খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার দায়িত্বহীনতার কারণে ৩৬ হাজার শিক্ষার্থী পূর্ণাঙ্গ উপবৃত্তি পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে শিশুরা এখন জন প্রতি ১ হাজার ২শ’ টাকার বদলে উপবৃত্তি পাচ্ছে মাত্র ৮শ’ টাকা করে।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার অহিদুল ইসলাম বলেন, চাহিদার চেয়ে ৮১ লাখ ১৫০ টাকা কম পাওয়ায় বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয়। তাই এখন জটিলতা সৃষ্টি না করে শিক্ষার্থীদের একটু কম দেওয়া হচ্ছে। বাকি টাকা চাওয়া হয়েছে। পাওয়া গেলে শিক্ষার্থীদের তা দেওয়া হবে।
উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার সমীর কুমার দাস বলেন, হিসাবে ভুল হওয়ার কারণে চাহিদাপত্রে টাকার পরিমাণ কম লেখা হয়। ফলে এখন চাহিদার ৬৬ ভাগ অর্থ দেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, ডুমুরিয়া উপজেলার সরকারি ২১৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩৬ হাজার। এই শিক্ষার্থীদের জন্য ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের উপবৃত্তির চাহিদা ২ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ৯শ’ টাকা। উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে এই চাহিদাপত্র পাঠাতে হয়। চাহিদাপত্রে ১ কোটি ৮৪ লাখ ৪৩ হাজার ৬৫০ টাকা উল্লেখ করা হয়। যা মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই বরাদ্দ আসার পর মোট চাহিদা থেকে ৮১ লাখ ৭৮ হাজার টাকার হিসাব গড়মিল পাওয়া যায়। পরে চাহিদাপত্রে টাকা কম লেখার বিষয়টি সামনে আসে। আর এ জন্যই শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির ৬৬ শতাংশ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার সঞ্জয় কুমার দাস বলেন, রবিবার থেকে স্কুলগুলোতে উপবৃত্তির টাকা বিতরণ শুরু হয়েছে। তবে উপবৃত্তির টাকা কম পাওয়ায় শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিফাত মেহনাজ বলেন, টাকা কম আসার পর প্রকল্প পরিচালকের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা অফিস থেকে পাঠানো চাহিদাপত্রে এ ভুল হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কমিটির সভাপতি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খান আলী মুনসুর বলেন, শিক্ষা অফিসারের গাফিলতির কারণেই শিক্ষার্থীরা শতভাগ উপবৃত্তি পাচ্ছে না। হিসাবে ভুল হওয়ার কারণে এখন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক ধরণের প্রতারণামূলক আচরণ করা হচ্ছে। এ সময় তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পারভিন জাহান বলেন, বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রে যোগাযোগ করা হচ্ছে। বাকি টাকা দ্রুত সময়ের মধ্যে বরাদ্দ পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
/এসএনএইচ/








