X
রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২
১৬ আশ্বিন ১৪২৯

ঘুরে ফিরে সূচক ৭ হাজারের ঘরেই

গোলাম মওলা
০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৯:৪২আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৯:৪২

২০১০ সালে বিপর্যয়ের পর শেয়ার বাজার ঘুরে দাঁড়ালেও সূচক ৭ হাজারের ঘর অতিক্রম করতে পারছে না দেশের পুঁজিবাজার। এ জন্য অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বেশকিছু পদক্ষেপকে দায়ী করা হয়। যদিও গত বছরের আগস্ট মাসে ধারণা করা হচ্ছিল, অচিরেই দেশের প্রধান শেয়ার বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৮ হাজার ছাড়িয়ে যাবে। ওই মাসে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীদের জন্য সর্বোচ্চ ঋণসীমার পরিধি বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-বিএসইসি’র নতুন আদেশে বলা হয়, প্রধান শেয়ার বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৮ হাজার পয়েন্টে না যাওয়া পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে ১০০ টাকার বিনিয়োগের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৮০ টাকার ঋণসুবিধা বহাল থাকবে। অবশ্য বিএসইসি’র চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত–উল ইসলামের নেতৃত্বাধীন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা দেয় বলে বাজার বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসি’র মধ্যকার বিদ্যমান দূরত্ব এই বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

টানা ৫ মাস সূচক ৭ হাজারের ঘরে বন্দি

তথ্য বলছে, পুঁজিবাজারে ২০১০ সালে বিপর্যয়ের পর ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাত হাজারের নিচে নেমে আসে সূচক। সব শেষ ২০১১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ডিএসই’র প্রধান সূচক ছিল ৭ হাজার ১২৫ পয়েন্ট। এর প্রায় ১০ বছর পর অর্থাৎ ২০২১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ৭ হাজার পয়েন্টের মাইলফলক ছাড়িয়ে যায় প্রধান শেয়ার বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স।

এর পর ৫ মাস অতিবাহিত হলেও ঘুরে ফিরে সূচক ৭ হাজারের ঘরেই আবদ্ধ রয়েছে। ডিএসই’র এই ডিএসইএক্স সূচকটি চালু হয়েছিল ২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি। এরপর গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর তা ৭ হাজার পয়েন্টের ঘর ছাড়িয়ে গেলেও দীর্ঘদিন ছয় হাজারের ঘরে অবস্থান করে।

তবে গত সপ্তাহের চতুর্থ দিন বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) আবারও সূচক ৭ হাজার ১৬ দশমিক ৭৬ পয়েন্টে এসে দাঁড়ায়। আর সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টার কিছু সময় আগে ৬ হাজার ৯৯৬ পয়েন্টে নেমে আসে সূচক। তবে শেষ আড়াই ঘণ্টায় সেখান থেকে বেড়ে সূচক দাঁড়ায় ৭ হাজার ২৩ পয়েন্টে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজারে উত্থান-পতনের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছেন। দেখা যাচ্ছে, নতুন বছর ২০২২ সালের প্রথম তিন সপ্তাহ ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর শেষ দুই সপ্তাহ দেশের শেয়ার বাজারে টানা দরপতন হয়েছে। এতে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রধান শেয়ার বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন কমেছে তিন হাজার কোটি টাকার ওপরে। অবশ্য আগের তিন সপ্তাহের উত্থানে ডিএসইর বাজার মূলধন ২৩ হাজার কোটি টাকার ওপরে বেড়ে ছিল।

এক সপ্তাহে মূলধন কমেছে ৬৮৪ কোটি টাকা

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী,  গেল সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৬২ হাজার ২১৮ কোটি টাকা, যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৫ লাখ ৬২ হাজার ৯০২ কোটি টাকা। অর্থাৎ গেল সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ৬৮৪ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহে কমে ২ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা। এ হিসাবে দুই সপ্তাহে বাজার মূলধন কমলো ৩ হাজার ১৭ কোটি টাকা। এর আগে বছরের প্রথম তিন সপ্তাহে বাজার মূলধন বেড়েছিল ২৩ হাজার ৩৯ কোটি টাকা।

বাজার মূলধন কমলেও গেল সপ্তাহে ডিএসইতে যে কয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, কমেছে তার থেকে কম। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে।  দাম কমেছে ১৬৬টির। আর ৩৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এক সপ্তাহে প্রধান মূল্যসূচক কমেছে ৪ দশমিক শূন্য ৩ পয়েন্ট

গত সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৪ দশমিক শূন্য ৩ পয়েন্ট। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমেছিল ৭৮ দশমিক ১৪ পয়েন্ট। নতুন বছরের প্রথম তিন সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক বেড়েছিল ৩৪৯ দশমিক শূন্য ৩ পয়েন্ট।

তথ্য বলছে,  প্রধান মূল্যসূচকের পাশাপাশি ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচকও কমেছে। গত সপ্তাহজুড়ে এই সূচকটি কমেছে ১০ পয়েন্ট। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমেছিল ৩৩ দশমিক শূন্য ৪ পয়েন্ট। নতুন বছরের প্রথম তিন সপ্তাহে সূচকটি বেড়েছিল ১০২ দশমিক ৮০ পয়েন্ট।

এদিকে গত সপ্তাহে প্রধান মূল্যসূচক ও ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত বাছাই করা সূচক কমলেও বেড়েছে ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক। গত সপ্তাহে এই সূচকটি বেড়েছে ৪ দশমিক ২৭ পয়েন্ট। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমেছিল ৮ দশমিক ৪২ পয়েন্ট।

তথ্য বলছে, গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২৮৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ২২৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন বেড়েছে ৫৫ কোটি ৯২ লাখ টাকা ।

দেখা যাচ্ছে, গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৬ হাজার ৪২৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৬ হাজার ১৪৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪৫০ কোটি ২৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। লেনদেনে দ্বিতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের শেয়ার হাতবদল হয়েছে ২৯৭ কোটি ১৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। ১৮৪ কোটি ৫৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইউনিয়ন ব্যাংক।

 

/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
আবারও পতনের ধারায় ফিরলো শেয়ার বাজার
আবারও পতনের ধারায় ফিরলো শেয়ার বাজার
সাকিবের বাবার নাম ভুল, দায় কার?
সাকিবের বাবার নাম ভুল, দায় কার?
প্রত্যাহার হতে পারেন ডেল্টা লাইফের প্রশাসক
প্রত্যাহার হতে পারেন ডেল্টা লাইফের প্রশাসক
এক পরিপত্রের রেশ শেয়ার বাজারে
এক পরিপত্রের রেশ শেয়ার বাজারে
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
পদ্মা সেতুর আদলে সেজেছে পূজামণ্ডপ 
পদ্মা সেতুর আদলে সেজেছে পূজামণ্ডপ 
শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে চোরচক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার
শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে চোরচক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার
‘মানবাধিকারকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র’
‘মানবাধিকারকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র’
গান নকলের অভিযোগে ১০০ মিলিয়ন ডলারের মামলা
গান নকলের অভিযোগে ১০০ মিলিয়ন ডলারের মামলা
এ বিভাগের সর্বশেষ
আবারও পতনের ধারায় ফিরলো শেয়ার বাজার
আবারও পতনের ধারায় ফিরলো শেয়ার বাজার
সাকিবের বাবার নাম ভুল, দায় কার?
সাকিবের বাবার নাম ভুল, দায় কার?
প্রত্যাহার হতে পারেন ডেল্টা লাইফের প্রশাসক
প্রত্যাহার হতে পারেন ডেল্টা লাইফের প্রশাসক
এক পরিপত্রের রেশ শেয়ার বাজারে
এক পরিপত্রের রেশ শেয়ার বাজারে
শেয়ার বাজার কারসাজির প্রতিবেদনে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের নাম
শেয়ার বাজার কারসাজির প্রতিবেদনে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের নাম