বান্দরবানের চরম খাদ্য সংকট কবলিত উপজেলা থানচিতে পাঠানো ৪৬ টন চাল বিতরণ করা হবে মঙ্গলবার থেকে। থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন জানান, রবিবার খাদ্যশষ্য থানচি থেকে রেমাক্রিতে যাবে। মঙ্গলবার থেকে তা বিতরণ করা হবে।
থানচির ১ নং রেমাক্রি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মুই শৈ থুই মারমা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, রেমাক্রি থেকে আশপাশের এলাকায় ত্রাণ দেওয়া হবে। আমাদের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। খাদ্য সংকট মোকাবেলায় আরও ১০০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক জানান, ইতিমধ্যে ৪৬ টন চাল পাঠানো হয়েছে। আপদকালীন মজুদ হিসেবে বর্তমানে জেলা প্রশাসনের হাতে ২০০ টন চাল রয়েছে। শনিবার আরও ১০০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।
আরও পড়তে পারেন: ‘শিক্ষা খাতে সরকারি ব্যয়ে মানুষের আস্থা নেই’
গত বছর খারাপ আবহাওয়ায় জুম-ফসলের ফলন ভাল না হওয়ায় চলতি বছরের মার্চ থেকে খাদ্য সংকটে পড়েছে দুর্গম এলাকার এই অধিবাসীরা। থানচির দুর্গম রেমাক্রি, তিন্দু, ছোট মদক, বড় মদক ও সাঙ্গু রিজার্ভ ফরেস্ট এলাকায় খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,তিন্দু ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সবচেয়ে বেশি সংকটে রয়েছে মানুষ। এখানকার ঈশ্বরমনি পাড়া, অন্তহা ত্রিপুরা পাড়া, জিন্না পাড়া, শেলইক্কা পাড়া, বাদইন্না পাড়া, বজং পাড়া, নাইখং ও রেমং পাড়ায় প্রায় ৩০০ পরিবার গত দুই মাস ধরে খাদ্য সংকটে রয়েছে। অন্যান্য পরিবারগুলোর আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মজুদ খাদ্য শেষ হয়ে যাবে।
জানা গেছে,এসব এলাকায় ত্রিপুরা, ম্রো ও মারমা সম্প্রদায়ের বাস। পাহাড়ে জুম চাষের মাধ্যমে তারা সারা বছরের ধান সংগ্রহ করে রাখেন। কোনও কারণে ভালো ফলন না হলে, ইঁদুরের আক্রমণ ঘটলে বা বন্যা দেখা দিলে বছরের খাদ্য মজুদ করা সম্ভব হয় না।
আরও পড়তে পারেন: নারায়ণগঞ্জে সেলিম ওসমানরা কি অপ্রতিরোধ্য?
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, সমতলের জমিতে হেক্টর প্রতি ধান উৎপাদন ৩ থেকে সাড়ে ৩ টন হলেও জুম চাষে ধান উৎপাদন হয় এক টনের কিছুটা বেশি। গত বছর অতিবৃষ্টির ফলে জুমের ফলন কমেছে। সম্প্রতি তীব্র তাপদাহে জুমের অন্যান্য সাথী ফসলও কমে আসছে। জনসংখ্যা বাড়তে থাকায় পাহাড়ে অতিমাত্রায় জুম চাষের ফলে মাটির গুণাগুণ কমে ফলনও কমতে শুরু করেছে।
থানচি কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির জানান,বিকল্প কৃষি ব্যবস্থা চালু করা না হলে জুম চাষের মাধ্যমে আদিবাসীদের জীবনধারণ আগামীতে অনেক কঠিন হয়ে পড়বে।
থানচিতে খাদ্য সংকট দেখা দিলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত এলাকার ৮শ’ পরিবারের বিপরীতে প্রথমে ১৬ টন চাল বরাদ্দ করা হয়। বৃহস্পতিবার আরও ৩০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।
/বিটি/এমএসএম /








