লক্ষ্মীপুরে অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ৮টি গাড়ি ভাঙচুর করে। সংঘর্ষে ৪ জন আহত হন।
বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ছাত্রলীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, সদর উপজেলার দালাল বাজার কলেজের এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করাকে কেন্দ্র করে ওই কলেজের ছাত্রলীগের আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন অনিকে মারধর করে সদর থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কনক কারী। এতে ক্ষিপ্ত হয় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি গ্রুপের নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শহরের মহিলা কলেজ প্রাঙ্গনে জঙ্গি ও সন্ত্রাস-বিরোধী প্রস্তুতি সভা করছিল সদর উপজেলা ছাত্রলীগ। সভা চলাকালীন অবস্থায় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এসে কনক কারীকে পূর্বের ঘটনার সূত্র ধরে মারধর করেন। এতে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিব হোসেন লোটাস গ্রুপের নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এতে কনক কারী, পৌর ছাত্রলীগের ৫ নং ওয়ার্ড সভাপতি টিপু সুলতান, সদর উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা আব্দুর রহিম, দালাল বাজার ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বেলায়েত হোসেন আহত হন।
সংঘর্ষ চলাকালে শহরের উত্তর তেমুহনী ও আলিয়া মাদ্রাসার সামনে অন্তত ৮টি গাড়ি ভাঙচুরসহ ঢাকা-রায়পুর মহাসড়ক অবরোধের মাধ্যমে বিক্ষোভ করে উত্তেজিত নেতাকর্মীরা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।
সদর উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক জিসাদ আল নাহিয়ান বলেন, ‘ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লোটাসের অনুসারীরা আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা করে ও স্টেশনে গাড়ি ভাঙচুর করে।’
জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিব হোসেন লোটাস বলেন, ‘সদর উপজেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটির প্রস্তুতি সভা চলছিলো। এসময় হঠাৎ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি চৌধুরী মাহামুদুন্নবী সোহেল পূর্ব ঘটনাকে কেন্দ্র করে কনকের ওপর হামলা করেন। বিষয়টি আমি কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের জানিয়েছি।’ তবে তিনি তার অনুসারীদের গাড়ি ভাঙচুরের কথা অস্বীকার করেন।
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি চৌধুরী মাহামুদুন্নবী সোহেল বলেন, ‘সদর ছাত্রলীগের প্রস্তুতি সভার সংঘর্ষ সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না।’
লক্ষ্মীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (হেডকোয়াটার) জুনায়েদ কাউচার জানান, সংঘর্ষের খবর শুনে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির মালিকরা অভিযোগ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
/এসএ/এপিএইচ/







