সাপ চাষে বিধিমালা আসছে, করা যাবে বাণিজ্যিক খামার

রিয়াদ তালুকদার
১৮ জানুয়ারি ২০২১, ১৩:০০আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২১, ০৯:১৪

কিং কোবরা, রাসেল ভাইপার, বন্ডেড ক্যারেট, গোখরাসহ নানা ধরনের সাপের চাষ হচ্ছে বাংলাদেশে। অনেকেই নিজ উদ্যোগে সাপের চাষ শুরু করলেও সরকারিভাবে এখনও এর কোনও অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তবে সাপের চাষ উদ্বুদ্ধ করতে বিধিমালা নিয়ে কাজ করছে বন অধিদফতর।

ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সাপের বিষ মূল্যবান কাঁচামাল। তাই এটি রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে বিষধর সাপের দংশনের চিকিৎসার সুযোগ অনেক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেই। সাপেকাটা রোগীর চিকিৎসায় যে অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন লাগে, সেটা বানাতেও দরকার হয় সাপের বিষ। কিন্তু সাপ চাষ ও বিষ আহরণের আধুনিক ব্যবস্থা নেই দেশে।

রাজশাহী, ফরিদপুর ও বরিশালসহ বেশ কিছু জায়গায় অনেকেই নিজ উদ্যোগে সীমিত আকারে সাপ পালন করছেন। এমনই একজন বরিশালের সাপের খামারি আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ২০০০ সাল থেকে বড় ২৭টি ও ছোট ৩২০টি সাপ নিয়ে শুরু হয় তার খামার। বিশ বছর ধরে নিজ উদ্যোগে খামারটি চালিয়ে আসছেন। অনুমোদনের জন্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও বন বিভাগে আবেদন করেছেন। সাপের বিষ আহরণ করে বাংলাদেশের বিভিন্ন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে বিক্রির সুযোগ পেলে এ খামার লাভের মুখ দেখতো। তাই খামারের অনুমোদন ও বিষ সংগ্রহের জন্য সরকারের বিভিন্ন দফতরে ঘুরেছেন আবদুর রাজ্জাক। তবে কোনও আশার আলো দেখেননি এতদিন।

সাপ ও সাপের ব্যবস্থাপনা নিয়ে আরও গবেষণা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম নিয়ামুল নাসের। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সাপের খামার কিংবা সাপ নিয়ে গবেষণার জন্য আলাদা ইনস্টিটিউট করার সময় হয়েছে। সাপের বিষ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ বানানো হচ্ছে। তার বিভাগের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের দুটি বিষাক্ত সাপের ওপর গবেষণা চালানো হয়েছে বলেও জানান অধ্যাপক নিয়ামুল নাসের।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অসংক্রামক স্বাস্থ্যবিধি নিয়ন্ত্রণ বিভাগের আওতায় সাপ নিয়ে গবেষণা করছে টক্সিকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ। সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আবদুল্লাহ আবু সাঈদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য সাপের বিষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করা। সাপের বিষ যদি পরিমিত মাত্রায় সংগ্রহ করা যায়, তবে শুধু ওই ভেনমগুলো থেকে অ্যান্টিভেনম তৈরির প্রক্রিয়ায় যেতে পারবো। এটা দীর্ঘ গবেষণার কাজ।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসিউটিক্যালস অব কেমিস্ট্রি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডাক্তার শাহ আরমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের দেশে সাপের বিষ থেকে অ্যান্টিভেনম তৈরি নিয়ে গবেষণার সংখ্যা কম। তবে, দেশের কোনও ওষুধ প্রতিষ্ঠানে সাপের বিষ ব্যবহার হচ্ছে না।’

‘সাপের খামার ব্যবস্থাপনা বিধিমালা’ নিয়ে কাজ করছে বন অধিদফতর। বন অধিদফতরের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চল বন সংরক্ষক মিহির কুমার দে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “সরকার সাপ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে চায়। 'সাপের খামার ব্যবস্থাপনা বিধিমালা' যাচাই-বাছাইয়ের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সারা দেশ থেকে নিয়ে আসতে হয়। করোনার কারণে কিছুটা সময় লাগছে। দ্রুত সবার মতামত নিয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা সম্ভব হবে। সরকারও চাচ্ছে বিধিমালা চূড়ান্ত হলে এর আওতায় বাণিজ্যিকভাবে সাপ চাষের দায়িত্ব খামারিদের দেওয়া যেতে পারে।”

জননিরাপত্তার হুমকি যেন না আসে, সে বিষয়টি মাথায় রেখেই বাণিজ্যিকভাবে সাপ চাষের বিধিমালা প্রণয়নের কথা জানিয়ে বিআইএসএসের পরিচালক (গবেষণা) ড. মাহফুজ কবির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অর্থনৈতিক উন্নয়ন হতে পারে, এ বিষয়টি মাথায় রেখে এখনও বিধিমালা প্রণয়ন হয়নি। সেটি করা হলে ব্যাপক আকারে সাপের বিষ রফতানি করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যেত। সাপের বিষের রফতানিমূল্য অনেক।’

/এফএ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
এই অর্জন বাংলাদেশের শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থানকে তুলে ধরে: খলিলুর রহমান  
এই অর্জন বাংলাদেশের শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থানকে তুলে ধরে: খলিলুর রহমান  
‘মুখ খোলো মমতা, জানতে চায় জনতা’ স্লোগানে ইনকিলাব মঞ্চের মশাল মিছিল
‘মুখ খোলো মমতা, জানতে চায় জনতা’ স্লোগানে ইনকিলাব মঞ্চের মশাল মিছিল
আর্জেন্টিনা আরও চার ফুটবলারকে প্রস্তুত রাখছে
আর্জেন্টিনা আরও চার ফুটবলারকে প্রস্তুত রাখছে
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের