দীর্ঘদিন গ্যাস সংকটে ভুগতে থাকা চালকরা আজ শুক্রবার (২৮ আগস্ট) পাম্পে গ্যাসের তুলনামূলক ভালো প্রেসার পেয়েছেন। যেখানে গেল এক মাস ধরে একটি সিএনজি অটোরিকশায় সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৬০ টাকার গ্যাস ঢুকতো, সেখানে আজ ১৫০ টাকা পর্যন্ত গ্যাস পেয়েছেন চালকরা। আর প্রাইভেটকারের চালকরা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত গ্যাস নিতে পেরেছেন। তবে গ্যাসের জন্য গাড়ির দীর্ঘ লাইন অব্যাহত ছিল। চালক ও সিএনজি পাম্পের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
চালকদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে আকারভেদে সিএনজি-চালিত অটোরিকশায় ৬০০ টাকা পর্যন্ত গ্যাস নেওয়া যায়। আর ৬০ লিটারের সিলিন্ডার থাকা প্রাইভেটকারে প্রায় ৬০০ টাকার গ্যাস এবং ৯০ লিটারের সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত গ্যাস নেওয়া যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত প্রায় এক মাস ধরে রাজধানীতে গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। লাইনে গ্যাসের অভাবে অনেক পাম্প গ্যাস দেওয়া বন্ধও করে দিয়েছে। আর যেসব পাম্পে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছিল, সেগুলোতেও প্রেসার ছিল খুবই কম। অর্থাৎ একটি সিএনজিতে ৪০ থেকে ৬০ টাকার গ্যাস ঢুকতো। এর বেশি কোনোভাবেই পাওয়া যেতো না। এই গ্যাস নিতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে।
তবে শুক্রবার গ্যাসের প্রেসার কিছুটা বেড়েছে। গ্যাস নেওয়ার জন্য গাড়ির লাইন থাকলেও সিএনজি চালকরা ১০০ টাকার ওপরে গ্যাস পাচ্ছেন। আর প্রাইভেটকার চালকরাও প্রায় ৩৫০ টাকার গ্যাস পাচ্ছেন।
সিএনজি অটোরিকশাচালক সুশিল কুমার বলেন, সকালে তিনি রাজধানীর রামপুরা এলাকার হাজিপাড়া পাম্পে সিরিয়াল দিয়ে ঘণ্টাখানেক পর ১২০ টাকার গ্যাস পেয়েছেন। পরে সাড়ে ১২টার দিকে লাইনে দাঁড়িয়ে ২টার সময় ১৪০ টাকার গ্যাস নিতে পেরেছেন।
তিনি বলেন, ‘১০০ টাকার ওপরে গ্যাস পেলেও দুই থেকে তিনটা বা ছোট হলে চারটা পর্যন্ত ভাড়া মারা যায়। কিন্তু ১০০-এর নিচে হলে দুইটা ভাড়া মারার পর আবার গ্যাস নিতে হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ যেভাবে পেলাম, এটি পেলেও মন্দের ভালো। কিন্তু আমাদের যা অবস্থা যাচ্ছে, ছেলে-মেয়ে নিয়ে টিকাই দায় হয়ে যাচ্ছে।’
আরেক সিএনজি অটোরিকশাচালক মুসা বলেন, ভোরে ডেমরায় লাইনে দাঁড়িয়ে দেড় ঘণ্টা পর গ্যাস পান। এরপর সেখান থেকে ৬টার দিকে ভাড়া নিয়ে উত্তরায় যান। এরপর বনানী ও ধানমন্ডি ট্রিপ মারার পর ১২টার কিছু পর আবার গ্যাস নিতে মগবাজার যান। সেখানে ১৫০ টাকার গ্যাস পান। এরপর আবার শুরু করেছেন।
তিনি বলেন, ‘তিন ভাড়াতে ১২শ’ টাকা আয় হয়েছে। এরপর মধ্যে খরচও হয়েছে ৪০০ টাকার মতো। বিকেল ও রাত মিলে আরও ১ হাজার ১২০০-এর মতো হলেই চলবে।’
মুসা বলেন, ‘আজ যেভাবে গ্যাস পেলাম, তাতে করে এভাবে পেলেও হতো। কিন্তু কাল কী হবে, এটা বলা যাচ্ছে না।’
প্রাইভেটকার চালক ইউনূস বলেন, ‘গ্যাসের প্রেসার আজ ভালোই পেলাম। আগে ১২০-এর ওপর তো উঠেই না। আর আজ ৩৫০ টাকার গ্যাস উঠেছে। তারপরও ভালো।’
তিনি জানান, তার গাড়িতে ৬০০ টাকার গ্যাস নেওয়া যায়। সেখানে আজ ৩৫০ টাকার নিতে পেরেছেন। তার ভাষ্য, ‘এটাও খারাপ না। এভাবে থাকলেও তারা কিছু ভাড়া মারতে পারবো। কিন্তু ১২০ টাকার গ্যাস নিয়ে নারায়ণগঞ্জ গেলে আর ফিরে আসা যাবে না। এ ভয়ে তারা বাইরে গাড়ি নিয়ে যেতেও ভয় পাই।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাড্ডা, উত্তরা, খিলক্ষেত, মিরপুরসহ বেশ কিছু স্থানে গ্যাসের প্রেসার ভালো পাওয়ার খবর পাওয়া যায়।
বাড্ডার ‘জামান সিএনজি’ পাম্পের কর্মী জামিল বলেন, ‘আজ শুক্রবার প্রেসার আগের চেয়ে কিছুটা ভালো মনে হচ্ছে। কিন্তু কাল কী হবে বলতে পারছি না।’
হাজিপাড়ার একটি সিএনজি পাম্পের কর্মী ইব্রাহিম বলেন, ‘গ্যাসের প্রেসার আজ কিছুটা বেড়েছে। আমরা গ্যাস দিচ্ছি। সিরিয়াল আছে, কিন্তু প্রেসার বাড়ায় গ্যাস পাচ্ছেন চালকরা।’








