X

সেকশনস

জামিনের শর্ত ভেঙে ঈদ করলো যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামি

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২০, ০২:০১

ছবিতে সামনে থেকে বাঁয়ে যুদ্ধাপরাধী জুবায়ের মনির সুনামগঞ্জের শাল্লায় যুদ্ধাপরাধ মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামি জোবায়ের মনির অসুস্থতা দেখিয়ে আদালত থেকে জামিন নিয়ে জামিনের শর্ত ভঙ্গ করে গোপনে এলাকায় এসে ঘুরে গেছেন। তিনি ঈদের আগের দিন গ্রামের বাড়ি শাল্লা উপজেলার দৌলতপুরে গিয়ে পশু কোরবানিতে অংশ নেন। পরে নিজস্ব লোকজন নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে সোমবার (৩ আগস্ট) ঢাকায় ফিরেন।  
এ ঘটনায় মামলার বাদী, সাক্ষী ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষজন আতঙ্কে আছেন। এ এলাকায় একক প্রভাবশালী হিসেবে এখনও প্রতিষ্ঠিত জোবায়ের মনিরের পরিবার। এ কারণে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষজন সব সময়ই তটস্থ থাকেন।
যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৬ সালে ট্রাইব্যুনালে একাত্তরে গণহত্যা, নারী নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগে জোবায়ের মনির, তার ভাই প্রদীপ মনির ও চাচা মুকিত মনিরসহ যুদ্ধাপরাধে সম্পৃক্তদের বিরুদ্ধে চারটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। ওই বছরের ২১ মার্চ অভিযোগের তদন্ত শুরু করে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। পেরুয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা রজনী দাসের দায়েরকৃত মামলায় ২০১৮ সালের ২০ ডিসেম্বর জোবায়ের মনির, জাকির হোসেন, তোতা মিয়া টেইলার, সিদ্দিকুর রহমান, আব্দুল জলিল, আব্দুর রশিদসহ অভিযুক্ত ৬ যুদ্ধাপরাধীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযোগ দায়েরের পরই আমেরিকায় পালিয়ে যায় অভিযুক্ত জুবায়ের মনির, যুদ্ধাপরাধ মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত কামরুজ্জামানের আইনজীবী ও ইসলামি ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি শিশির মনিরের বাবা যুদ্ধাপরাধী মুকিত মনির। ২০১৯ সালের ১৭ জুন তদন্ত সংস্থা একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে জোবায়ের মনিরসহ ১১ জন জড়িত বলে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করে। গত ফেব্রুয়ারিতে আদালতকে অসুস্থতার সাজানো তথ্য দিয়ে জোবায়ের মনির ‘টাউন জামিন’ মঞ্জুর করিয়ে নেয়। শর্ত মতে শহরে বাসায় অবস্থানের নির্দেশনা দিয়ে জামিন মঞ্জুর করা হলেও সুস্থ জোবায়ের মনির প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ান এলাকায়ও।

এবার ঈদুল আজহার আগে শাল্লা উপজেলার দৌলতপুর গ্রামে এসে ঈদের জামাত আদায়সহ একাধিক পশু কোরবানি দিয়েছেন। এছাড়া ঈদের পরদিন স্পিডবোট ও নৌকা নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন।
বিষয়টি আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংশ্লিষ্টরা সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপারকে বিষয়টি অবগত করে। সংস্থার পক্ষ থেকে শাল্লা থানা ও দিরাই থানার ওসির সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলে লিখিতভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
শাল্লা থানার ওসি সনজুর মোরশেদ বলেন, শুনেছি যুদ্ধাপরাধ মামলায় জামিনে থাকা আসামি জোবায়ের মনির ঈদে বাড়িতে এসেছেন। তবে নৌবিহার করেছেন কিনা জানি না। আমরা এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে লিখিত প্রতিবেদন দেওয়ার চেষ্টা করবো। হুমকি দেওয়ার কোনও অভিযোগ থানা পুলিশকে কেউ করেনি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. নূর হোসেন জানান, যুদ্ধাপরাধী হিসেবে জোবায়ের মনিরসহ ১১ জনের অপরাধের অভিযোগপত্র ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছি। এরমধ্যে ৬ জন গ্রেফতার হয়েছে। জোবায়ের মনির অসুস্থতার কথা বলে আদালত থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় এসেছেন বিষয়টি জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, তিনি জামিন পেয়ে এলাকায় এসেছেন। কাউকে হুমকি ধমকি দেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর হাওরাঞ্চলের শীর্ষ দালাল আব্দুল খালেকের নির্দেশে পেরুয়া, উজানগাঁও, শ্যামারচরে ভয়াবহ গণহত্যা, অগ্নিসংযোগসহ যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়। শ্যামারচর বাজারের স্কুলের সামনে ২৭ জন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে লাইন ধরিয়ে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করে ব্রাশফায়ারে হত্যা করা হয়। পরে কয়েকটি পল্লিতে প্রায় ৩ শতাধিক প্রশিক্ষিত রাজাকার বাহিনী দিয়ে নারীদের ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ করে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করে। এই গণহত্যায় নেতৃত্ব দেয় দালাল আব্দুল খালেকের ভাই মুকিত মনির, কদর আলী, ছেলে প্রদীপ মনির, জোবায়ের মনিরসহ প্রশিক্ষিত রাজাকার বাহিনী। ১৯৭২ সালে কদর আলীকে দালাল আইনে গ্রেফতার করা হয়। জোবায়ের মনিরের পরিবারের কারণে এখনও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষজন কোণঠাসা। মুক্তিযুদ্ধের পর গণহত্যার চিহ্ন মুছে ফেলে তারা। ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে গঠিত গণজাগরণ মঞ্চের আগে তাদের হুমকি-ধমকিতে এই এলাকায় কখনও গণহত্যা দিবস পালন করা সম্ভব হয়নি।

/আরআইজে/এমওএফ/

সম্পর্কিত

কারাগারে নারী দর্শনার্থীর সঙ্গে সময় কাটালেন হলমার্কের জিএম

কারাগারে নারী দর্শনার্থীর সঙ্গে সময় কাটালেন হলমার্কের জিএম

মাঝপদ্মায় নোঙর করেছে ৪ ফেরি 

মাঝপদ্মায় নোঙর করেছে ৪ ফেরি 

টেকনাফে ঘর পাচ্ছে ৬০ পরিবার

টেকনাফে ঘর পাচ্ছে ৬০ পরিবার

বিভিন্ন স্থানে সড়কে নিহত ১৪

বিভিন্ন স্থানে সড়কে নিহত ১৪

হেলিকপ্টারে চড়ে গার্মেন্টকর্মীর বিয়ে!

হেলিকপ্টারে চড়ে গার্মেন্টকর্মীর বিয়ে!

গৃহ নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

গৃহ নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

মাতারবাড়িতে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩

মাতারবাড়িতে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় ছাত্র অধিকার পরিষদের নিন্দা

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় ছাত্র অধিকার পরিষদের নিন্দা

মোটরসাইকেলে অটোরিকশার ধাক্কা, পুলিশ কনস্টেবল নিহত

মোটরসাইকেলে অটোরিকশার ধাক্কা, পুলিশ কনস্টেবল নিহত

ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ১

ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ১

অনশনরত খুবির দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বললেন কে‌সি‌সি মেয়র

অনশনরত খুবির দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বললেন কে‌সি‌সি মেয়র

অবস্থান ধর্মঘটে কাদের মির্জা  

অবস্থান ধর্মঘটে কাদের মির্জা  

সর্বশেষ

আ. লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ

আ. লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ

করোনার ব্রিটিশ ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণে মৃত্যু ঝুঁকি বেশি হওয়ার আশঙ্কা

করোনার ব্রিটিশ ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণে মৃত্যু ঝুঁকি বেশি হওয়ার আশঙ্কা

সংক্রমণ কমছে, করোনা হটানোর এটাই সুযোগ!

সংক্রমণ কমছে, করোনা হটানোর এটাই সুযোগ!

৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ফেরি চলাচল স্বাভাবিক 

৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ফেরি চলাচল স্বাভাবিক 

১২৬ মাছে ভাগ্য খুলেছে রফিকুলের

১২৬ মাছে ভাগ্য খুলেছে রফিকুলের

বিশ্বে ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত ৬ লাখ ৮৫ হাজার

বিশ্বে ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত ৬ লাখ ৮৫ হাজার

সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে নিহত দু'জনের  লাশ ভারতে উদ্ধার

সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে নিহত দু'জনের লাশ ভারতে উদ্ধার

উপমহাদেশের স্বার্থে পাকিস্তানের স্বীকৃতি জরুরি

উপমহাদেশের স্বার্থে পাকিস্তানের স্বীকৃতি জরুরি

নতুন ঘর পেয়ে খুশি সুকজান বেগম

নতুন ঘর পেয়ে খুশি সুকজান বেগম

‘জীবনেও ভাবি নাই পাক্কা ঘরে ঘুমামু’

‘জীবনেও ভাবি নাই পাক্কা ঘরে ঘুমামু’

ঘর 'আপন' হওয়ার আগে আগলে রাখছেন তারা

ঘর 'আপন' হওয়ার আগে আগলে রাখছেন তারা

খুবির অস্থিতিশীল পরিবেশ প্রসঙ্গে সাবেক ২৭৩ শিক্ষার্থীর উদ্বেগ

খুবির অস্থিতিশীল পরিবেশ প্রসঙ্গে সাবেক ২৭৩ শিক্ষার্থীর উদ্বেগ

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

কারাগারে নারী দর্শনার্থীর সঙ্গে সময় কাটালেন হলমার্কের জিএম

কারাগারে নারী দর্শনার্থীর সঙ্গে সময় কাটালেন হলমার্কের জিএম

মাঝপদ্মায় নোঙর করেছে ৪ ফেরি 

মাঝপদ্মায় নোঙর করেছে ৪ ফেরি 

টেকনাফে ঘর পাচ্ছে ৬০ পরিবার

টেকনাফে ঘর পাচ্ছে ৬০ পরিবার

হেলিকপ্টারে চড়ে গার্মেন্টকর্মীর বিয়ে!

হেলিকপ্টারে চড়ে গার্মেন্টকর্মীর বিয়ে!

গৃহ নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

গৃহ নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

মাতারবাড়িতে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩

মাতারবাড়িতে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩

মোটরসাইকেলে অটোরিকশার ধাক্কা, পুলিশ কনস্টেবল নিহত

মোটরসাইকেলে অটোরিকশার ধাক্কা, পুলিশ কনস্টেবল নিহত

ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ১

ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ১

অনশনরত খুবির দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বললেন কে‌সি‌সি মেয়র

অনশনরত খুবির দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বললেন কে‌সি‌সি মেয়র

অবস্থান ধর্মঘটে কাদের মির্জা  

অবস্থান ধর্মঘটে কাদের মির্জা  


[email protected]
© 2021 Bangla Tribune
Bangla Tribune is one of the most revered online newspapers in Bangladesh, due to its reputation of neutral coverage and incisive analysis.