে। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম পড়বে ২৩ দশমিক ৯৩ ডলার। এটি চলতি বছরের ৪৪তম এলএনজি কার্গো। 

শিল্প, বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে গ্যাসের চাহিদা বাড়ায় এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। ফলে স্পট মার্কেট, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি ক্রয়ের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে সরকার। 

জ্বালানি ব্যয় বাড়লেও অন্য কিছু আমদানিতে কমেছে খরচ

জ্বালানি আমদানির ব্যয় যখন রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছে, তখন সব ধরনের আমদানি কিন্তু একইভাবে বাড়েনি। 

বরং কিছু ভোগ্যপণ্যের আমদানি ব্যয় কমেছে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, তেল, চিনি, ডাল, মসলা এবং দুধ ও ক্রিমের মতো বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য আমদানিতে গত অর্থবছরে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫০৩ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরে এ ব্যয় ছিল ৫৬৮ কোটি ডলার। 

অর্থাৎ ভোগ্যপণ্য আমদানির ব্যয় কমেছে প্রায় ৬৫ কোটি ডলার বা ১১ দশমিক ৪ শতাংশ। 

চাল আমদানিতেও ব্যয় কমেছে। গত অর্থবছরে চাল আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৫৩ কোটি ডলারের নিচে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৬৮ কোটি ডলারের বেশি। অর্থাৎ চাল আমদানির ব্যয় কমেছে প্রায় ২২ দশমিক ৫ শতাংশ। 

তবে গম আমদানিতে ব্যয় বেড়েছে। গত অর্থবছরে গম আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০৫ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের ১৬২ কোটি ডলারের তুলনায় ২৬ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। 

শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে মিশ্র চিত্র

আমদানির তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে চাহিদা একরকম নয়। 

গত অর্থবছরে তৈরি পোশাক খাত-সংশ্লিষ্ট পণ্যের আমদানি প্রায় ৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭৭০ কোটি ডলারে নেমেছে। 

লোহা, ইস্পাত ও অন্যান্য বেস মেটালের আমদানিও কমেছে। প্লাস্টিক ও রাবার আমদানিতেও পতন হয়েছে। 

অন্যদিকে মধ্যবর্তী পণ্যের আমদানি প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৯৩৫ কোটি ডলারে উঠেছে। মূলধনি পণ্যের আমদানিও বেড়েছে। মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি বৃদ্ধিও বিনিয়োগ ও উৎপাদনের কিছু ক্ষেত্রে চাহিদা থাকার ইঙ্গিত দেয়। 

সার, তেলবীজ, রাসায়নিক ও ওষুধের মতো কয়েকটি পণ্যের আমদানিও বেড়েছে। 

অর্থাৎ সামগ্রিক আমদানি বৃদ্ধির পেছনে শুধু ভোগ্যপণ্য নয়; শিল্প ও উৎপাদনের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু পণ্যের আমদানিও ভূমিকা রেখেছে। 

আমদানি ব্যয় বাড়লেও ডলারের বাজারে স্বস্তি কেন?

একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো— জ্বালানি আমদানিতে এত বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হলেও ডলারের বাজারে কেন বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে না? 

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ডলারের দর ১২২ থেকে ১২৪ টাকার মধ্যে রয়েছে। বর্তমানে ডলার সংগ্রহেও বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে না। 

এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে বাড়তি রেমিট্যান্স প্রবাহকে দেখা হচ্ছে। 

অর্থাৎ আমদানি ব্যয়ের চাপ একদিকে বাড়লেও অন্যদিকে প্রবাসী আয় বৃদ্ধির কারণে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহও বাড়ছে। 

এ কারণে রিজার্ভে এখন তুলনামূলক স্বস্তি ফিরেছে। 

সর্বশেষ হিসাবে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৩৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাবপদ্ধতি বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভও ৩২ বিলিয়ন ডলারের ওপরে রয়েছে। 

তবে এই স্বস্তি ধরে রাখার জন্য শুধু রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভর করলে হবে না। রপ্তানি আয় বাড়ানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার স্থায়ী উৎস তৈরি করা জরুরি। 

বিনিয়োগ না বাড়লে জ্বালানি ব্যয়ের চাপ আরও বড় হবে

বর্তমানে অর্থনীতির আরেকটি বড় দুর্বলতা হলো বিনিয়োগের গতি কম থাকা। 

ব্যাংকারদের মতে, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট, উচ্চ সুদহার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন কারণে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ কমেছে। 

বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে নেমে এসেছে, যা এযাবৎকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ের একটি। 

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। বিনিয়োগ কম থাকলে আমদানি চাহিদা কিছুটা নিয়ন্ত্রিত থাকে। ফলে ডলারের ওপর চাপ কমে। কিন্তু একই সঙ্গে অর্থনীতিতে নতুন উৎপাদন সক্ষমতা, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি সক্ষমতাও তৈরি হয় না। 

অর্থাৎ আমদানি কমে ডলার বাজারে স্বস্তি পাওয়া গেলেও সেটি যদি বিনিয়োগের অভাবে হয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে তা অর্থনীতির জন্য ভালো খবর নয়। 

জ্বালানি আমদানির চাপ কমাতে কী করতে হবে?

জ্বালানি আমদানির এই রেকর্ড ব্যয় বাংলাদেশের জন্য একটি সতর্কবার্তা। 

প্রথমত, জ্বালানি আমদানিতে অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে হবে। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং জ্বালানি দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ জোরদার করা প্রয়োজন। 

দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কম থাকার সময় কৌশলগতভাবে মজুত বাড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এম তামিম অন্তত দেড় মাসের জ্বালানি মজুত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। 

তৃতীয়ত, এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে স্পট মার্কেট ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওঠানামার ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। 

চতুর্থত, জ্বালানি সরবরাহের পূর্বাভাস ও মজুত ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করতে হবে। সামান্য সরবরাহ সংকট যেন বাজারে আতঙ্ক তৈরি করে এবং ভোক্তারা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জ্বালানি কিনে ফেলেন— এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানো জরুরি। 

ডলার সাশ্রয়ই এখন বড় চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য জ্বালানি আমদানির এই ১০ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলারের ব্যয় শুধু একটি খাতের হিসাব নয়। এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বড় একটি স্থায়ী চাপের চিত্র তুলে ধরছে। 

একদিকে রেমিট্যান্স বাড়ছে, রফতানি আয় থেকে ডলার আসছে; অন্যদিকে জ্বালানি আমদানিতে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। 

জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে আবার বাড়লে এই ব্যয় আরও বাড়তে পারে। তখন আমদানি ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও ডলারের চাহিদা— তিন জায়গাতেই চাপ তৈরি হবে। 

তাই বর্তমান স্বস্তিদায়ক রিজার্ভ ও ডলার বাজারকে স্থায়ী করতে হলে শুধু আমদানি নিয়ন্ত্রণ নয়, রপ্তানি বাড়ানো, বিনিয়োগ ফিরিয়ে আনা, অর্থ পাচার বন্ধ করা এবং জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার জরুরি। 

সামনে বড় পরীক্ষা

বাংলাদেশ এখন এমন একটি সময়ে দাঁড়িয়ে আছে, যখন অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে, কিন্তু একই সঙ্গে জ্বালানি ব্যয় রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছে। 

একদিকে মোট আমদানি ব্যয় ১০ শতাংশের মতো বেড়েছে, অন্যদিকে শুধু জ্বালানি আমদানির ব্যয় বেড়েছে ১০৭ শতাংশ। অর্থাৎ সামগ্রিক আমদানি বৃদ্ধির তুলনায় জ্বালানি খাতের চাপ বহুগুণ বেশি। 

এ চাপের প্রভাব ইতোমধ্যে শিল্প উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ে দেখা যাচ্ছে। গ্যাস সংকটের কারণে অনেক শিল্পকারখানা উৎপাদন কমাচ্ছে; বিকল্প হিসেবে তরল জ্বালানি ব্যবহার করলে খরচ আরও বাড়ছে। একই সঙ্গে গ্যাসের ঘাটতি পূরণে সরকারকে বাড়তি এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। 

ফলে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার সামনে এখন দ্বিমুখী চাপ— একদিকে তেলের জন্য বিপুল ডলার ব্যয়, অন্যদিকে গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে বাড়তি এলএনজি আমদানি। 

এই পরিস্থিতিতে শুধু জ্বালানি কিনে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাই যথেষ্ট নয়। কত দামে জ্বালানি কেনা হচ্ছে, কতটা দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার হচ্ছে, কতদিনের মজুত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আমদানির ওপর নির্ভরতা কীভাবে কমানো যাবে— এসব প্রশ্নের উত্তরও এখন সমান গুরুত্বপূর্ণ। 

কারণ জ্বালানির এই রেকর্ড ব্যয় যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তা শুধু আমদানি হিসাবকেই বড় করবে না; উৎপাদন খরচ, মূল্যস্ফীতি, শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপরও দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করবে। 

আর তাই ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জ্বালানি আমদানিতে ১০ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড ব্যয়কে শুধু একটি পরিসংখ্যান হিসেবে দেখলে চলবে না। এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা, ডলার ব্যবস্থাপনা ও শিল্প উৎপাদনের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি বড় সতর্ক সংকেত।

/এসটি/ 
সম্পর্কিত
গ্যাস কমতেই সন্ধ্যার পর বাড়লো লোডশেডিং
গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন
এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ, ফের কমলো গ্যাস সরবরাহ
সর্বশেষ খবর
স্বর্ণের গহনার দাম ফের বাড়লো 
স্বর্ণের গহনার দাম ফের বাড়লো 
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরে নিয়োগ, আজ থেকে আবেদন শুরু
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরে নিয়োগ, আজ থেকে আবেদন শুরু
ফ্লোরেস দ্বীপে ফের ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্প
ফ্লোরেস দ্বীপে ফের ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্প
রেকর্ড ৪ কোটি ডলারে বিক্রি হলো ফেরারির প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ি
রেকর্ড ৪ কোটি ডলারে বিক্রি হলো ফেরারির প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ি
সর্বাধিক পঠিত
আরেক কনেকে বিয়ে করলেন সেই প্রবাসী, পাতে পেলেন আস্ত খাসি
আরেক কনেকে বিয়ে করলেন সেই প্রবাসী, পাতে পেলেন আস্ত খাসি
ঢাকায় বাবার লাশ মুন্সীগঞ্জে মায়ের মুক্তির জন্য দৌড়াচ্ছেন দীপু মনির মেয়ে
ঢাকায় বাবার লাশ মুন্সীগঞ্জে মায়ের মুক্তির জন্য দৌড়াচ্ছেন দীপু মনির মেয়ে
আওয়ামী লীগের চারবারের সাবেক এমপি মারা গেছেন
আওয়ামী লীগের চারবারের সাবেক এমপি মারা গেছেন
তারেক রহমানের ভারত সফরের সময় খুবই সীমিত: সাবেক কূটনীতিক
তারেক রহমানের ভারত সফরের সময় খুবই সীমিত: সাবেক কূটনীতিক
এক গ্রাহকের ব্যাংকের ৭ লাখ টাকা ব্যবসায়ীর অ্যাকাউন্টে কীভাবে পাঠালেন চীনা নাগরিক
এক গ্রাহকের ব্যাংকের ৭ লাখ টাকা ব্যবসায়ীর অ্যাকাউন্টে কীভাবে পাঠালেন চীনা নাগরিক