বাগেরহাট জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রকাশ্যেই ভোটারদের ভোট দিতে বাধ্য করা হতে পারে। এমন আশঙ্কা করছেন একাধিক সাধারণ সদস্য প্রার্থী। জেলার ১৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে পাঁচটি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বলছেন, নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ কামরুজ্জামান বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া সদস্য পদে তিন জন ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে আরও দুই জনও বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি ১২টি সদস্য ও তিনটি সংরক্ষিত নারী সদস্য পদের জন্য জন্য চলবে লড়াই।
বাগেরহাটের জেলা পরিষদ নির্বাচনে সাধারণ সদস্য পদে ৩৯ জন ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে রয়েছেন ১১ জন প্রার্থী। জেলার মোট ভোটারের সংখ্যা ১ হাজার ৩৬ জন। অধিকাংশ ওয়ার্ডেই সদস্য পদে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোটের লড়াই হাড্ডাহাড্ডি হবে বলে মনে করছেন ভোটারা। আর সে কারণেই ভোটের ফলাফলকে নিজের পক্ষে আনতে নানা ধরনের কৌশল নেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা ভোটারদের।
১২নং ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী নাসির উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতার চাপে ইউপি সদস্যদের (ভোটার) প্রকাশ্যে ভোট দেওয়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’
একই অভিযোগ করেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী সরদার ফখরুল আলম সাহেব। তিনি বলেন, ‘চেয়ারম্যান ও সদস্যদের একইসঙ্গে বুথের মধ্যে গিয়ে দেখিয়ে ভোট প্রদান করতে বাধ্য করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’
এসব প্রার্থীরা বলেন, ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ খোলা রাখতে হবে। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে নির্বাচনের পরিবেশ যেন নষ্ট না হয়, প্রশাসনের প্রতি সে বিষয়ে মনোযোগী থাকার আহ্বান জানান তারা।
বাগেরহাট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতেও অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’
আরও পড়ুন-
টাকা লেনদেন বন্ধে মোবাইল নিষিদ্ধ, বসছে সিসি ক্যামেরা
/টিআর/








