গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘জনগণের ভালোবাসায় সরকারে এসে এখন যারা গণভোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করছেন, তাদের সিদ্ধান্ত জনগণ মেনে নেবে না। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। ক্রমান্বয়ে আন্দোলন শক্তশালী করা হবে। প্রয়োজনে খুলনা থেকে ঢাকায় যাওয়ার ডাক দেওয়া হলে সবাই যাবেন।’
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকালে খুলনার ঐতিহাসিক শিববাড়ি মোড়ে সাত দফা দাবিতে আয়োজিত ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, যারা নির্বাচনের আগে বলেছিলেন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে তা বাস্তবায়ন করবেন, তারা ইঞ্জিনিয়ারিং করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর এখন বলছেন গণভোট মানেন না। ৭০ ভাগ ভোটার গণভোটের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলেছেন। সংসদে দাঁড়িয়ে তারা বলেছেন, তারা ওসব মেনে নিয়েছিলেন, ভোটটা যেন কোনও অবস্থায় বিলম্বিত না হয়। অর্থাৎ তাদের গদিতে বসা যেন দেরি না হয়। এখন গদি পেয়ে গেছেন, গণভোটের বিষয়ে আর কোনও কথা নেই।
বর্তমান সরকার কিছু কার্ড বিতরণ ছাড়া কিছুই করেনি বলে মন্তব্য করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘কার্ডে দিচ্ছেন এক হাজার, দেড় হাজার, দুই হাজার, আড়াই হাজার টাকা। আর শুধু গ্যাস বিল, কারেন্ট বিল থেকে আমাদের কাছ থেকে বেশি নিয়ে নিচ্ছেন প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা। এরপরও গ্যাস দিতে পারেন না, কিন্তু বিল তো দিতে হয়। কারেন্টে ভুতুড়ে বিল আসে। এগুলোর মাধ্যমে জাতির অর্থকে ডাকাতি করা হচ্ছে।’
সার সংকটের পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘কৃষক সার পায় না, পাবে কেমনে? নতুন করে উনারা ডিলার নিয়োগ দিচ্ছেন ২০-২৫, ৩০ লাখ, ৫০ লাখ, ১ কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে। এটা নিয়ে হইচই হচ্ছে, আবার নিজেদের মধ্যে খাবলাখাবলি হচ্ছে। জীবন চলে যাচ্ছে, কিন্তু কৃষক তো সার পায় না। আমরা এই দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছি। আমরা নেমেছি আমাদের প্রাণপ্রিয় হাদিসহ সাড়ে ১৫ বছর বিশেষ করে জুলাইতে, যাদের খুন করা হয়েছে; তাদের খুনিদের বিচারের দাবিতে।’
আন্দোলনে নামার কারণ জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘চাঁদাবাজদের জ্বালায় অতিষ্ঠ জাতিকে চাঁদার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য, জনগণের টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার শুরু হয়েছে, এই লুটপাট ঠেকিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা রাস্তায় নেমেছি। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতে হবে। পরিষ্কার বার্তা এবার বাস্তবায়ন হবে। বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন কর্মসূচি একটার পর একটা, শক্ত থেকে মহাশক্তের দিকে যাবে। প্রয়োজনে এক দফার ডাক দেওয়া হবে। এ জন্য গ্রামবাংলার প্রতিটি ঘর থেকে সবাইকে ঢাকায় গিয়ে হাজির হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। যত দিন পর্যন্ত একটা শোষণমুক্ত, বৈষম্যমুক্ত, সাম্যের বাংলাদেশ, মানবিক বাংলাদেশ হিসেবে গঠিত না হবে, আমাদের আন্দোলন চলবে ইনশাআল্লাহ।’
১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটি খুলনার আহ্বায়ক ও খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলালের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। এ ছাড়া বক্তব্য দেন এনসিপি, এবি পার্টি, জাগপা, লেবার পার্টি, ছাত্রশিবিরসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।