X

সেকশনস

সিঙ্গাপুর সায়েরি | পর্ব-০৪

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২০, ১৩:০৭

পূর্ব প্রকাশের পর

পরের দিন সকালে শুরু হলো আমার বন্ধুর পরিকল্পনা অনুযায়ী সাড়ে পাঁচ দিনের সিঙ্গাপুর ভিজিট। প্রথম দিন সেন্তোশা আইল্যান্ড। যেতে হবে মাউন্ট ফেবার দিয়ে কেবল-কারে। আমরা নাস্তা সেরে নামার আগেই আমার বন্ধুর পাঠানো গাড়ি বাসার নিচে হাজির। কিছুক্ষণে পৌঁছলাম মাউন্ট ফেবার কেবল-কার স্টেশনের সামনে। মাউন্ট ফেবার সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে উঁচু পাহাড়। সেই সবচেয়ে উঁচু পাহাড়ের উচ্চতা মাত্র ৩০৮ ফুট। শুনেই বোঝা যাচ্ছে এটা ব্রিটিশদের দেয়া নাম। এর আগের নাম ছিল তেলোক ব্লাঙ্গাহ পাহাড়। স্ট্রেইট সেটেলমেন্টের গভর্নর উইলিয়াম জন বাটারওয়ার্থের আত্মীয় ক্যাপ্টেইন চার্লস এডওয়ার্ড ফেবার ১৮৪৪ সালে জঙ্গল কেটে এই পাহাড়ে ওঠার পথ করেন এবং ১৮৪৫ সালে এই পাহাড়ের উপরে একটি সিগনাল স্টেশন স্থাপন করেন। তখন তাঁর নামে এর নামকরণ হয় মাউন্ট ফেবার। শুনেছিলাম সিঙ্গাপুরে একটু উঁচুতে দাঁড়িয়ে চারদিকে তাকালে এর উত্তর দিকে মালয়েশিয়ার জোহোর বারু, পশ্চিম দিকে মালাক্কা খাল আর জোহোর খাল, দক্ষিণ দিকে বাতাম দ্বীপ আর পূর্ব দিকে মালয়েশিয়ার পেনজেরাঙ সব একসাথে দেখা যাবে। সেই আশায় আমি মাউন্ট ফেবারে উঠে ইতিউতি মেরে একটি পরিস্কার জায়গা খুঁজছিলাম চতুর্দিকটা একটু দেখে নেয়ার আশায়। আমার ইতিউতি মারার এই দৃশ্য দেখে আমার ছেলেমেয়েরা একটু ধন্দেই পড়ে গেল—‘বাবা, অমন করছে কেন? এই উঁচু পাহাড়ে বাবার উপরে আবার কোনো জিনভূতের আছর পড়লো না তো?’ শেষ পর্যন্ত অমন পরিস্কার জায়গা খুঁজে পেলাম না। এমনকি কেবল-কার স্টেশনের পাশে যে একটি অবজারভেশন টাওয়ার আছে সেটিও অমন চারদিকে খোলা না। তাই সাধ আমার পূরণ হলো না।

সে সাধ অপূর্ণ রেখেই চড়ে বসলাম কেবল-কারে। কেবল-কার আমার কাছে খুব ভীতির বস্তু, কারণ আমার হাইট ফোবিয়া আছে, যদিও প্লেনে বসে সেটি আমি টের পাই না। ২০১৭ সালে মালয়েশিয়ার লাংকাভিতে স্কাইব্রিজ কেবল-কারে উঠে আমি যেভাবে চক্ষু বন্ধ করে রেখেছিলাম তা দেখে আমার ছেলেমেয়েরা অনেক হাসাহাসি করেছিল। আজ কেবল-কারে উঠে তাদের সেই কথা আবার মনে হলো, আর আমিও আবারও চক্ষু বন্ধ করলাম। মাঝখানে হারবারফ্রন্ট স্টেশনে একবার চোখ খুললেও নদীর উপরে অর্থাৎ কেপেল চ্যানেলের উপরে গিয়ে আবার বন্ধ হলো। ফের যখন চোখ খুললাম তখন নামার সময় হয়ে গেছে। যেখানে নামলাম সেটিও একটি পাহাড়ের চূড়া, নাম ইমবিয়াহ। বোঝাই যাচ্ছে ইমবিয়াহ নামটি মাউন্ট ফেবারের মতো কোনো বদলানো নাম নয়, একেবারে আদি ও অরিজিনাল নাম। পাহাড়টা অরিজিনাল নামে বহাল থাকলেও পাহাড়টা যেখানে অবস্থি সেই সেন্তোশা কিন্তু অরিজিনাল নাম না। সেন্তোশার মূল নাম ছিল পুলাউ ব্লাকাং মাতি। এই নামের অর্থ যাই হোক আমার কাছে এটা ক্লিয়ার ছিল যে, আমরা বরিশালের লোকেরা গাছের সর্বোচ্চ অগ্রভাগকে যেমন ‘মাতি’ বলি, আমরা ইমবিয়াহ পাহাড়ের তেমন ‘মাতি’তেই পা রেখেছি, ফলে এই জায়গার নাম যে ‘মাতি’ই হোক সেটা ঠিক ‘মাতি’ই আছে।

ইমবিয়াহ পাহাড়ের চূড়ার এই কেবল স্টেশন থেকে আমাদের লক্ষ্য হলো ইউনিভার্সেল স্টুডিও। যাবো গুগল নির্দেশনায় হেঁটে হেঁটে। মোবাইলে গুগলের হাঁটার নির্দেশনা স্টার্ট করে হাঁটতে শুরু করলাম। পাহাড় বেয়ে নামা রাস্তা। ১০ ফুট উপরের রাস্তাটি ধরে যেতে হবে যে-দিকে, ১০ ফুট নিচের রাস্তাটায় হাঁটতে হবে তার উল্টো দিকে। অনেকটা একই বরাবরের এই উপর নিচের রাস্তায় গুগল নির্দেশনায় প্যাঁচ লেগে গেল। বুঝতে পারছিলাম না কোনদিকে যেতে হবে। ছেলেমেয়েরা ভাবছে টেকনোলজিতে ওদের বাবার যে ঢঢনং জ্ঞান তাতে প্যাঁচ লাগাই স্বাভাবিক। এই প্যাঁচ ছুটাতে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে এলো এক স্বেচ্ছাসেবক প্যাসেঞ্জার ভ্যান। ভ্যানের ড্রাইভার আমাদেরকে সেন্তোশা রিসোর্ট ওয়ার্ল্ডের গেটে নামিয়ে দিয়ে হাতের ইশারায় বুঝিয়ে দিয়ে গেলো—‘শুধু নিচে নামতে থাকুন’। প্রকৃতিগতভাবে আমরা এমনিতেই খুব উপরে ওঠার লোক না, তাই সচ্ছন্দেই নিচে নামতে লাগলাম।

কেবল কার থেকে রিসোর্ট ওয়ার্ল্ড, সেন্তোশা

‘সেন্তোশা রিসোর্টস ওয়ার্ল্ড’ ৪৯ হেক্টরব্যাপী একটি বিশাল কমপ্লেক্সের নাম। এটি সেন্তোশায় ইমবিয়াহ পাহাড়ের উপর, ঢাল ও নিচে কেপেল চ্যানেলের পাড় জুড়ে বিস্তৃত। এটি নির্মিত হওয়ার আগে এই সব স্থান ইমবিয়াহ লুকআউটের অন্তর্গত ছিল। মালয়েশিয়ার গেন্টিং গ্রুপের উদ্যোগে আমেরিকান আর্কিটেক্ট মাইকেল গ্রেভসের নকশায় ২০০৭ সাল থেকে ২০১০ সালের মধ্যে মাত্র ৩৪ মাসে এর বৃহদংশ নির্মাণ সম্পন্ন হয়। ২০১০ সাল পর্যন্ত এর নির্মাণব্যয় ছিল ৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার। বাংলা করলে দাঁড়ায় মাত্র ৪১ হাজার পাঁচশো ১৭ কোটি টাকা। এতে কত টাকা হয় তা আমার অনুভবের বাইরে। তবে এতটুকু খালি মনে করতে পারি যে, যমুনা ব্রিজ বানাতে আমাদের খরচ হয়েছিল মাত্র সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা। সেই দিকে তাকিয়ে বলা যায় সেন্তোশা রিসোর্টস ওয়ার্ল্ড বানাতে যা খরচ হয়েছে তা দিয়ে প্রায় ১০টি যমুনা ব্রিজ বা পদ্মা ব্রিজ বানানো যায়। তা-ও সম্পূর্ণ কমপ্লেক্স এখনো নির্মাণ শেষ হয়নি। অর্থব্যয়ের দিক দিয়ে ২০১০ পর্যন্ত এটি ছিল বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ব্যয়বহুল ভবন-স্থাপনা। এর ভিতরে রয়েছে অনেকগুলো হোটেল, ট্যুরিস্ট এ্যাট্রাকশন ও শপিংমল। সেন্তোশা রিসোর্টস ওয়ার্ল্ডে মোট আটটি পাঁচতারকা মানের হোটেল রয়েছে: ক্রকফোর্ডস টাওয়ার, ইকুয়ারিয়াস হোটেল, ফেস্টিভ হোটেল, হার্ডরক হোটেল, হোটেল মাইকেল, ওশেন স্যুইটস, ট্রি-টপ লফটস ও বিচ ভিলাস। প্রত্যেকটি হোটেল বহুবিধভাবে তাদের নিজস্ব স্বকীয়তায় উজ্জ্বল। প্রত্যেকটি হোটেলের নির্মাণ নকশা আলাদা, রুচি আলাদা এবং আয়োজনও আলাদা। ক্রকফোর্ডস টাওয়ারের নিচে রয়েছে সিঙ্গাপুরের দুটো ক্যাসিনোর একটি যার আয়তন ১৫০০০ বর্গমিটার। হোটেলটির দিকে তাকিয়ে মনে মনে গর্বই লেগেছিল এই ভেবে যে আমাদেরও আছে ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ‘সম্রাট’ যারা সম্রাটের মতো টাকা ঢালতে পারে ওখানেও, আমার নেই তাতে কী? হার্ডরক হোটেলটিতে রয়েছে এশিয়ার সর্ববৃহৎ বলরুম যাতে ৭৩০০ অতিথি একসাথে বসতে পারে। হোটেল মাইকেল মূলত সেন্তোশা রিসোর্টস ওয়ার্ল্ডের ডিজাইনারের প্রতি সম্মানপ্রদর্শনস্বরূপ তাঁর নামে নামকৃত একটি হোটেল। বিচ ভিলা হলো একটি জলাশয়ের উপর দাঁড়ানো ২২টি অত্যাধুনিক ভিলার সমষ্টি। আমরা যখন গিয়েছিলাম তখন দেখেছিলাম সেন্তোশা রিসোর্টস ওয়ার্ল্ডের কোনো একটি হোটেলে একটি স্যুইটে একদিন থাকার ভাড়া ছিল সর্বনিম্ন ৬৫০০০/- টাকা। আমি ছেলেমেয়ের কাছে ভাব নিয়ে বলেছিলাম— ‘কাজ কি, বাবা, এত টাকা নষ্ট করে?’ কিন্তু তারা ঠিকই বুঝেছিল—‘গ্রেপস আর সাওয়ার’।

সেন্তোশা রিসোর্টস ওয়ার্ল্ডে হোটেল ছাড়াও রয়েছে অনেকগুলো ট্যুরিস্ট এ্যাট্রাকশন, যেমন: ইউনিভার্সেল স্টুডিওস, সি [এস.ই.এ] এ্যাকুয়ারিয়াম, এ্যাডভেঞ্চার কোভ ওয়াটারপার্ক, ডলফিন আইল্যান্ড, হেডরক ভিআর, কিডস ক্লাব, প্রমোদতরী রয়াল এ্যালবাট্রোস, ট্রিক আই মিউজিয়াম ও লেক অব ড্রিমস। ইউনিভার্সেল স্টুডিওস কী, সে নিয়ে অনেক কথাই হবে। এখন অন্যগুলোর কথা বলি। সি [এস.ই.এ] এ্যাকুয়ারিয়াম অর্থাৎ সাউথ ইস্ট এশিয়ান এ্যাকুয়ারিয়ামটি হলো ৪৫ মিলিয়ন লিটার পানির একটি এ্যাকুয়ারিয়াম যাতে এক হাজার প্রজাতির এক লক্ষ সামুদ্রিক প্রাণী বাস করছে। এ্যাডভেঞ্চার কোভ ওয়াটারপার্ক হচ্ছে ২০০০ ফুট দীর্ঘ একটি শান্ত নদীর পার্ক যেখানে সাত রকমের স্লাইডে করে সামুদ্রিক প্রাণীর সাথে অনেক মজা করা যায়। ডলফিন আইল্যান্ড হলো মূলত একটি ডলফিন লেক যেখানে বোতলের মতো নাকওয়ালা বুদ্ধিমান ডলফিনগুলোর সাথে সাঁতরানো যায় এবং আরও অনেক রকম মজা করা যায়। হেডরক ভিআর হচ্ছে থ্রিডি শো’র মধ্য দিয়ে বরফ আর জঙ্গলের শ্বাপদসঙ্কুল পথে র‌্যাফটিঙের অভিজ্ঞতা নেয়া। বাচ্চাদের জন্য খেলার মধ্য দিয়ে শেখার এক অসামান্য আয়োজন রিসোর্টস ওয়ার্ল্ডের কিডস ক্লাব। রয়াল এ্যালবাট্রোস হলো সেন্তোশা থেকে ম্যারিনা বে পর্যন্ত ঘুরিয়ে সূর্যাস্ত দেখানোর এক বিলাসবহুল প্রমোদ তরী। ৪টি মাস্তুলে ২২টি পালে সজ্জিত ২০০ যাত্রীক্ষমতাসম্পন্ন এটি একটি ইঞ্জিনবিহীন বিলাসবহুল তরী। আমেরিকার সাউথ ক্যারোলিনায় তৈরি এই প্রমোদতরীর পূর্ব নাম ছিল ‘উইন্ডি-২’। এর বর্তমান মালয়েশিয়ান মালিক ২০০৮ সালে ১৫০০০ কিলোমিটার সাগরের বাতাস খাইয়ে একে নিয়ে আসে সিঙ্গাপুরে এবং অনেক উন্নততর রূপ দিয়ে রয়াল এ্যালবোট্রোস নামে ২০১১ সালে ছেড়ে দিয়েছে রিসোর্টস ওয়ার্ল্ড সেন্তোশার ফুলবাবুদেরকে সমুদ্রের সূর্যাস্ত দেখাতে। আমি বাহির দিকে তাকিয়ে-তুকিয়ে যদ্দূর বুঝেছি তাতে আমি নিশ্চিত যে মেঘনার সাগর মোহনায় খোলা ডিঙ্গিতে যত এ্যাঙ্গেলে, যতরকম দুলে, যতরকম দিক দিয়ে সূর্যাস্ত দেখা সম্ভব রয়াল এ্যালবোট্রোসে তার অর্ধেক রকমেও সম্ভব নয়। তারপরও ঐটা বড়লোকের ব্যাপার বলেই ঐটার এত মাতবরি। ঈমানে কইতেছি, আমি ঐ মাতবরির ধারও ধারি নাই, জানতেও চাইনি ঐটায় চড়ে একবেলা সূর্যাস্ত দেখতে কত টাকা লাগে। আসল কথা আপনারা সকলেই বোঝেন—‘জেনে লাভ কী? আমার কি অত টাকা ছিল?’ ট্রিক আই মিউজিয়ামে বাচ্চারা যা কিছু ধরবে দেখবে সেগুলো সবই মূল বাস্তবতা থেকে অন্য রকমভাবে পাওয়া যাবে। নিজের বুদ্ধিমান চোখকে বোকা বানানোর সে এক চমৎকার আয়োজন। লেক অব ড্রিমস হচ্ছে এমি এ্যাওয়ার্ডে ভূষিত জেরেমি রেইলটন কর্তৃক নির্মিত আগুন, পানি ও আলোর একটি কোরিওগ্রাফিক প্রদর্শনী।

রিসোর্টস ওয়ার্ল্ড সেন্তোশার এই সকল আয়োজনের মধ্যে সকলের মুখে মুখে ফেরে ইউনিভার্সেল স্টুডিওস। বাসা থেকে রওয়ানা দেয়ার সময় আমরা তো ইউনিভর্সেল স্টুডিওস দেখতেই বের হয়েছি, সেন্তোশা রিসোর্টস ওয়ার্ল্ড দেখতে তো নয়। এসে না দেখি আমরা সেই আদৎ হিন্দুস্তানি অন্ধ দলের সদস্য যারা হাতি দেখতে এসে হাতিকে কেউ কুলা, কেউ খাম্বা আর কেউ দেয়াল বানিয়েছিল। তারা যেমন হাতির এক এক অংশ দেখেছিলো, আমরাও তো তেমন সেন্তোশা রিসোর্টস ওয়ার্ল্ডের এক অংশ ইউনিভার্সেল স্টুডিও দেখতে এসেছি—ব্যাপারটা এমন ভাবতে একটু লজ্জাই লাগছিলো। যাই হোক, আমরা হাতির পাশে এসে অন্তত বুঝেছি যে এ অনেক বড় জিনিস। ফলে আমরা আর অতটা অন্ধ না—ভেবে একটু স্বস্তিও লাগলো। ঠিক করলাম—যতটা পারি সবটাই দেখবো, তবে প্রথমত ঢোকা যাক ইউনিভার্সেলেই। সেই ভাবনায় টিকেট কাউন্টারে দাঁড়ালাম। দেখলাম বাচ্চাদের টিকেটের দাম ১৫ ডলারের মতো কম। বাচ্চা মানে ১২ বছরের কম। আমার সাথে একটি বাচ্চা আছে, তাসনিয়া তাবাসসুম। তার ১২ ছুঁতে আরো মাসখানেক বাকি। সেই সুবাদে তার পাসপোর্টসহ তাকে সাথে নিয়ে দাঁড়ালাম। বড়দের টিকিট ৮১ ডলার করে আর ছোটদের ৬৪। চারজনের টিকিটে সব মিলিয়ে বাংলা টাকায় ১৯,৩৪০/-। টাকার পরিমাণটা বাংলা করে যেন ভিরমি খেলাম। মাথাটা দুই হাতে ধরে সোজা রেখে দাঁড়ালাম এন্ট্রান্স কিউতে।

ইউনিভার্সেল স্টুডিও’র গেট

ইউনিভার্সেল স্টুডিওস একটি থিম পার্ক। ২০ হেক্টর জমি জুড়ে ৭টি থিম জোনে এর ২৮টি রাইড, শো ও এ্যাট্রাকশন রয়েছে। রিসোর্টস ওয়ার্ল্ড সেন্তোশা নির্মাণের জন্য গেন্টিংস গ্রুপের প্রদত্ত প্রস্তাবটি সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষকে কবুল করাতে এই পার্কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলো। পুরো পরিকল্পনার ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষ এই ইউনিভার্সেলের প্রতি সবচেয়ে আগ্রহী ছিল। ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে সরকারি অনুমোদন পেয়ে গেন্টিংস গ্রুপ ২০০৭ সালের এপ্রিলে কাজ শুরু করে এবং ২০১০ সালের ১৮ মার্চ এটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে। খোলার পরে প্রথম ৯ মাসে বিশ লক্ষ মানুষ পার্কটি ভিজিট করে। আমরা ঢোকার পরে কোথায় কী যাবো সে নিয়ে প্লান ঠিক করতে গেলে আমাদের বহরের কনিষ্ঠ সদস্য তাসনিয়া তাবাসসুম খুব বিজ্ঞের মতো বললো—‘আগে বোঝো, এই থিম পার্কের থিমগুলো কী। এরপর থিম ধরে আগাও। এখানকার ৭টি থিম—জোন হলো হলিউড, নিউইয়র্ক, সাইফাই সিটি, প্রাচীন মিশর, দি লস্ট ওয়ার্ল্ড, ফার-ফার-এ্যাওয়ে ও মাদাগাস্কার। হলিউড জোনটিই হচ্ছে ইউনিভার্সেলের প্রবেশদ্বার। এখানে রয়েছে ব্রডওয়ে স্টাইল থিয়েটার, সিসেম স্ট্রিট শো, হলিউড চায়না আর্কেড এবং অনেকগুলো রেপ্লিকা হিসেবে রয়েছে মারলিন মনরো, ডেসপিকেবল মি এনিমেশনের মিনিয়ন, চার্লি চ্যাপলিন, ফ্রাংকেনস্টাইন’স মনস্টার ইত্যাদি। নিউইয়র্ক সিটি জোনে রয়েছে নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির রেপ্লিকা, স্পেশাল সিসেম স্ট্রিটে এলমো, বিগ বার্ড, কাউন্ট ভন কাউন্ট প্রমুখের প্রতিকৃতি এবং এন্টারটেইনমেন্টের মধ্যে আছে স্টিভেন স্পিলবার্গের ‘লাইট! ক্যামেরা! এ্যাকশন’ ও ‘রিদম ট্রাক’। সাই-ফাই জোনে রয়েছে দুইখানা পিলে-উল্টানো (পিলে-চমকানোতে কম বোঝায় তাই পিলে-উল্টানো বললাম) রোলার কোস্টার। একখানার নাম ‘ব্যাটলস্টার গালাকতিকা: হিউম্যান’, অপরখানা ‘ব্যাটলস্টার গালাকতিকা: সাইলোন’। দুটোই ‘ব্যাটলস্টার গালাকতিকা’ শীর্ষক আমেরিকান মিলিটারি সাইন্স ফিকশন টেলিভিশন সিরিজের আদলে নির্মিত। এই জোনে আরো রয়েছে ‘ট্রান্সফর্মারস: দি রাইড থ্রি-ডি’ আর চায়ের কাপ ও জগের আকৃতিতে বাচ্চাদের নাগরদোলা। প্রাচীন মিশর জোনে রয়েছে পিরামিডের মতো অন্ধকার প্রকোষ্ঠ থেকে আরেকটি রোলার কোস্টার, নাম ‘রিভেঞ্জ অব দি মামি’, আরেকটি আছে মিনি-কার রাইড, নাম ‘ট্রেজার হান্টারস’। দি লস্ট ওয়ার্ল্ড জোনে রয়েছে দুটো অঞ্চল একটি ‘জুরাসিক পার্ক’ ও অপরটি ‘ওয়াটার ওয়ার্ল্ড’। দুটোই ঐ দুই নামের মুভি থেকে নেয়া থিম অনুযায়ী নির্মিত। ‘ফার-ফার-এ্যাওয়ে’ জোনটির নামটি ‘শেড়েক’ এ্যানিমেশন মুভি থেকে নেয়া। এখানে বিশেষ করে রয়েছে ফার-ফার-এ্যাওয়ে ক্যাসেলের অভ্যন্তরে ‘শেড়েক ফোর-ডি এ্যাডভেঞ্চার’ ও ছোট ঝাঁকুনির রোলার কোস্টার ‘এনচ্যান্টেড এয়ার ওয়েজ’। ড্রিমওয়ার্ক এ্যানিমেশন কোম্পানির ‘মাদাগাস্কার’ মুভির থিম অনুয়ায়ী তৈরি হয়েছে ‘মাদাগাস্কার’ জোনটি। এখানে রয়েছে ‘মাদাগাস্কার: এ ক্রেইট এ্যাডভেঞ্চার’ নামে একটি নৌ-সফর আর ‘কিং জুলিয়েন’স বিচ পার্টি-গো-রাউন্ড’ নামে একটি নাগরদোলা।’ চলবে

আরও পড়ুনসিঙ্গাপুর সায়েরি | পর্ব-০৩

[ঘোষণা : ঈদুল আযহার কারণে 'সিঙ্গাপুর সায়েরি'-এর পঞ্চম পর্ব আগামি ৩১ জুলাই শুক্রবার প্রকাশিত হবে না। তবে ঈদের পর ৭ আগস্ট শুক্রবার থেকে পুনরায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হবে]

//জেডএস//

সম্পর্কিত

তিস্তা জার্নাল । পর্ব ৬

তিস্তা জার্নাল । পর্ব ৬

তিস্তা জার্নাল । পর্ব ৫

তিস্তা জার্নাল । পর্ব ৫

তিস্তা জার্নাল | পর্ব চার

তিস্তা জার্নাল | পর্ব চার

তিস্তা জার্নাল | পর্ব তিন

তিস্তা জার্নাল | পর্ব তিন

তিস্তা জার্নাল | পর্ব দুই

তিস্তা জার্নাল | পর্ব দুই

তিস্তা জার্নাল | পর্ব এক

তিস্তা জার্নাল | পর্ব এক

সিঙ্গাপুর সায়েরি | শেষ পর্ব

সিঙ্গাপুর সায়েরি | শেষ পর্ব

সিঙ্গাপুর সায়েরি | পর্ব-০৯

সিঙ্গাপুর সায়েরি | পর্ব-০৯

সর্বশেষ

তিস্তা জার্নাল । পর্ব ৬

তিস্তা জার্নাল । পর্ব ৬

দুটো চড়ুই পাখির গল্প

দুটো চড়ুই পাখির গল্প

থমকে আছি

থমকে আছি

সালেক খোকনের নতুন বই ‘অপরাজেয় একাত্তর’

সালেক খোকনের নতুন বই ‘অপরাজেয় একাত্তর’

আমরা এক ধরনের মানসিক হাসপাতালে বাস করি : মাসরুর আরেফিন

আমরা এক ধরনের মানসিক হাসপাতালে বাস করি : মাসরুর আরেফিন

মুরাকামির লেখক হওয়ার গল্প

মুরাকামির লেখক হওয়ার গল্প

সম্পর্ক; আপন-পর

সম্পর্ক; আপন-পর

সন্ধ্যারাতে কাঁটাবন যাত্রা

সন্ধ্যারাতে কাঁটাবন যাত্রা

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ


[email protected]
© 2021 Bangla Tribune
Bangla Tribune is one of the most revered online newspapers in Bangladesh, due to its reputation of neutral coverage and incisive analysis.