২০১৫ সালে বরগুনার তালতলী উপজেলার চন্দনতলা গ্রামের আলোচিত ১৪ হিন্দু পরিবারকে উচ্ছেদের মামলায় প্রধান আসামি আব্দুর রশিদকে ৫ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া মামলার অপর দুই আসামি জাকির সরদার ও সালাম সরদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দেন আদালত।
রবিবার বরগুনার দ্রুত বিচার আদালতের বিচারক মো. মাসুম বিল্লাহ এ রায় দেন। এ সময় মামলার প্রধান আসামি আদালতে অনুপস্থিত থাকলেও অপর দুই আসাসি উপস্থিত ছিলেন।
আইনজীবী অ্যাডভোকেট সঞ্জিব দাস বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের অবহেলায় সাক্ষী প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারায় আসামিরা মুক্ত হয়ে গেলেন।
মানবাধিকার কর্মী ও পাবলিক পলিসি ফোরামের আহ্বায়ক মো. হাসানুর রহমান ঝন্টু বলেন, রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবীর অদক্ষতার কারণে বাদীরা প্রত্যাশিত ফল পায়নি। এ ধরণের মামলা পরিচালনায় রাষ্ট্রপক্ষের সিনিয়র বিজ্ঞ কৌশলী নিয়োগের দাবী জানান তিনি।
তালতলী উপজেলার চন্দনতলা গ্রামের স্থানীয় প্রভাবশালী জাকির সরদার ও তার বড় ভাই সালাম সরদার ১৪ হিন্দু পরিবারের বসতভিটাসহ ৪০ একর জমি দখলের চেষ্টা করছিলেন। এ জন্য তারা রশিদ আকনকে দিয়ে ওই পরিবারগুলোর সদস্যদের ওপর শারীরিক, মানসিক নির্যাতন চালাচ্ছিলেন। এ পরিস্থিতিতে ২০১৩ সালে তিনটি ও ২০১৪ সালের শেষ দিকে দুটি পরিবার বাড়ি ছেড়ে বরগুনায় আশ্রয় নেয়। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১২ মার্চ রাতে আরও নয়টি পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে বরগুনায় চলে আসে। ১৩ মার্চ জাকির, সালাম ও রশিদ আকনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা এসব পরিবারের বাড়িঘর ভেঙে লুটপাট করে। এঘটনায় বরগুনা জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন হিন্দু পরিবারগুলোর পাশে দাড়ালে ২৩ মার্চ হিন্দু পরিবারের পক্ষে যাদব চন্দ্র সরকার বাদী হয়ে আব্দুর রশিদসহ জাকির সরদার ও সালাম সরদারকে আসামি করে তালতলী থানায় দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা করেন।
/এসএনএইচ








