নিজের বুক পেতে আমাদের রক্ষা করেছে সুন্দরবন। এই ধরণের জলাবন, বাদাবন আর কোথাও নেই বিশ্ব ঐতিহ্যে। আজকে তাকে ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে। কোন অবস্থায় সুন্দরবনকে ধ্বংস করতে দেয়া হবে না। এমনটাই বললেন সিপিবি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সরদার রুহিন হোসেন প্রিন্স। শনিবার বিকালে বাগেরহাটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন শেষে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দুই হাজার বিঘা জমি লুটপাট করে নিচ্ছে। এখন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মার্ণের নামে আরেক দফা ধ্বংসের চক্রান্ত চলছে।
মাত্র ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য সরকার বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন ধ্বংস করতে যাচ্ছে। কিন্তু আমরা হিসাব করে দেখেছি এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ১৬ কোটি মানুষের মাঝে ভাগ করে দিলে একটি ডিমলাইটও জ্বালানো যাবে না।
প্রিন্স আরও বলেন, ইউনেস্কো নতুন একটি তথ্য দিয়েছে। তারা বলেছে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের চিমনি উঁচু করার ফলে সুন্দরবনের হ্যারিটেজ অংশে এমনভাবে আঘাত আনবে, যার ফলে সুন্দরবন ধ্বংস হবে।
বর্তমান সরকার জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে সুন্দরবনের কাছে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করে সুন্দরবনের বিরুদ্ধে যে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেছে বাংলার মানুষ তা মেনে নেবে না।
তিনি সুন্দরবন বিধ্বংসী এই প্রকল্প থেকে সরে আসতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সাম্প্রদায়িক জঙ্গিবাদ-সাম্রাজ্যবাদ-লুটপাটতন্ত্র রুখে দাঁড়ানো আর প্রাণ প্রকৃতি রক্ষা, ভাত কাপড়, জমি, কাজ ও সমাজতন্ত্রের সংগ্রাম বেগবান করার স্লোগানকে সামনে রেখে বাগেরহাট সিপিবি’র দুদিনব্যাপী ৯ম জেলা সম্মেলন শুরু হয়। রবিবার নতুন কমিটি ঘোষণার মধ্যে দিয়ে সম্মেলন শেষ হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিপিবি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. মনোজ দাস, বাগেরহাট জেলা সিপিবি’র সভাপতি এ্যাডভোকেট রেজাউল করিম, সাধারণ সম্পাদক ফররুখ হাসান জুয়েল, খুলনা জেলা সিপিবি নেতা এস এ রশিদ, বাগেরহাট জেলা সিপিবি’র সাবেক সভাপতি কাজী সোহরাব হোসেন ও পৌর সিপিবির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম যাদু।
এর আগে দলের নেতা-কর্মীরা বাগেরহাট শহরে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করে। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ করে। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার দলীয় নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।
/এমপি/








