শতশত বাড়িঘর পদ্মায় বিলীন, হুমকির মুখে রাজবাড়ী শহর রক্ষা বাঁধ

তানভীর মাহমুদ, রাজবাড়ী
২০ আগস্ট ২০১৬, ২২:৫৪আপডেট : ২০ আগস্ট ২০১৬, ২৩:০০

  রাক্ষুসী পদ্মা এভাবেই গিলে খাচ্ছে একের এক এলাকা পদ্মা পারের জেলা রাজবাড়ী। উত্তাল পদ্মার প্রবল ঢেউয়ের সঙ্গে তীব্র স্রোত আর আগ্রাসনের কাছে যেন হার মানতে বসেছে জেলার নদী তীরবর্তী বানভাসী মানুষেরা।
নদী ভাঙনের শিকার এসব হাজারো মানুষের দিনরাত এখন কাটছে খোলা আকাশের নিচে। বড় অসহায় জীবনযাপন করছেন তারা। জীবনযুদ্ধে পদ্মার সঙ্গে মোকাবিলা করা এসব মানুষ এখন ক্লান্ত পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েছেন।
নদীতে বিলীন হওয়ার ভয়ে ভেঙে আনা বসতঘরের নানা আসবাবপত্রসহ এসব মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন স্কুল মাঠের খালি জমিতে। পরনের শাড়ি বা কাঁথা দিয়ে তাবু টানিয়ে স্ত্রী সন্তান নিয়ে দিন পার করছেন অনেকে। অনেকে আধা পেট খেয়ে দিন পার করছেন।
রাজবাড়ী জেলা সদরের বরাট ইউনিয়নের উড়াকান্দা, নয়নসুখ ও দেওয়ানপাড়া গ্রামে এসব চিত্র চোখে পড়েছে। এসব এলাকার বাসিন্দারা এখন তাদের শেষ চিহ্নটুকু অনত্র সরিয়ে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
সেই সঙ্গে স্থানীয়দের স্মৃতি বিজরিত দুশো বছরের পুরোনো প্রসিদ্ধ মিয়া বাড়ির (দালান বাড়ি) ভবনটিসহ গত কয়েক সপ্তাহের ভাঙনে পাঁচ শতাধিক পরিবার হয়েছেন ভিটে মাটিহারা।
চোখের সামনে বসতভিটা ফসলি জমি চলে যাচ্ছে পদ্মার গর্ভে। তবু যেনো দেখা ছাড়া আর কিছুই করার নেই তাদের। পরিবার পরিজন নিয়ে এসব বিপদগ্রস্ত ভূমিহারা মানুষ এখন কোথায় যাবেন তা কেউই জানেন না। 

 দালানবাড়ির গৃহবধূ ফরিদা খালেক বলেন,দুশো বছরের ঐতিহ্যবাহী মিয়া বাড়ি ছিলো ৩০ বিঘা জমির উপরে। রাজবাড়ী জেলা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ থেকে দেড় শত ফুট দূরবর্তী স্থানে ছিলো বিশাল দোতলা পাকা বাড়ি। ইতোমধ্যেই বিশাল এই বাড়িটির বেশিরভাগ অংশই নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। ভবনের বাকি অংশও যে কোনও সময়ে নদী গর্ভে চলে যাবে। 

৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ আব্দুল আজিজ সেখ বলেন, এ অঞ্চলে একটি মাত্রই দালান বাড়ি ছিলো। এ বাড়ি থেকে কয়েক বছর আগেও নদীটি ছিলো দেড় কিলোমিটার দূরের পাবনা জেলার কাজির হাট সংলগ্ন। এই কয়েক বছরে রাজবাড়ীর গাছিয়াদহ ও আমবাড়িয়াসহ কয়েকটি মৌজা বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে নদী থেকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়ি বাঁধের দূরুত্ব মাত্র দেড় শত ফুটের মধ্যে। এখনই যদি নদী ভাঙন রোধ করা সম্ভব না হয় তবে, এ মিয়া বাড়িটিসহ ওই বেড়ি বাঁধ বিলীন হয়ে যাবে। নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলে জেলা শহরসহ বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। 

বরাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী শামসুদ্দিন জানান, তার বসতবাড়িটি নদী পাড়ের পাশেই ছিলো। নদী ভাঙনের ফলে তার বসত বাড়িটি নদীতে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি তার বাড়িঘর দূরে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। বরাট ইউনিয়নের বানভাসী মানুষগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের সাহায্য সহযোগিতা দরকার। 

তার মতে, এ ইউনিয়নের উড়াকান্দা, নয়নসুখ ও দেওয়ানপাড়া গ্রামের ৫ শতাধিক বাড়ি ও বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। কিন্তু প্রশাসন তেমন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। যে কারণে নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। 

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী গৌড়পদ সূত্রধর জানান, সেখানকার ১৮শ’ মিটার এলাকায় ভাঙন চলছে। জেলা সদরের উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকার ২৮০ মিটার স্থানে বালিভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে। 

তবে নদীতে ঢেউ আর স্রোতের সাথে তারা পেরে উঠছেন না। পুরো এলাকার ভাঙন রোধে তারা ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছেন। ওই বরাদ্দের টাকা পাওয়া গেলে ভাঙন রোধের কাজ শুরু করা হবে। 

এ ব্যাপারে রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী জানান, নদী ভাঙনের বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। কিন্তু ভাঙন প্রতিরোধে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। ভাঙন অব্যাহত থাকলে বাঁধ হুমকিতে পড়ে যাবে। 

 

/এমএসএম/ 

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তিতে জোর দেবে নতুন বিএসইসি
ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তিতে জোর দেবে নতুন বিএসইসি
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
নতুন নাম জড়ানোর চেষ্টা বিচার বিলম্বের কৌশল: ডিএমপি কমিশনার
শিশু রামিসা হত্যা মামলানতুন নাম জড়ানোর চেষ্টা বিচার বিলম্বের কৌশল: ডিএমপি কমিশনার
মূল্যস্ফীতির চাপ কমেনি, ব্যাংক খাতের প্রকৃত সংকটও রয়ে গেছে: সিপিডি
মূল্যস্ফীতির চাপ কমেনি, ব্যাংক খাতের প্রকৃত সংকটও রয়ে গেছে: সিপিডি
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী