ট্যানারি মালিকদের কাছে গত মৌসুমের সাড়ে ৫ কোটি টাকা বকেয়া থাকায় এবার চামড়া কিনতে অনীহা নওগাঁর চামড়া ব্যবসায়ীদের। পাশাপাশি লবণের দাম তিনগুণ বাড়ায় চামড়া পাচারের আশঙ্কাও করছেন তারা।
জানা গেছে, নওগাঁয় চামড়া সংগ্রহের জন্য প্রায় ৫০টি আড়ত রয়েছে। আর আড়তদারদের সঙ্গে সম্পৃক্ত আরও দুইশ’ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জড়িত এ ব্যবসায়। কোরবানির ঈদে জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার মিলে মোট ৬০/৬৫ হাজার চামড়া সংগ্রহ করে। কাঁচা চামড়ায় লবণ দিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রামের ট্যানারি মালিক ও কটেজ ব্যবসায়ীদের কাছে পাঠানো হয়। ফলে ঈদের আগে সরব হয়ে উঠে আড়তগুলো। কিন্তু এবার আড়তে ভিন্ন চিত্র। দু’একটিতে লবণ সংগ্রহ করতে দেখা গেলেও অধিকাংশ আড়ত ফাঁকা পড়ে আছে।
স্থানীয় আড়তদার মিলন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত বছরের বকেয়ার ২০/২৫ ভাগ পরিশোধ করেছেন ট্যানারি মালিকরা। তাই টাকা আদায় না হওযায় এ বছর চামড়া সংগ্রহে এখনও কোনও প্রস্তুতি নিতে পারিসি।’
তিনি আরও বলেন, ‘মৌসুমী ব্যবসায়ীদের দৌরাত্বে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে পারেন না। ফলে সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের অতিরিক্ত দাম দিয়ে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করতে হয়। তবে এবার যদি প্রকৃত চামড়া ব্যবসায়ীরা চামড়া না কেনেন তবে তা ভারতে পাচার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাপতি মমতাজ হোসেন জানান, ‘জেলার আড়তদাররা মহাজনদের কাছে সাড়ে ৫ কোটি টাকা পাবেন। ফলে এবছর চামড়া সংগ্রহ নিয়ে চরম হতাশা রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতি বস্তা লবণে ৬৫০/৭শ’ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় আড়তদাররা চামড়া কিনতে আগ্রহ পাচ্ছেন না।’
এ বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৪৩ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লে. কর্নেল জাহিদ হাসান জানান, ‘পাশের দেশে চামড়ার দর তুলনামূলকভাবে বেশি থাকায় তা পাচারের আশঙ্কা থাকে। তবে যেকোনও ধরনের চোরাচালান বন্ধে সব সময় বিজিবির অবস্থান জিরো টলারেন্স।’
তিনি আরও জানান, ‘পাচার বন্ধে সীমান্তের জিরো লাইন খেকে দেশের অভ্যন্তরে অন্তত ৮ কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত বিভিন্ন রুট চিহ্নিত করে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশী অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
/এসএনএইচ/







