গণশুনানিতে কি এলপিজির দাম কখনও কমেছে?

সঞ্চিতা সীতু
৩১ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৫৫ আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৫৫

প্রয়োজন হলেই গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে কোম্পানিগুলো গণশুনানিতে আসে, আর শেষ পর্যন্ত বাড়তি খরচের বোঝা চাপে গ্রাহকের ঘাড়ে। পাঁচ বছরে হওয়া তিনটি গণশুনানিতে দুইবারই এসেছে দাম বাড়ানোর সুপারিশ। সর্বশেষ ১২ কেজির সিলিন্ডারে ১৩৯ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। এখান থেকেই প্রশ্ন ওঠে, গ্রাহকের স্বস্তির জন্য গণশুনানি কোথায়? দাম বাড়ানোর সুপারিশই কেন বেশি আসে, কমানোর প্রস্তাব দেয় না কেন?

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত জুলাই মাসে এলপিজির ঊর্ধ্বমুখী বাজার দর টের পেয়ে কোম্পানিগুলো এলপিজি সরবরাহ কমিয়ে দেয়। এতে পুরো আগস্ট ও সেপ্টেম্বরজুড়েই এলপিজি নিয়ে সারা দেশে অরাজকতা তৈরি হয় এবং এখন পর্যন্ত সেই সংকট থেকে বের হতে পারেনি গ্রাহকরা। এদিকে মালিকরা সরাসরি সরকারের সঙ্গে বিরোধে না গেলেও ডিলার আর খুচরা বিক্রেতারা আন্দোলনের ডাক দিলে জিম্মি হয় ভোক্তারা। শেষে সেই বিক্রেতাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য চলতি মাসে গণশুনানির আয়োজন করে কমিশন। যথারীতি দাম বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।

এদিকে এলপিজির দাম নির্ধারণে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) গণশুনানি শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে। পাঁচ বছর পর আবারও বিভিন্ন পর্যায়ের চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানি হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত তিনটি গণশুনানিতে কখনও দাম কমানোর সুপারিশ এসেছে, আবার কখনও দাম বাড়ানোর প্রস্তাব উঠেছে। সর্বশেষ ২৯ অক্টোবরের শুনানিতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা করার সুপারিশ করেছে কমিশনের কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি।

প্রথম গণশুনানি: দাম কমানোর সুপারিশ

২০২১ সালের ১৪ জানুয়ারি এলপিজির দাম নির্ধারণে প্রথম গণশুনানি করে বিইআরসি। ওই শুনানিতে বেসরকারি এলপিজি কোম্পানিগুলোর সংগঠন এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ২৬৯ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছিল। অন্যদিকে সরকারি কোম্পানি এলপি গ্যাস লিমিটেড সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৭০০ টাকা করার প্রস্তাব দেয়।

তবে বিইআরসির মূল্যায়ন কমিটি সরকারি ও বেসরকারি এলপিজির কেজিপ্রতি অভিন্ন দাম প্রতি কেজি ৭২ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করে। এতে সরকারি কোম্পানির সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৯০২ টাকা এবং বেসরকারি কোম্পানির ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৮৬৬ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়। অর্থাৎ বেসরকারি কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবের তুলনায় ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৪০৩ টাকা কম রাখার সুপারিশ করেছিল মূল্যায়ন কমিটি।

এরপর ১২ এপ্রিল প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়। সে সময় বেসরকারি এলপিজির দাম ৯৭৫ টাকা করা হয়। অর্থাৎ লোয়াবের প্রস্তাবের তুলনায় দাম কম করা হয়।

প্রসঙ্গত, ‍শুনানির ৯০ দিনের মধ্যে বিইআরসিকে দামের ঘোষণা দিতে হয়, সে হিসেবেই এপ্রিলে এসে দাম ঘোষণা করে বিইআরসি।

দ্বিতীয় গণশুনানি: ৬৫ টাকা বাড়ানোর সুপারিশ

প্রথম গণশুনানির পর ২০২১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দফায় এলপিজির মূল্য সমন্বয়ে গণশুনানি করে বিইআরসি। ওই শুনানিতে কমিশনের কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৬৫ টাকা বাড়ানোর সুপারিশ করে। এ সময় এলপিজি অপারেটরদের অন্যান্য দাবি নাকচ করলেও পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন বাড়ানোর পক্ষে মত দেয় কমিটি। এরপর ১০ অক্টোবর দেওয়া আদেশে মজুত ও বোতলজাতকরণ চার্জ, পরিবেশক চার্জ বাড়ানো হয়। পাশাপাশি ১২ কেজি সিলিন্ডারে কমিশন বাড়ানো হয় ৮১ টাকা। এতে করেও দাম বাড়ে এলপিজির।

তৃতীয় গণশুনানি: ১৩৯ টাকা বাড়ানোর সুপারিশ

সর্বশেষ চলতি বছরের ২৯ অক্টোবর এলপিজির বিভিন্ন পর্যায়ের চার্জ পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে তৃতীয় গণশুনানি করে বিইআরসি। এতে অপারেটর, ডিস্ট্রিবিউটর ও খুচরা বিক্রেতাদের চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়।

কোম্পানিগুলো বোতলজাতকরণ চার্জ প্রতি কেজিতে ১৫ থেকে ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ থেকে ৩০ টাকা করার প্রস্তাব দেয়। ডিস্ট্রিবিউটরদের চার্জ ৪ টাকা ১৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৩ পয়সা এবং খুচরা বিক্রেতাদের চার্জ ৩ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়।

অন্যদিকে ডিস্ট্রিবিউটররা ১২ কেজির সিলিন্ডারে তাদের চার্জ ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা এবং খুচরা ব্যবসায়ীরা ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা করার প্রস্তাব দেন।

শুনানিতে এসব প্রস্তাব পর্যালোচনা করে বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা করার সুপারিশ করে। এতে সিলিন্ডারপ্রতি দাম বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে ১৩৯ টাকা। শুনানির পর কমিশন ২ নভেম্বর পর্যন্ত মতামত নেবে বলে জানা যায়। 
এদিকে সৌদি সিপির দামের ওপর নির্ভর করে প্রতি মাসে দাম সমন্বয় করে কমিশন। সৌদি সিপির সম্ভাব্য ঘোষণার একটি ধারণা অনুযায়ী, নভেম্বরে এলপিজির দাম টনপ্রতি ৭৬২ ডলার হতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রতি টনে দাম বাড়তে পারে ৪০ ডলার। সৌদি আরামকো সাধারণত মাসের শেষ কর্মদিবসে পরবর্তী মাসের এলপিজির সৌদি সিপি ঘোষণা করে। সেই হিসাবে আগামী শনিবার নভেম্বরের দাম ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে সৌদির। ফলে দেশে এই সপ্তাহেই দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিতে পারে বিইআরসি।

/এফআর/
সম্পর্কিত
কার্ডে দিচ্ছেন ২ হাজার আর গ্যাস-কারেন্ট বিল নিচ্ছেন ৫ হাজার টাকা বেশি: জামায়াত আমির
ইনানীতে গ্যাসের সঙ্গে বেরিয়ে আসছে তেলও, আগুন আরও কতদিন জ্বলবে
উখিয়ায় ১৪৪ ধারা জারি
সর্বশেষ খবর
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়ার বিবেচনা করছে সিরিয়া
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়ার বিবেচনা করছে সিরিয়া
কার্ডে দিচ্ছেন ২ হাজার আর গ্যাস-কারেন্ট বিল নিচ্ছেন ৫ হাজার টাকা বেশি: জামায়াত আমির
কার্ডে দিচ্ছেন ২ হাজার আর গ্যাস-কারেন্ট বিল নিচ্ছেন ৫ হাজার টাকা বেশি: জামায়াত আমির
৬ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক হ‌লো মিরপুর সড়ক, কারখানায় ভাঙচুর 
৬ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক হ‌লো মিরপুর সড়ক, কারখানায় ভাঙচুর 
টানা দুইবার ফল বিপর্যয়, শিখন ঘাটতি ও মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন
টানা দুইবার ফল বিপর্যয়, শিখন ঘাটতি ও মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন
সর্বাধিক পঠিত
এইচএসসিতে সাফা, ফারিণ থেকে হিমি: কে কত পেয়েছিলেন
এইচএসসিতে সাফা, ফারিণ থেকে হিমি: কে কত পেয়েছিলেন
লাগেজ কাটা-চুরি বন্ধে নতুন ব্যবস্থা: কতটা বদলালো শাহজালাল বিমানবন্দর
লাগেজ কাটা-চুরি বন্ধে নতুন ব্যবস্থা: কতটা বদলালো শাহজালাল বিমানবন্দর
কনস্টেবলের স্ত্রীর সঙ্গে ‘শারীরিক সম্পর্ক’, সেই এএসপি বাধ্যতামূলক অবসরে
কনস্টেবলের স্ত্রীর সঙ্গে ‘শারীরিক সম্পর্ক’, সেই এএসপি বাধ্যতামূলক অবসরে
পাসের হারে শীর্ষে কোন বোর্ড, তালানিতে কোনটি
পাসের হারে শীর্ষে কোন বোর্ড, তালানিতে কোনটি
এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ আজ
এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ আজ