সিলেট নগরীর পীর মহল্লায় একটি ভাড়া বাসা থেকে আয়েশা খানম (২৬) নামের এক মহিলার গলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। যৌতুক না দেওয়ায় এ খুনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রবিবার বিকেলে পীর মহল্লার সুনু মিয়ার কলোনির ১৮২ নং ভাড়া বাসা থেকে এই গলিত লাশটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর পরই দুই কন্যা সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে গেছে আয়েশার স্বামী কয়েছ আহমদ (৩৫)। কয়েছ বিয়ানীবাজারের গোবিন্দশ্রী গ্রামের মৃত ফরিদ উদ্দিনের পুত্র।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে আয়েশা খানমের মৃত্যু হয়েছে। আয়েশার বাবা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুস শুকুর ও স্ত্রী সালমা বেগম একই এলাকায় ১৬৬ নং বাসায় ভাড়া থাকেন।
সালমা বেগম জানান, তার মেয়েকে স্বামী কয়েছ যৌতুকের জন্য প্রায়ই নির্যাতন করত। ঈদের ৩দিন আগে মেয়ের সঙ্গে সর্বশেষ দেখা হয়েছিল। ওই সময় কয়েছ তাদের কাছে ব্যবসার জন্য ৪ লাখ টাকা চেয়েছিল। তবে সে সময় টাকা না থাকায় তাদের দিতে পারেননি। সে দিনের মতো তাদের বুঝিয়ে বাসায় পাঠান আয়েশার বাবা আব্দুস শুকুর ও মা সালমা বেগম।
আব্দুস শুকুর জানান, ঈদের একদিন আগে মেয়ের খোঁজ নিতে এসে দেখেছিলেন বাইরে থেকে বাসাটি তালাবদ্ধ করে রাখা। তিনি মনে করেছিলেন মেয়েকে নিয়ে কোথাও বেড়াতে গেছেন কয়েছ।
এদিকে, রবিবার দুপুরে আয়েশা বেগমের ভাড়া বাসায় পচা গন্ধ পেয়ে পুলিশ ও আয়েশার বাবা আব্দুস শুকুর এবং পরিবারের লোকজনদের খবর দেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ তালা ভেঙে আয়েশার গলিত লাশ উদ্ধার করে।
সিলেট এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌছুল হোসেন জানান, লাশ দেখে মনে হচ্ছে এক সপ্তাহ আগে হত্যা করা হয়েছে। লাশের বেশির ভাগ অংশ পঁচে গেছে।
এদিকে, ঘটনার স্বামী কয়েছে তার দুই কন্যা শিশুকে নিয়ে পালিয়েছে। স্বামীকে গ্রেফতার করতে পারলে হত্যার রহস্য উদঘাটন হবে বলে জানান ওসি।
পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
/এমএসএম/







