সিংগাইরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন উপজেলার ১০ ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থীরা। আর সরকার দলীয় প্রার্থীদের হুমকি ও পুলিশের হাতে আটক হওয়ার ভয়ে দলের নেতার্মীরাও। আগামী ৭ মে এসব ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সরকারি দলের প্রার্থী ও সমর্থকদের হুমকির মুখে প্রচার প্রচারণা চালাতে পারছেন না বলে অভিযোগ বিএনপি প্রার্থীরা। এমনকি ভোট কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট দিতেও হিমশিম খাচ্ছেন অনেক প্রার্থী।
সায়েস্তা ইউনিয়নের বিএনপি প্রার্থী মো. মোজাম্মেল হোসেন গত ১৪ বছর ধরে ইউনিয়নে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করলেও তিনিই পোলিং এজেন্ট খুঁজে পাচ্ছেন না। কয়েকজনকে পেলেও সরকার দলীয় নেতাদের হুমকির মুখে পোলিং এজেন্ট হতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না অনেকে। তার পক্ষে দলীয় নেতা কর্মীরা প্রচারণ চালাতে সাহস পাচ্ছেন না। নিজেই সীমিত আকারে প্রচারণা চলাচ্ছেন। এদিকে পুলিশ হয়রানির ভয়ে সমর্থকরাও আত্মগোপনে আছেন। গত ২ মে তার নির্বাচনী প্রচারণায় গিয়ে সাহরাইল গ্রামের সোহরাব মৃধার ছেলে শরিফ মৃধা পুলিশের হাতে আটক হন।
আটক প্রসঙ্গে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি )সৈয়দুজ্জামান বলেন, ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে আসামিরা বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে।
তবে মোজাম্মেল হোসেন বলেন,তার নির্বাচনি সমন্বয়ক সায়েস্তা ইউনিয়নের বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সামসুল ইসলাম গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। তিনি সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছন। যেভাবে প্রকাশ্যে হুমকি ধামকি দিয়ে নির্বাচন থেকে বিরত রাখার অপচেষ্টা করা হচ্ছে তাতে নির্বাচনে সাধারণ ভোটারা ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারবেন বলে মনে হয় না।
এদিকে সরকার দলীয় প্রার্থী ও তার সমর্থদের বাধার মুখে তার নির্বাচনী এলাকায় পোষ্টার লাগাতে পারছেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
চেয়ারম্যান প্রার্থী মোজাম্মেল হোসেন বলেন, মনোনয়ন নেওয়ার আগে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন এধরনের পরিস্থিতির মধ্যে তাকে পরতে হবে। এসব ভেবে তার স্ত্রী শামীম আরাকে একই পদে প্রার্থী করেন।
এছাড়া উপজেলার তালেবপুর ইউনিয়নের বিএনপির প্রার্থী মুনশী সুলতান মাহমুদ, বায়রা ইউনিয়নের একই দলের প্রার্থী মো. সেলিম হোসেন ও চান্দহর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আফজাল হোসেনও একই ধরণের অভিযোগ করেন।
তালেবপুর ইউনিয়নের বিএনপি প্রার্থী মুনশী সুলতান মাহমুদকে সরকারি দলের নেতারা প্রকাশ্যে মারধর করেছেন। এ ঘটনার পর এলাকা থেকে বিএনপি কর্মীরা এলাকা ছাড়া হয়েছেন।
চান্দহর ইউনিয়নের বিএনপি প্রার্থী মো.আমজাদ হোসেন রিটানিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, তার নির্বাচনী এলাকায় প্রকাশ্যে সরকার দলের নেতা কর্মীরা অস্ত্রে মহড়া করছেন। তার নির্বাচনী পোস্টার লাগাতে দিচ্ছেনা। নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার জন্য হুমকিও দিচ্ছে।
/এসএনএইচ/








