নিখোঁজ হওয়ার ৯দিন পর স্কুলছাত্র সবুজ সরকার শুভলের লাশ পাশের বাড়ির টয়লেটের সেফটি ট্যাংক থেকে আজ শুক্রবার বিকেলে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে রংপুর সদর উপজেলার ভুরারঘাট ফতেহপুর মাধবপাড়া গ্রামে। এ ঘটনায় ৩ নারীসহ ৪জনকে আটক করেছে পুলিশ।
কোতয়ালী থানার মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই মজনু স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার ও ৪ জনকে আটক করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এলাকাবাসি ও নিহতের স্বজনেরা জানান,গত ২৬ জুলাই ভুরারঘাট ফতেহপুর মাধবপাড়া গ্রামের ধীরেন চন্দ্র বর্মনের একমাত্র ছেলে স্থানীয় পালিচড়া স্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্র সবুজ সরকার (১৪) খেলতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর থেকে তার কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নিহত সবুজের বড় বোন আন্না রানী জানান, বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার ভাইয়ের সন্ধান না পেয়ে ২৭ জুলাই কোতয়ালী থানায় একটি জিডি করা হয়। জিডি করার পরেও পুলিশ কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ায় ২৭ জুলাই গভীর রাতে মালামালসহ পার্শ্ববর্তী বাড়ির ৬ জন অন্যত্র পালিয়ে যান। তারা হলেন, নিহত সবুজের বন্ধু দীপু চন্দ্র, তার বড় ভাই দীপ্ত চন্দ্র , দীপুর মা জলেশ্বরী রানী, বাবা শংকর চন্দ্র, চাচা পরিমল চন্দ্র, চাচী স্বরস্বতী রানী। তাদের পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়।
এদিকে, স্কুলছাত্র সবুজ নিখোঁজের একদিন পরেই একটি পরিবারের ৬ সদস্যের বাড়ির মালামালসহ নিরুদ্দেশ হওয়ার ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়। নিহত সবুজের আরেক বোন আদুরী রানী জানান, দীপু চন্দ্রের দাদী বৃদ্ধা যমুনা রানী ছাড়া বাকিরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের সন্দেহ হয়। কিন্তু তারপরেও একমাত্র ভাইয়ের সন্ধানে বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তারা। আজ শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে এলাকার এক যুবক নিরুদ্দেশ হওয়া দীপু চন্দ্রের বাড়িতে গেলে দুর্গন্ধ ছড়ানোয় তার মনে সন্দেহ হয়। এ বিষয়ে বাড়িতে অবস্থানকারী বৃদ্ধা যমুনা রানীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এক পর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন তাদের বাড়ির টয়লেটের সেফটি ট্যাংকে সবুজের মৃতদেহ লুকানো আছে। খবর পেয়ে কোতয়ালী থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।
এলাকাবাসি অভিযোগ করেছেন, জিডি করার পরপরই পুলিশ তৎপর হলে খুনিরা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারতো না। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিরুদ্দেশ হওয়া দীপুর চন্দ্রের দাদী যমুনা রানী, তাদের স্বজন স্বরস্বতী রানী,জোৎস্না রানী এবং শংকর চন্দ্র নামে ৪ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।
কোতয়ালী থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে, স্কুলছাত্র সবুজকে তার সহপাঠি দীপু চন্দ্র ও তার বড় ভাই দীপ্তসহ অন্যরা শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ টয়লেটের সেফটি ট্যাংকে লুকিয়ে রাখে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেন জানান, সবুজকে হত্যার কারণ জানার চেষ্টা চলছে।
আরও পড়তে পারেন: গুলশান হামলার পর জঙ্গি সন্দেহে আটক ১৫৯, ঝুঁকিতে সাতক্ষীরা ও সিলেট
/এমএসএম/







