পরিবেশ আইন উপেক্ষা করে স্থাপনা নির্মাণে পুকুর ভরাট করায় কুষ্টিয়ায় দ্রুত কমে যাচ্ছে পুকুর। গত এক দশকে জেলায় শতাধিক পুকুর ভরাট করা হয়েছে বলে জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে।এর মধ্যে শুধু কুষ্টিয়া শহরেই অর্ধশতাধিক পুকুর ভরাট করা হয়েছে। ফলে পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি শহরের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কুষ্টিয়া জেলায় মোট পুকুরের সংখ্যা ১৬ হাজার ৫৪৩টি। এর মধ্যে বর্তমানে চাষ করা পুকুরের সংখ্যা ৯ হাজার ৮০২টি, চাষোপযোগী পুকুরের সংখ্যা ৩ হাজার ১৯২টি, অচাষকৃত পুকুরের সংখ্যা ৩ হাজার ৫৪৯টি। সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারের সংখ্যা ৪টি।আর বেসরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারের সংখ্যা হলো ৪৭টি।
আরও পড়তে পারেন: জঙ্গিবিরোধী ফতোয়ায় স্বাক্ষর নেই নারায়ণগঞ্জের কোনও আলেমের
জানা যায়,গত এক দশক আগেও কুষ্টিয়া পৌর এলাকায় সরকারি ও বেসরকারি মিলে প্রায় ৮০টি পুকুর ছিল। বর্তমানে তা ৫৮টিতে দাঁড়িয়েছে।
শহর ঘুরে দেখা যায়, ঐতিহ্যবাহী আড়ুয়াপাড়ার রাজার পুকুর, ফুলতলা এলাকার পঁচা পুকুর, টালিপাড়ায় আবুল হোসেনের পুকুর, চৌড়হাস এলাকার হিমাগারের পাশের পুকুর, জুগিয়া এলাকার মাদ্রাসা পুকুর, চৌড়হাস বাস টার্মিনাল সংলগ্ন দু’টি পুকুর, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল সংলগ্ন একটি পুকুর, পেয়ারাতলায় মুক্তির পুকুর, আলফামোড় এলাকার চারটি পুকুরসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে অনেক পুকুর ভরাট করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী জলাধার হিসাবে চিহ্নিত জায়গা ভরাট বা অন্য কোনওভাবে শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না। কেউ এ বিধি লঙ্ঘন করলে দুই বছর কারাদণ্ড বা অনধিক দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। পুকুর ভরাট রোধ করতে ‘পরিবেশ ক্লাব’ নামে স্থানীয় একটি সংগঠন জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করেছে।
ক্লাবটির সাবেক সভাপতি ও পরিবেশ বিজ্ঞানী গৌতম কুমার রায় বলেন, গত এক দশকে শুধু কুষ্টিয়া পৌর এলাকায় অর্ধশতাধিক পুকুর ভরাট করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদফতরের জ্যেষ্ঠ রসায়নবিদ মিজানুর রহমান বলেন, পুকুর ভরাটের কোনও তথ্য তাদের জানা নেই।
কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক নূর হাসান আহমেদ জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে নিকটস্থ পুকুরের পানি খুবই প্রয়োজন। এভাবে পুকুর ভরাট হলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।
অারও পড়ুন: নুরুজ্জামান আহমেদ এখন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী
পৌরসভার কাউন্সিলর মতিয়ার রহমান বলেন, ব্যক্তি মালিকানার পুকুর ভরাট করলে আমরা বাধা দিতে পারি না।
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক (ডিসি) সৈয়দ বেলাল হোসেন বলেন, পুকুর ভরাটের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পরিবেশ অধিদফতরকে জানানো হয়েছে। তারা চাইলে ম্যাজিস্ট্রেটসহ সব ধরনের আইনগত সহায়তা দেওয়া হবে।
/এসএনএইচ/এমএসএম /








