একজন ডাক্তার দিয়ে চলছে ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
৩০ জুলাই ২০১৬, ১৩:৪১আপডেট : ৩০ জুলাই ২০১৬, ১৩:৫৯

শরীয়তপুরের গোঁসাইর হাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৯ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও মাত্র একজন চিকিৎসক রয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা একাই চালাচ্ছেন ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালটি। হাসপাতালে চিকিৎসক না থাকায় স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে না মানুষ। প্রতিদিন শত শত রোগী চিকিৎসা না পেয়ে হাসপাতাল থেকে ফেরত যাচ্ছেন।

শরীয়তপুরে চিকিৎসক সংকটে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট গোঁসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

গোঁসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, গোঁসাইরহাট উপজেলায় ৯টি ইউনিয়নে প্রায় চার লাখ মানুষের বসবাস। এসব মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য  ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। কমপ্লেক্সে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও একজন আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তাসহ ১৯ টি চিকিৎসকের পদ রয়েছে। বর্তমানে ওই হাসপাতালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান মিঞা ছাড়া আর কেউ কর্মরত নেই।

দুই মাস আগে গত ১৪ মে গাইনি বিশেষজ্ঞ ফামিদা শারমিন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মাধ্যমে গোঁসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন। কিন্তু, যোগদানপত্র জমা দিলেও এখন পর্যন্ত তিনি গোঁসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাননি। ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক রুমানা সুলতানা প্রেষণে জাতীয় সংসদে কর্মরত  হয়েছেন, ডেন্টাল সার্জন সৈয়দ ইসতিয়াকুর রহিম প্রেষণে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে কর্মরত আছেন।

জানতে চাইলে ফামিদা শারমিন মুঠোফোনে বলেন, গোঁসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আমার বদলির আদেশ হওয়ার পর আমি সিভিল সার্জন অফিসে যোগদান করেছি। এখনও গোঁসাইরহাটে যাওয়া হয়নি। শরীয়তপুরের সিভিল সার্জনের সঙ্গে কথা বলে আমি শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছি। প্রেষণে সদর হাসপাতালে কাজ করার প্রক্রিয়া চলছে।

চিকিৎসা সেবা নিতে আসা গোঁসাইরহাট উপজেলার মাছুয়াকান্দি গ্রামের রাবেয়া বেগম ও সোহরাব মির্জা বলেন, সকাল ১০ টায় হাসপাতালে এসেছি, দুপুর ১টা পর্যন্ত ডাক্তার দেখাতে পারি নাই। হাসপাতালে আসলেই শুনি ডাক্তার নাই।

গোঁসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা চর জালালপুর গ্রামের শফিক মিজি বলেন, চিকিৎসা নিতে এসে ডাক্তার না পেয়ে দুই দিন ফিরে গেছি, আজ আবার আসছি। আমরা গরিব মানুষ বিনা পয়সায় ডাক্তার দেখানোর জন্য সরকারি হাসপাতালে আসি। এসে ডাক্তার না পেলে আমাদের আমাদের টাকা ও সময় দুটোই নষ্ট হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান মিঞা বলেন, এভাবে একা একটি হাসপাতাল কেউ চালাতে পারে না। রোগীর চাপ বেশি থাকলে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসকদের এনে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়।

শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন মশিউর রহমান বলেন, শরীয়তপুরের প্রত্যেকটি হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট। জোড়াতালি দিয়ে মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দিতে হচ্ছে আমাদের। তার মধ্যে আবার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অনেককে প্রেষণে ছাড়তে হচ্ছে।

/টিএন/

আরও পড়ুন:

হাসনাত করিম কোথায়? 

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম