পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম ওরফে মিতু আক্তারকে হত্যার ঘটনায় কামরুল ইসলাম সিকদার ওরফে মুছাকে পুলিশ ২২জুন গ্রেফতার করেছে বলে দাবি করেছেন তার স্ত্রী পান্না আক্তার। কিন্তু পুলিশ বিষয়টি স্বীকার না করায় মুছার বর্তমান অবস্থান নিয়ে শঙ্কায় আছেন তার স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা। স্ত্রী পান্না আক্তারের বলছেন, পুলিশ মুসাকে গ্রেফতার নিয়ে লুকোচুরি করছে।
সোমবার সকাল ১১ টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মুছাকে গ্রেফতারের বর্ণনা দেন পান্না আক্তার। এসময় উপস্থিত ছিলেন, মুছার দুই ছেলে শামসুদ্দোহা সিকদার সানি (১০) ও নূরুদ্দোহা সিকদার সানজু (৭) এবং শ্বশুর ফারুক সিকদার।
পান্না আক্তার জানান, গত ২২ জুন তিনি ও তার দুই ছেলে এবং ভাসুর সাইফুল ইসলাম সাকু নগরীর এক আত্মীয়ের বাসায় গিয়েছিলেন। সকাল ৯ টার দিকে সাদা পোশাক পরিহিত পুলিশ ওই বাসায় গিয়ে হাজির হয়। সেখান থেকে পুলিশ সাকুকে গ্রেফতার করে এবং তাকে ফোন করে মুসার অবস্থান জানতে বলে। পরে নগরীর কোনও এক জায়গা থেকে মুসাকে তারা গ্রেফতার করে।
পান্না আক্তারের দাবি, আটক অভিযানে তার বাসায় পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ মহিউদ্দিন সেলিম ও পুলিশ পরিদর্শক (ইমিগ্রেশন) নিজামউদ্দিনকে তিনি চিনতে পেরেছেন।
পান্না আরও জানান, তার স্বামী যদি সত্যিই দোষী হয়ে থাকে তাহলে তাকে আইনের আওতায় আনা হউক। আর তিনি যদি দোষী হয় তাহলে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কেন আদালতে তোলা হচ্ছে না।
পান্না আক্তার জানান, তিনি রাঙ্গুনিয়া থানায় মুছার নিখোঁজের ব্যাপারে জিডি করতে গিয়েছিলেন, কিন্তু তারা আমার জিডি গ্রহণ করেননি। তারা বলেছেন যেখানকার ঘটনা সেখানে গিয়ে জিডি করতে। ভেবেছিলাম, সাকুকে গ্রেফতারের মতো মুসাকেও কিছুদিন পর গ্রেফতার দেখানো হবে। কিন্তু মুছার কোনও খোঁজ না পাওয়ায় আমরা এখন শঙ্কার মধ্যে রয়েছি।
এদিকে পান্না আক্তারের দাবি অস্বীকার করেছেন পুলিশ সদস্য মহিউদ্দিন সেলিম ও নিজামউদ্দিন। তারা সেদিন সেখানে কোনও অভিযানে যাননি বলে জানিয়েছেন।
এদিকে সিএমপি কমিশনার ইকবাল বাহার জানিয়েছেন, মুছাকে আটক করা হয়নি। তাকে পুলিশ খুঁজছে।
এদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার মো. কামরুজ্জামান বলেন, মুছাকে আমরা গ্রেফতার বা আটক করিনি। তবে অন্য কোনও বাহিনীর কেউ তাকে আটক করে সে বিষয়ে আমার জানা নেই।
প্রসঙ্গত, গত ৫ জুন সকালে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় চট্টগ্রামের জিইসি এলাকায় গুলি ও ছুরিকাঘাতে খুন হন মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনার মামলায় এ পর্যন্ত ৮ জন গ্রেফতার হয়েছে যার মধ্যে ৬ জন খুনের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। এরমধ্যে যে মোটরসাইকেলে করে হত্যাকারীরা এসেছিল তার মালিক মুছার ভাই সাইফুল ইসলাম সাকু ।
/এআর/টিএন/
আরও পড়ুন: ‘স্বজনের মৃতদেহ এতো ভারী!’








