সেকশনস

আগস্ট ১৪: নির্মাণের পেছনের গল্প

‘আমরা কারিনার ক্লিভেজ মুগ্ধ হয়ে দেখি আর মমকে দেখে গালি দেই!’

আপডেট : ১৫ জুন ২০২০, ২২:২৯

আলাপের পরিকল্পনা ছিল মাত্র ৫ মিনিট। রবিবার বেলা সাড়ে ১২টায় ফোন ধরেই হেসে দিলেন। বললেন, ‘রান্না করছিলাম। শেষের দিকে। কথা বলতে সমস্যা নেই। চলুন শুরু করি।’ এরপর টানা ৪২ মিনিট বাংলা ট্রিবিউন-এর সঙ্গে কথা বললেন সময়ের আলোচিত নির্মাতা শিহাব শাহীন।

আলাপচারিতায় উঠে এলো ‘আগস্ট ১৪’ নির্মাণের পুরো গল্প। কথা প্রসঙ্গে এসেছে শ্লীল-অশ্লীল দৃশ্য আর আইনি নোটিশও। আলাপে বাদ পড়েনি যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ঐশীর বর্তমান। মোদ্দা কথা, এই আলাপের চেষ্টা ছিল পুরো সিরিজটির বিহাইন্ড দ্য সিন তুলে আনার। আগষ্ট ১৪: বিহাইন্ড দ্য সিন

বাংলা ট্রিবিউন: কেমন উপভোগ করছেন, চারপাশ থেকে এত ঢেউ! এতটা নিশ্চয়ই আশা করেননি?

শিহাব শাহীন: বলতে দ্বিধা নেই, আশা করিনি। ভাবনার অতীত একটা মর্যাদা পাচ্ছি। আমরা কেউই এভাবে ভাবিনি। উল্টো খুব ভয়ে ভয়ে ছিলাম!

বাংলা ট্রিবিউন: কোনও নির্মাণ বা অভিনয় নিয়ে সতীর্থদের কাছ থেকে এমন প্রশংসার জোয়ার সোশ্যাল মিডিয়ায় ওঠেনি আগে। সম্ভবত ‘মনপুরা’, ‘আয়নাবাজি’, ‘বড় ছেলে’, ‘ঢাকা অ্যাটাক’-এর বেলায়ও না।

শিহাব শাহীন: হতে পারে। আমিও তো একজীবনে অনেক কাজ করেছি। এর মধ্যে অনেক কাজই জনপ্রিয়তা পেয়েছে। প্রশংসাও করেছে মানুষ। কিন্তু সহকর্মীদের কাছ থেকে এমন প্রশংসা পাইনি কখনও। এজন্যই বেশি আপ্লুত আমি। আমার সহকর্মীরা, যারা কাজটা সত্যিই বোঝেন তারা অকুণ্ঠচিত্তে প্রকাশ্যে যে প্রশংসাটা করছেন তা সত্যিই আবেগ ছুঁয়ে যাওয়ার মতো। তারা চাইলেই ইনবক্সে বা ফোনে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানাতে পারতেন। কিন্তু তা না করে পাবলিক পোস্ট দিয়ে প্রশংসা করছেন সবাই। আমি কৃতজ্ঞ সবার প্রতি।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনার ঘরেও একজন শিল্পী রয়েছেন। দেশের অন্যতম অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম। তিনি নিশ্চয়ই সবার মতো প্রশংসার জোয়ারে নিজেকে ভাসাননি। করেছেন চুলচেরা বিশ্লেষণ।

শিহাব শাহীন: অভিনেত্রী হিসেবে তার নিশ্চয়ই কিছু অভিমত রয়েছে। তবে অভিনেত্রী হিসেবে নয়, ও আমাকে স্বামী হিসেবেই মূল্যায়ন করছে। সিরিজটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পর থেকে প্রচুর ভালোমন্দ রান্না করে খাওয়াচ্ছে। যত্নটা একটু বেড়ে গেল আর কী! এ সিরিজ আলোচিত না হলে হয়তো এতটা আনন্দ তার মনে বা আমাদের ভেতর কাজ করতো না। কর্মহীন ঘরবন্দি জীবনে এই সাফল্যটা আমাদের জন্য সত্যিই অসাধারণ একটা উপলক্ষ্য এনে দিয়েছে।

শিহাব শাহীন/ ছবি: জাকিয়া বারী মম বাংলা ট্রিবিউন: কিন্তু এমন প্রশ্ন কি সংসারে ওঠেনি বা ওঠার চেষ্টা হয়নি— তুশি চরিত্রে মম নয় কেন? মম নিজেও কি ভাবেননি, চরিত্রটি চাইলেই তিনি করতে পারতেন।

শিহাব শাহীন: না-না। একদমই না। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এমন কোনও প্রেক্ষাপটই তৈরি হয়নি আমাদের ভেতর। কারণ, তুষি চরিত্রটা মমর জন্য নয়। চাইলে তো সেটা সম্ভবই ছিল। কিন্তু নিজের সৃষ্টির প্রতি নির্মোহ থাকলে এবং সত্যিকারের শিল্পী বা ক্রিয়েটর হলে এসব ঘরোয়া বিষয় বড় হয়ে দাঁড়ায় না। বরং আমরা দু’জনেই দিনরাত এই চরিত্রটি চূড়ান্ত হওয়ার আগে গবেষণা করেছি। আমরা চেয়েছি বাস্তবের চরিত্রটির (ঐশী) অবয়ব, উচ্চতা, ওজন আর জীবন-অভিজ্ঞতার দিকে জোর দিতে। ফলে সেখানে মম যায় না। বরং মমই সুপারিশ করেছে তাসনুভা তিশার নাম। ফলে স্ত্রী নয়, এখানে আমি আরও একবার সত্যিকারের শিল্পীর খোঁজ পেয়েছি মমর ভেতর।

বাংলা ট্রিবিউন: ২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। অনেকে হয়তো গত সাত বছরে তা ভুলেও গেছেন। আপনার মধ্যে গল্পটা ঢুকলো কেমন করে! তাছাড়া বিষয়টি তো যথেষ্ট স্পর্শকাতর।

শিহাব শাহীন: গত বছর ফেব্রুয়ারি-মার্চ হবে। নতুন অ্যাপ ‘বিঞ্জ’ থেকে আমাকে ডেকে সত্যি জীবনের ঘটনা নিয়ে একটা কিছু করার জন্য বললো। তখন অনেকের সঙ্গে আলাপের মধ্য দিয়ে এই ঘটনা নির্ধারণ করি।

বাংলা ট্রিবিউন: এমন আরও অসংখ্য ঘটনা রয়েছে। শুরুতে অন্য কিছু নিয়ে ভেবেছিলেন? আবারও বলছি, বিভিন্ন কারণে বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। অন্যতম বিষয় হলো, এটি একটি ডিফেন্স পরিবারের ঘটনা।

শিহাব শাহীন: শুরুতে ভেবেছি তো অনেক কিছুই। কিন্তু আমার প্রথম লক্ষ্য ছিল এটাই করার। কারণ, এর মধ্য দিয়ে এই শহর, সমাজ, সংসারকে অনেক বার্তা দিতে পারবো মনে হয়েছে। যে বার্তাগুলো প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছানো খুব জরুরি অনুভব করছি।
আমার মনে হয়েছে, ঐশীর ঘটনাটি নির্মোহভাবে পর্দায় তুলে ধরতে পারলে আমাদের বাবা-মা ও সন্তানেরা নিজেদের জীবন নিয়ে হয়তো সচেতন হবেন। স্বস্তির বিষয়, আমার প্রস্তাবটি বিঞ্জ গ্রহণ করে নেয়। কিন্তু এরপরেও ঝুঁকি ছিল। কারণ, এর আগে এমন ঘটনা এদেশে ঘটেনি। এমন সিরিজও আগে হয়নি। ফলে যথাযথভাবে সেটি তুলে আনা কঠিন কাজ ছিল।

বাংলা ট্রিবিউন: পুলিশ প্রশাসন কিংবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কিংবা পরিবারের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়ার বিষয় ছিল নিশ্চয়ই?

শিহাব শাহীন: অনুমতির বিষয় আসে যদি বায়োপিক করি। এটা তো বায়োপিক না। এটি একটি নির্দিষ্ট অপরাধের ওপর ভিত্তি করে একটি ঘটনার চিত্রায়ন। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অসংখ্য কাজ হয়েছে। আমরা তো এজন্য পাকিস্তানের অনুমতি চাইবো না। জঙ্গি হামলা নিয়ে কাজ করলে সন্ত্রাসীদের অনুমতি লাগে না।

বাংলা ট্রিবিউন: কিন্তু আপনার সিরিজ দেখে এটুকু স্পষ্ট, পুরো কাজটি প্রশাসন বা ডিবির পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতায় হয়েছে। যেমনটা এর আগে হয়েছিল ‘ঢাকা অ্যাটাক’ বা এখন যেভাবে তৈরি হচ্ছে ‘অপারেশন সুন্দরবন’।
শিহাব শাহীন: হ্যাঁ, এটা সত্যি। আমরা ডিবি থেকে যথেষ্ট সহযোগিতা পেয়েছি। আমি বলছিলাম আনুষ্ঠানিক অনুমতি বা কাগজপত্রের কথা। তেমন কিছু লাগেনি। এটা আমাদের সৌভাগ্য বটে। তারা সহযোগিতা বা সমর্থন না দিলে কাজটি যথাযথভাবে করা সম্ভব হতো না।

বাংলা ট্রিবিউন: সেটা কেমন সমর্থন? ডিবি নিশ্চয়ই এই সিরিজের পরিকল্পক বা প্রযোজক নন। চিত্রনাট্য আপনারই তৈরি।

শিহাব শাহীন: বলছি। আমরা প্রথমে কাজটির বিষয়ে ডিবির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আগ্রহ প্রকাশ করি। কারণ এই মামলাটি সমাধান করেছে ডিবি। তো সেখানে আমাদের শোবিজের প্রিয় মানুষ নির্মাতা-লেখক সানী সানোয়ারকে পাই। তাকে এ বিষয়ে বলার পর সাদরে গ্রহণ করেন। তিনিও একমত হন, এটা নিয়ে কাজ হওয়া দরকার। তিনিই আমাকে তখনকার কাউন্টার টেরোরিজমের প্রধান মনিরুল ইসলাম ভাইয়ের কাছে নিয়ে যান। কারণ, ২০১৩ সালের এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের তত্ত্বাবধানে ছিলেন মনির ভাই নিজেই। তিনিও কাজটির প্রতি আগ্রহ দেখান। প্রথমেই বেশ স্পষ্টভাবে আমাকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনি আসলে কী দেখাতে চান?’

তখন বলেছিলাম, আসলে নির্মোহভাবে পুরো ঘটনাটি হুবহু তুলে ধরতে চাই। এর মধ্যে দুটি বার্তা বাবা-মা ও সন্তান এই দুই প্রজন্মকে দিতে চাই। বাবা-মাকে বলতে চাই, বাচ্চার বয়ঃসন্ধিকালে তাদের পরিচর্যার প্রয়োজন রয়েছে। যেটা ঐশীর বেলায় অনুপস্থিত ছিল। হাইকোর্ট থেকেও বার্তাটি মামলায় রায়ে স্পষ্ট বলা হয়েছে। আরেকটি বার্তা দিতে চাই তরুণদের। তাদের বলতে চাই— সিগারেট ও পর্নোতে আসক্ত হবেন না। জীবনের চেয়ে এগুলো বড় নয়। এসবের পরিণতি এমন হতে পারে। সিরিজটি দেখলেও বুঝবেন, মূলত এই দুটি বার্তাই দিতে চেয়েছি।

আগষ্ট ১৪: বিহাইন্ড দ্য সিন বাংলা ট্রিবিউন: এটাকে কি ফিকশন বলবো নাকি নন-ফিকশন। কারণ চরিত্রগুলোর নাম বদলে গেছে। কিন্তু ঘটনাটি হুবহু তুলেছেন। এ নিয়ে লুকোচুরিও করছেন না, যা অনেকেই করে।

শিহাব শাহীন: সত্যি ঘটনায় অনুপ্রাণিত হয়ে কাজটি করেছি। ফলে নন-ফিকশন বলা যাবে না। কারণ মূল ঘটনাগুলো যখন ঘটে তখন তো সেটি ধারণ করিনি। পুরো ঘটনাটি গবেষণার পর রায়ের পর্যবেক্ষণ দেখে এবং তদন্ত কর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে সততার সঙ্গে পুরো চিত্রনাট্য সাজিয়েছি।

বাংলা ট্রিবিউন: তাহলে কি ধরে নেওয়া যায়— সিরিজে যা যা দেখা যায় সবটুকুই বাস্তব। নাকি দর্শক ধরার জন্য কিছু মসলা যুক্ত বা বিযুক্ত করা হয়েছে?

শিহাব শাহীন: যতদূর সম্ভব আমরা বাস্তব ঘটনা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। কারণ মামলার চার্জশিট ও হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের কপি সামনে রেখে আমার চিত্রনাট্য তৈরি হয়েছে। একটা চার্জশিট ও রায়ের কপি হাতে পেলে কিন্তু যেকোনও ঘটনার পুরো চিত্র আগাগোড়া স্পষ্ট হয়ে যায়। এর বাইরে যারা এই ঘটনা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তদন্ত করেছেন, তাদের কাছ থেকে আমরা অন রেকর্ড ও অফ রেকর্ড প্রচুর তথ্য নিয়েছি।

এরপর সেই সময়ের (২০১৩) দুটি দৈনিকের প্রতিদিনের প্রতিটি খবর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়েছি। রীতিমতো এই ঘটনার পুরোটাই আমার মগজে ভিজ্যুয়াল ছিল। মূলত সেটাই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি ক্যামেরায়। মানে আমাকে মোটেও আলাদা কিছু ভাবতে হয়নি। মূলত নতুন করে গল্প ফাঁদা বা নাটকীয়তা সৃষ্টির প্রয়োজন পড়েনি। এটা ঠিক যে, গল্পটা বলার ধরন আমি নিজের মতো করেছি। ফলে ফিকশন হলেও সেটার মূলে আছে নন-ফিকশন।

বাংলা ট্রিবিউন: যদি আরেকটু নির্দিষ্ট করে জানতে চাই, তুশির বাসার গেটের চাবিওয়ালার ঘটনা। সেটাও কি সত্যি? না কল্পনাপ্রসূত!

শিহাব শাহীন: হ্যাঁ, সেটাও সত্যি ঘটনা। তদন্ত কর্মকর্তাদের সূত্রে সেই তথ্য পেয়েছি। না পেলে তো ঐ চরিত্রটি দিতাম ড্রাইভার, কাজিন বা দারোয়ানকে। চাবিওয়ালার বিষয়টি মাথাতেই আসতো না। তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এমন আরও কিছু অব দ্য রেকর্ড তথ্য পেয়েছি আমরা।

শিহাব শাহীন/ ছবি: জাকিয়া বারী মম বাংলা ট্রিবিউন: একটা লক্ষ্যণীয় বিষয়, পুরো সিরিজে তুশিকে নেশাগ্রস্ত মনে হলেও সে নেশা করেনি। সম্ভবত দুই-তিনটি সিগারেট টানতে দেখা গেছে। বেশিরভাগ সময় সে নিজের ঘরে বন্দি ছিল আর রিমান্ডে। বরং নেশার চেয়ে তাকে পর্নোতে আসক্ত দেখানো হয়েছে। এটা কি ওয়েব সিরিজের প্রচলিত রগরগে টোন ধরবার চেষ্টা! কারণ ঐশীর ঘটনাটির পেছনে সবাই জেনেছে নেশা।

শিহাব শাহীন: খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট। খুবই। এই বিষয়টির ব্যাখ্যা আসলেই প্রয়োজন। আমার জন্য নয়। সবার জন্য। সন্তানদের জন্য।
চিত্রনাট্যটি সাজানোর জন্য হাইকোর্টের রায়ের কপি সংগ্রহ করেছি। কারণ, এই গল্পে সৎ থাকবো। রায়ে কৌতূহল জাগানিয়া ও খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন সম্মানিত বিচারক। এতে বলা হয়েছে, মেয়েটি যখন বাবা-মাকে খুন করে তখন সে নেশাগ্রস্ত ছিল না। তারও অনেকদিন আগে থেকে সে ঘরবন্দি স্বাভাবিক জীবনে ছিল। শুধু বাইরে যাওয়ার অনুমতি ছিল না।
রায়ে বলা হয়েছে, মেয়েটি মূলত মানসিক অবসাদে ভুগছিল। সেটা একজন মানুষের মধ্যে যেকোনও কারণেই হতে পারে। বাবা-মায়ের ব্যস্ততা, ঝগড়া, পড়াশোনায় রেজাল্ট খারাপ; এমন অসংখ্য কারণেই হতে পারে। নেশা তার মধ্যে একটি অংশ মাত্র। তাই নেশার চেয়েও মানসিক রোগকে একটু ফোকাস করার চেষ্টা ছিল আমার। কারণ, নেশা অনেকেই করে। বাবা-মা তাদের নিবৃত করে। বাধা দেয়। শাসন করে। মারে। ঘর থেকে বের করে দেয়। পুলিশেও দেয়। রিহ্যাবে পাঠায়। এটা প্রতিনিয়ত হয়। কিন্তু কয়টি ছেলেমেয়ে তার বাবা-মাকে কুপিয়ে হত্যা করে? তার মানে এখানে নেশাই শুধু দায়ী নয়, মানসিক অসুস্থতা ছিল মেয়েটির। আমরা বোধহয় সেদিকটায় খুব বেশি খেয়াল ২০১৩ সালে দিইনি। পুরো কাজটি গবেষণা করে যখন চিত্রনাট্য লিখতে বসেছি, তখন আমার মনে হলো— ঐশীর এই সাইকিক বা খুনি প্রবৃত্তিটাকে তুলে ধরা দরকার। কারণ, এটাই পুরো ঘটনার মূল কারণ।
দেখবেন, খুন হওয়ার পর থেকে ঐশী মাত্র তিনটি সিগারেট পান করতে পেরেছে। মাঝের পুরোটা সময় সে কোনও নেশার সঙ্গে ছিল না। খুন করার আগেও সে বাসায় বন্দি ছিল। তবুও সে ঠাণ্ডা মাথায় খুন করলো। বের হলো। থানায় এলো। রিমান্ডে সে মনোবল ধরে রেখেছিল পুরোটা সময়। তার মানে তার ভেতরে একটা খুনি লুকিয়ে ছিল। ঐশীর ঘটনা এটাই। শুধু নেশা নয়।

বাংলা ট্রিবিউন: পুরা সিরিজে তুশির গায়ে একটাই পোশাক। ফ্ল্যাশব্যাক ছাড়া।

শিহাব শাহীন: সে যে পোশাকে বেরিয়েছে, সেটা বদলানোর সুযোগ পায়নি। ওই পোশাকেই সে আত্মসমর্পণ করে। সারাক্ষণ সে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল।

বাংলা ট্রিবিউন: কিন্তু পুলিশ হেফাজতে যাওয়ার পর, ৫-৭দিন থাকার পরেও…! এর মধ্যে আদালতেও হাজিরা দিয়েছে। রোজ টিভি খুললে তো দেখা যায় আসামিদের গায়ে নতুন জামা-জুতো!

শিহাব শাহীন: হয়তো থাকে। এ বিষয়ে আইনজীবীদের জিজ্ঞেস করেছিলাম। তখন তারা বললেন, রিমান্ডে থাকার সময় এত সুবিধা দেওয়া হয় না। এটা জেলখানায় হতে পারে। তারা এটাও বললেন, রিমান্ডে ঐশীকে কিন্তু মারা হয়নি। খারাপ ব্যবহারও করা হয়নি। কারণ, ঐশীকে সংশ্লিষ্টরা আসামির চেয়ে নিজেদের সন্তান হিসেবে দেখার চেষ্টা করেছে শেষ পর্যন্ত। অনুসন্ধানে যা পেয়েছি সেটাই দেখানোর চেষ্টা করেছি।
বাংলা ট্রিবিউন: সবাই আপনার আর তিশার প্রশংসা করছে! কিন্তু আপনার টিমে আরেকজন অসাধারণ অভিনেতা ছিলেন— শতাব্দী ওয়াদুদ। দেশের দুই-চারজন অসাধারণ বৈচিত্র্যময় অভিনেতাদের একজন তিনি। অনেকেই বলছেন, সিরিজের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হলো তারটি। কিন্তু তার অভিনয় গুণের সদ্ব্যবহার হয়নি।
শিহাব শাহীন: আমার তা একবারও মনে হয়নি। তার কাছ থেকে যা চেয়েছি, তার চেয়েও বেশি পেয়েছি। তবে আপনি বা সমালোচকরা যা বলতে চাইছেন, সেটা সম্ভবত ধরতে পেরেছি। দর্শক চেয়েছিল, পুলিশ অফিসার বা ডিবি অফিসার হিসেবে আরেকটু তেজোদ্দীপ্ত, মেজাজি বা ভিলেন টাইপের কিছু! এটা আমাদের ভুল ধারণা। আমারও এই ধারণা ছিল। কিন্তু কাজটি করার সুবাদে বহুবার ডিবি অফিসে গিয়েছি। তাদের সঙ্গে লম্বা সময় কথা বলেছি। ফলে তাদের ব্যক্তিজীবন দেখার সুযোগ হয়েছে।

এসব দেখে আমার মনে হয়েছে, এই মানুষগুলো আমাদের আট-দশজনের মতোই সাধারণ। তাদের প্রত্যেকের জীবন খুবই সাদামাটা। হ্যাঁ, তরাই কোনও অপারেশনে গেলে পুরো অন্য মানুষ হয়ে যান। আমি সেই বাস্তব বিষয়টা দেখানোর চেষ্টা করেছি। সেজন্যই হয়তো ডিবি অফিসার শতাব্দীকে ফ্যান্টাসির মধ্যে নিইনি। উল্টো এই চরিত্রের মাধ্যমে সমান্তরালভাবে দুটি পুলিশ পরিবারের সংকট দেখাতে চেয়েছি। ঐশীর বাবাও পুলিশ অফিসার ছিলেন, শতাব্দীর ঘরেও একটা ফুটফুটে মেয়ে আছে। সব মিলিয়ে বাবা ও পুলিশ অফিসারের ত্যাগ দেখানোর চেষ্টা ছিল।

আগষ্ট ১৪: তুশি বাংলা ট্রিবিউন: তা ঠিক, শেষ দৃশ্য পর্যন্ত সেটাই প্রমাণ করে। সবচেয়ে বড় সত্যি, সিরিজটি এখন সুপারহিট। এই সাফল্যের ঢেউ গুনতে গুনতে নিজের মূল্যায়ন করেছেন? মানে এভাবে না করে ওভাবে করলে আরও ভালো হতো, এগুলো।

শিহাব শাহীন: হ্যাঁ, করেছি। প্রশংসার ঢেউয়ে ভেসে গেলে তো চলবে না। এমন ঢেউ জীবনে অনেকবার এসেছে। সিরিজটি নিয়ে নিজের মূল্যায়ন হলো, অ্যাকশন দৃশ্যগুলো মনের মতো করতে পারিনি। এটা একটা অপূর্ণতা। কেননা এজন্য যত সময় ও অর্থ দরকার ছিল তা মেলেনি। তাই অপারেশন দৃশ্যগুলো একরাতের মধ্যেই তাড়াহুড়ো নিয়ে করেছি। আরও সময় নিয়ে পুরো কাজটি করতে পারলে আরও ভালো ফল পেতাম। এর মূল কারণ বাজেট স্বল্পতা।

বাংলা ট্রিবিউন: এখানেও একই অজুহাত— বাজেট ঘাটতি! অথচ বেশিরভাগ সমালোচকই ধরে নিয়েছেন বাজেট অগুনতি! যেটা পেলে পাড়ার বখাটে ছেলেটিও এমন চমক দেখাতে পারে! এটা কথার কথা। কারণ, নতুন অ্যাপ। নতুন অ্যাডভেঞ্চার ছিল। বাজেট স্বল্পতার গল্প এখানে কেন!

শিহাব শাহীন: সত্যি গল্পের পেছনের গল্পটাও সত্যি বলতে হয়। এখানে লুকানোর কিছু নেই। বাজেট স্বল্পতার মধ্য দিয়েই পুরো কাজটি করতে হয়েছে। আমরা সাধারণত টিভির জন্য যেভাবে টেলিফিল্ম করি, তেমন তিন-চারটির বাজেট ছিল এই ছয় পর্বের জন্য। তবুও কাজটি এত মজবুত বা বাস্তবিক করতে পারার কারণ একটাই— সবাই যার যার অবস্থান থেকে ছাড় দিয়েছেন। কারণ স্ক্রিপ্ট পছন্দ হয়েছে, আমার ওপর তারা আস্থা পেয়েছেন। তাসনুভা তিশা, যার অভিনয়ে সবাই মুগ্ধ, যার জন্য এত এত প্রশংসা পাচ্ছি, সেই তিশাকেই পর্যাপ্ত সম্মানি দিতে পারিনি। এটা আমার জন্য সত্যিই বেদনার।

বাংলা ট্রিবিউন: শুটিং কবে করেছেন?

শিহাব শাহীন: গত বছরের আগস্টে। ১৬ দিন শুটিং করেছি।

বাংলা ট্রিবিউন: নাম কেন ‘আগস্ট ১৪’? ’১৪ আগস্ট’ কেন নয়!

শিহাব শাহীন: ১৫ আগস্ট আমাদের জাতীয় শোক দিবস। ভেবে দেখলাম, সিরিজের নাম যদি ’১৪ আগস্ট’ রাখি তাহলে একটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে। তাছাড়া আমার নিজের কাছে অস্বস্তি লাগছিল। ১৫ আগস্টের বেদনার সঙ্গে তো আসলে পৃথিবীর আর কোনও বেদনার রঙ মিলবে না। সেই ভাবনা থেকে একটু উল্টে রাখি নামটা— আগস্ট ১৪।

বাংলা ট্রিবিউন: কিন্তু আপনি ১৫ আগস্ট-এর বেদনাটাকেও খানিক তুলে ধরেছেন সিরিজটিতে। যে দৃশ্যের আয়ু কয়েক সেকেন্ড মাত্র। অথচ অনেক গভীর। ব্যাকগ্রাউন্ডে বঙ্গবন্ধুর বজ্রকণ্ঠ, দৃশ্যে ১৫ আগস্ট খুন হওয়া তার পরিবারের সদস্যদের ব্যানার। সামনে তাসনুভা তিশার উদ্ভ্রান্ত দৃষ্টি! 

শিহাব শাহীন: ধন্যবাদ। আমি বিশ্বাস করি, এমন সুক্ষ্ম সুক্ষ্ম অনেক বিষয় মিলিয়েই একটা ভালো কাজের জন্ম হয়। আজীবন সেই চেষ্টাটাই করেছি।

আগষ্ট ১৪: বিহাইন্ড দ্য সিন বাংলা ট্রিবিউন: সিরিজের তুশি, মানে বাস্তবের ঐশী। এটাই মূল চরিত্র। তো এজন্য আরেকটু জনপ্রিয় মুখ চাইলেই নিতে পারতেন। সেটা না করে তিশাকে নেওয়ার যুক্তি কী? এটাও কি বাজেট স্বল্পতা!

শিহাব শাহীন: মূল চরিত্রের বিষয়ে আমি বরাবরই কঠিন মানুষ। এটা আমার নিখুঁত হওয়া চাই। আগেই বলেছি, তাসনুভা তিশাকে প্রথমে পছন্দ করেছে মম। তবে তার আগে আমাদের পছন্দ ছিল প্রসূন আজাদ। সে বললো, ‘ভাইয়া আমাকে তো এখন বাস্তবে দেখেননি। আমি আসলে কাজ করার পরিস্থিতিতে নেই।’ মানে সে অনেক মুটিয়ে গেছে। অর্থাৎ ঐশীর মতো নেই।

এরপর তো তাসনুভা তিশাকে বেছে নিলাম। তবে মম বলেছে, সেজন্য নয়। উচ্চতা, ওজন, চেহারা— হিসেবটা পুরোপুরি মিলে গেছে ঐশীর সঙ্গে। সবচেয়ে বড় বিষয়, ঐশীর জীবনের মতো এমন একটা জীবন খুব কাছ থেকে দেখেছে তিশা। সে মোটামুটি জানে, এই জীবনটা কেমন হয়। সেটা মিলে যাওয়ার পর তো কথাই নেই, চূড়ান্ত! এরপর সিরিজ জুড়ে তিশা আমাকে যেভাবে সহযোগিতা করেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

বাংলা ট্রিবিউন: সিরিজটি হিট হওয়ার পর ‘আগস্ট ১৪’ শিল্পীদের প্রতিক্রিয়া কেমন পেলেন? মানে তাদের অভিব্যক্তি কী!

শিহাব শাহীন: সবাই তো ঘরবন্দি। ফলে দেখা-সাক্ষাতের সুযোগ নেই। সবাই উচ্ছ্বসিত। জীবনে আর অভিনয় না করলেও হবে— তিশা এমন প্রতিক্রিয়াও পাচ্ছে। শতাব্দীও পাচ্ছেন। তাদের জন্য বেশি প্রাপ্তি হলো দেশের বিখ্যাত সব নির্মাতা-শিল্পীরা প্রকাশ্যে প্রশংসা করছেন। গিয়াসউদ্দিন সেলিম, অনিমেষ আইচ, অমিতাভ রেজা, দীপঙ্কর দীপন…। এই মানুষগুলো যখন একজন শিল্পীর বা একটা প্রজেক্টের নির্মোহ প্রশংসা করেন, এর চেয়ে বড় অ্যাওয়ার্ড তো আর হতে পারে না। আমার বেলাতেও এটা একই অনুভূতির।

বাংলা ট্রিবিউন: সমালোচনার সলতেটাও জ্বলছে কিন্তু। ‘আগস্ট ১৪’সহ বিঞ্জ অ্যাপের অন্য দুই সিরিজ নিয়ে মিডিয়ার মানুষ ও দর্শকদের মধ্যে অশ্লীলতার তুমুল অভিযোগ রয়েছে। পেয়েছেন আইনি নোটিশও। সেটিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন কতখানি?

শিহাব শাহীন: অবশ্যই সেটির গুরুত্ব আছে আমার কাছে। আইনি নোটিশ যেটা পেয়েছি তার জবাব দেবেন আমাদের আইনজীবী। সরকারের পক্ষ থেকে কোনও নির্দেশনা এলে সেটি পালনের চেষ্টা করবো আমরা। নাগরিক হিসেবে যে কেউ সক্ষুব্ধ হয়ে এমন নোটিশ পাঠাতেই পারেন। এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। দেখুন আগেও কয়েকবার বলেছি, আমি যা করেছি সততার মধ্যে থেকে করেছি। এখানে ভেলকি ছিল না। হাইকোর্টের রায়, পুলিশি তদন্ত, পত্রিকার খবরসহ সব গবেষণা একত্র করে কাজটি করেছি। সেটা গেলো একটা অংশ।

অন্যদিকটি হলো, বিঞ্জ একটা পেইড ও রেস্ট্রিকটেড অ্যাপ। এটা আমাদের বুঝতে হবে। এখানে চাইলেই যে কেউ ঢুকতে পারবে না। এটা দেখতে হলে টাকা দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। তার মানে জেনে-বুঝে কাজটি দেখছে সবাই। সিরিজের শুরুতেই স্পষ্ট ভাষায় ডিসক্লেইমার দিয়েছি— এটি ১৮ বছরের ঊর্ধ্বের দর্শকদের জন্য। কারণ, এখানে শুধু প্রাপ্তবয়স্ক দৃশ্যই থাকবে তা নয়। এখানে হত্যার দৃশ্য আছে, রক্ত আছে, গালাগালি আছে; যেগুলো বাচ্চা বা অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নয়। এটাই হলো বিশ্বজুড়ে অ্যাপ কালচার বা অ্যাডাল্ট কনটেন্ট।

এরপরেও কেউ সেটা দেখবেন এবং বকাবাদ্যি করবেন, তা হবে কেন? অশ্লীল দৃশ্য নিয়ে সমালোচনা করছেন কিন্তু হত্যা, গালি বা নেশা নিয়ে কেউ আপত্তি করছে না। যত শোরগোল অ্যাডাল্ট দুই-একটি প্রাসঙ্গিক দৃশ্য নিয়ে। যেটা সিরিজটির গল্পের অন্যতম উপকরণ। আপনাকে আমি বললাম, এটা আগুন। এখানে হাত দেবেন না। জ্বলে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। তো আপনি সেটাতে হাত দিয়ে যখন আমাকে পুড়িয়ে ফেলার দোষ দেবেন সেটা তো আমার জন্য বেদনার।

সিরিজটির প্রথম পর্ব:

বাংলা ট্রিবিউন: সিরিজগুলো ইউটিউবেও পাওয়া যাচ্ছে। হতবাক করার ব্যাপার হলো, সেটি ফেসবুক ইনবক্সে ভাইরাল! অভিযোগ আছে, সিরিজগুলোর নির্মাতা-শিল্পীরা সেইসব লিংক আদান-প্রদান করছেন! তাহলে অ্যাপের মৌলিকত্ব থাকলো কই?

শিহাব শাহীন: এটাই হলো বড় বিপদ। সিরিজটি ইউটিউবে চলে গেছে। সেটা কোনোভাবে আটকানো যাচ্ছে না। নির্মাতা-শিল্পীদের আদান-প্রদানের যে অভিযোগ করেছেন, সেই অভিজ্ঞতা বা অভিযোগ আমার জানা নেই। আমি আমার সিরিজের কথা বলছি।

এবার বলি মূল সমস্যার কথা। ধরুন আপনি বিঞ্জ-এ ঢুকে সিরিজটি দেখলেন। সঙ্গে কপি করলেন। এরপরই সেটি তুলে দিলেন নিজের ইউটিউব চ্যানেলে। এমন ঘটনা ঘটছে ঘণ্টায় অন্তত ১০০টি! ধরুন আমাদের বিঞ্জ-এর আইটি বিভাগ ক্লেইম করে ঘণ্টায় ডিজল্ভ করছে ১০টি, বিপরীতে উঠছে আরও ২০টি চ্যানেলে। এটাকে আসলে একসঙ্গে রোধ করার কোনও সুযোগ নেই।

আরেকটা কথা বলি। আপনি নেটফ্লিক্স দেখছেন, অ্যামাজন প্রাইম দেখছেন, হৈচৈ দেখছেন। আর বকাবকি করছেন নিজেদের একটা রিয়েল লাইফ কনটেন্ট নিয়ে। বিষয়টা এমন, কারিনার ক্লিভেজ দেখে আমরা আনন্দ পাই, মুগ্ধ হয়ে শেয়ার করি। অন্যদিকে ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ ছবিতে মমর ক্লিভেজ দেখে অকথ্য ভাষায় গালি দেই। কী বলবো! এগুলো নিয়ে আসলে ভাবার সময় এসেছে। আমাদের তো বৈশ্বিক কনটেন্টের সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।

দেশীয় নতুন একটি অ্যাপের জন্য প্রথমবার আমি, সুমন আনোয়ার ও ওয়াহিদ তারেক তিনটি কাজ করেছি। প্রথম কাজ। একটা অভিজ্ঞতা হয়েছে। এগুলো থেকে আমাদের মধ্যেও একটা সেল্ফ সেন্সর তৈরি হয়েছে। ফলে সামনের কাজ আরও ভালো হবে নিশ্চয়ই। এজন্য সবার সহযোগিতা চাই। অস্থিরতা নয়।

বাংলা ট্রিবিউন: আলাপের ৪১ মিনিট শেষ! ঐশী কেমন আছেন?

শিহাব শাহীন: ঐশী! নাকি তুশি, মানে তাসনুভা তিশা?

বাংলা ট্রিবিউন: যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ঐশী। কাশিমপুর মহিলা কারাগারে যার ঠিকানা হলো।

শিহাব শাহীন: না। যোগাযোগ করিনি। আমরা আসলে তাকে বিরক্ত করতে চাইনি। তবে, সে যদি কোনোভাবে সিরিজটি দেখতে পায়, সেটা আমার জন্য ভালোলাগার বিষয় হবে। আমি তার মন্তব্যের জন্য অপেক্ষা করবো। ঐশী রহমান: যাকে অবলম্বন করে নির্মিত হলো ‘আগষ্ট ১৪’

[রাজধানীর চামেলীবাগে নিজ বাসায় বাবা পুলিশ ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমান ও মা স্বপ্না রহমানকে নিজ হাতে হত্যা করে ঐশী রহমান। ২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট সকালে বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় তার মা-বাবার লাশ।

বাবা-মাকে হত্যার দায়ে ২০১৫ সালে ঐশীকে ফাঁসির আদেশ দেন বিচারিক আদালত। রায়ের পর্যবেক্ষণে জানানো হয়— সাক্ষ্য-প্রমাণ অনুযায়ী, ঘটনার সময় আসামি ঐশী প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন। আর হত্যাকাণ্ডটিও ছিল পরিকল্পিত ও নৃশংস।

তবে ঐশী রহমানের অপরাধ মৃত্যুদণ্ডের যোগ্য হলেও তার বয়স ও মানসিক স্বাস্থ্য বিবেচনা করে মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন উচ্চ আদালত। সেই থেকে ঐশী স্থায়ীভাবে কাশিমপুর মহিলা কারাগারের বাসিন্দা।] 

/জেএইচ/এমএম/

সম্পর্কিত

৬০০ পর্বে ‘চাপাবাজ’

৬০০ পর্বে ‘চাপাবাজ’

পুরস্কৃত হলো দেশ-বিদেশের যে ছবিগুলো

১৯তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবপুরস্কৃত হলো দেশ-বিদেশের যে ছবিগুলো

অচিরেই বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করবে দেশের চলচ্চিত্র: তথ্যমন্ত্রী

অচিরেই বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করবে দেশের চলচ্চিত্র: তথ্যমন্ত্রী

ঝটিকা সফরে চট্টগ্রামের নির্বাচনি মাঠে...

ঝটিকা সফরে চট্টগ্রামের নির্বাচনি মাঠে...

বঙ্গোপসাগর ও কর্ণফুলীর মোহনায় হানিফ সংকেত!

এবারের ‘ইত্যাদি’ পতেঙ্গায়বঙ্গোপসাগর ও কর্ণফুলীর মোহনায় হানিফ সংকেত!

বার্লিন স্পটলাইটে ভিন্ন ভূমিকায় কামার

বার্লিন স্পটলাইটে ভিন্ন ভূমিকায় কামার

হাতে কেন রক্তাক্ত হাতুড়ি!

হাতে কেন রক্তাক্ত হাতুড়ি!

চট্টগ্রামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি নিয়ে বিশেষ...

চট্টগ্রামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি নিয়ে বিশেষ...

এবার টলিউডের প্রযোজক জয়া আহসান!

এবার টলিউডের প্রযোজক জয়া আহসান!

বাবা হারালেন অভিনেতা-উপস্থাপক জয়

বাবা হারালেন অভিনেতা-উপস্থাপক জয়

‌‘দেবী’র পর ‘মুন্সিগিরি’তে শবনম ফারিয়া

‌‘দেবী’র পর ‘মুন্সিগিরি’তে শবনম ফারিয়া

সর্বশেষ

বরগুনার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আলাদা নজর আছে: নানক

বরগুনার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আলাদা নজর আছে: নানক

২৬ জানুয়ারি মধ্যরাত থেকে চট্টগ্রাম মহানগরীতে যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

২৬ জানুয়ারি মধ্যরাত থেকে চট্টগ্রাম মহানগরীতে যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

দেশের প্রথম ডিজিটাল ভূমি তথ্য ব্যাংকের উদ্বোধন আজ

দেশের প্রথম ডিজিটাল ভূমি তথ্য ব্যাংকের উদ্বোধন আজ

‘বিএনপি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য নানা চক্রান্ত করছে’

‘বিএনপি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য নানা চক্রান্ত করছে’

ভারতের পদ্মশ্রী খেতাব প্রসঙ্গে যা বললেন সন্‌জীদা খাতুন

ভারতের পদ্মশ্রী খেতাব প্রসঙ্গে যা বললেন সন্‌জীদা খাতুন

মোংলায় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালবাহী জাহাজ দুর্ঘটনার শিকার

মোংলায় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালবাহী জাহাজ দুর্ঘটনার শিকার

সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে জাপার বিশেষ কমিটি

সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে জাপার বিশেষ কমিটি

লন্ডন থেকে সিলেটে আসা ২৮ যাত্রীর করোনা পজিটিভ

লন্ডন থেকে সিলেটে আসা ২৮ যাত্রীর করোনা পজিটিভ

বেঁচে গেছেন তরুণী কিন্তু…

বেঁচে গেছেন তরুণী কিন্তু…

প্রধানমন্ত্রী টিকা নিলে জনগণের আস্থা তৈরি হতে পারে: মির্জা ফখরুল

প্রধানমন্ত্রী টিকা নিলে জনগণের আস্থা তৈরি হতে পারে: মির্জা ফখরুল

শ্রীলঙ্কাকে তাদেরই বানানো ফাঁদে ফেললো ইংল্যান্ড

শ্রীলঙ্কাকে তাদেরই বানানো ফাঁদে ফেললো ইংল্যান্ড

বিভিন্ন জেলায় সড়কে নিহত ১৪

বিভিন্ন জেলায় সড়কে নিহত ১৪

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

৬০০ পর্বে ‘চাপাবাজ’

৬০০ পর্বে ‘চাপাবাজ’

পুরস্কৃত হলো দেশ-বিদেশের যে ছবিগুলো

১৯তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবপুরস্কৃত হলো দেশ-বিদেশের যে ছবিগুলো

ঝটিকা সফরে চট্টগ্রামের নির্বাচনি মাঠে...

ঝটিকা সফরে চট্টগ্রামের নির্বাচনি মাঠে...

বঙ্গোপসাগর ও কর্ণফুলীর মোহনায় হানিফ সংকেত!

এবারের ‘ইত্যাদি’ পতেঙ্গায়বঙ্গোপসাগর ও কর্ণফুলীর মোহনায় হানিফ সংকেত!

বার্লিন স্পটলাইটে ভিন্ন ভূমিকায় কামার

বার্লিন স্পটলাইটে ভিন্ন ভূমিকায় কামার

হাতে কেন রক্তাক্ত হাতুড়ি!

হাতে কেন রক্তাক্ত হাতুড়ি!

চট্টগ্রামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি নিয়ে বিশেষ...

চট্টগ্রামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি নিয়ে বিশেষ...

এবার টলিউডের প্রযোজক জয়া আহসান!

এবার টলিউডের প্রযোজক জয়া আহসান!

বাবা হারালেন অভিনেতা-উপস্থাপক জয়

বাবা হারালেন অভিনেতা-উপস্থাপক জয়


[email protected]
© 2021 Bangla Tribune
Bangla Tribune is one of the most revered online newspapers in Bangladesh, due to its reputation of neutral coverage and incisive analysis.