চাঁদপুরে স্কুলের পূর্ণ বেতন ও পরীক্ষার ফি দিতে না পারায় প্রকাশ্যে কান ধরে উঠবোস করার পর ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই ঘটনায় চাঁদপুর মডেল থানায় স্কুলছাত্রী সাথীর বাবা দেলোয়ার হোসেন তালুকদার বাদী হয়ে ৩০৬ ধারায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করেছেন। এতে চার জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার সকালে ওই স্কুলছাত্রীর বাড়িতে যান চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আব্দুস সবুর মন্ডল, পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার আশ্বাস দেন।
পরে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে সাথীর দাফনের জন্য ১০ হাজার টাকা তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর কর্মকর্তারা বাগাদী ইউনিয়নের বাগাদী গনি উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উদয়ন দেওয়ানকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ঘটনাস্থলে থাকা অবস্থায় জেলা প্রশাসক আব্দুস সবুর মন্ডলকে ফোন করেন শিক্ষামন্ত্রী। জানা গেছে, শিক্ষা সচিব বুধবার (৩১ আগস্ট) চাঁদপুর আসবেন এবং বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় সাথীর বাড়িতে যাবেন।
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আব্দুস সবুর মন্ডল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক যেসব ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন তা করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা গেছে, টাকা না দিতে পারার জন্য শাস্তি এবং অপমানের যে অভিযোগ ছিল প্রাথমিকভাবে তার সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের পরই পুরো বিষয়টি জানানো হবে।
চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অলিউল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এ ঘটনায় স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে চার জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। তদন্তের জন্য স্কুলের সিসি ক্যামেরাসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সব উপাদান সংগ্রহ করা হবে। মামলায় কারা আসামি সেব্যাপারে বলতে চাননি তিনি।
প্রসঙ্গত, সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের মধ্য বাগাদী গ্রামের শ্রমিক দেলোয়ার হোসেন তালুকদারের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে সাথী আক্তার গত ২৭ আগস্ট শনিবার পরীক্ষার প্রথম দিন বেতন ও পরীক্ষার ফি’র বকেয়া টাকার না দেওয়ায় বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী ফাতেমা বেগম তাকে রোদের মধ্যে দাঁড় করিয়ে কান ধরে উঠবোস করান। এরপর ওই শিক্ষার্থী বাড়িতে এসে বিষয়টি বাবা-মাকে জানান। কিন্তু পরদিন পূর্ণ বকেয়া টাকা না দিতে পারায় সাথী আর পরীক্ষা দিতে যায়নি। পরে ক্ষোভ-অভিমানে বেলা ১১টার দিকে সবার অগোচরে সে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল গাজী বলেন, ‘মেয়ের বাবা জানিয়েছেন, বেতনের জন্য তার মেয়েকে রোদে দাঁড় করিয়ে রাখে। গত সোমবার ৩৮০ টাকা তাকে দেই, কিন্তু ২০ টাকা কম ছিল। এ জন্য সে আর (সোমবার) পরীক্ষা দিতে যায়নি।’
আরও পড়ুন-
মীর কাসেমের ফাঁসির রায় বহাল
সবচেয়ে বেশি সময় লাগলো মীর কাসেমের রিভিউতে
/এফএস/








