সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল হত্যায় অভিযোগে শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র হালিমুল হক মিরুকে সিরাজগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ।
সোমবার সকাল ১১টায় সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে মো. মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ প্রথমে মিরুকে গ্রেফতারের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘গত রবিবার রাত ৯টার পর ঢাকার শ্যামলী সিনেমা হল এলাকা থেকে ঢাকা ও সিরাজগঞ্জের গোয়েন্দা পুলিশ গত যৌথভাবে মিরুকে গ্রেফতার করে। ওই রাতেই তাকে সিরাজগঞ্জে আনা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ (সোমবার) দুপুর ২টার দিকে মিরুকে সিরাজগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হবে। এরপর তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হতে পারে। একই সঙ্গে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করবেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।’
দৈনিক সমকাল পত্রিকার শাহজাদপুর উপজেলা প্রতিনিধি আব্দুল হাকিম শিমুলকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ২টি মামলা হয়। এ মামলায় ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযোনে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে মিরুর দু’ভাই পিন্টু ও মিন্টুসহ আরও ৮ জনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহিনুল আলম খান, ইউসুফ আলী, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন ও ডিবি পুলিশের ওসি মো. ওয়াহেদুজ্জামান ও সেকেন্ড অফিসার রওশন আলী।
উল্লেখ্য, সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল হত্যায় অভিযুক্ত শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র হালিমুল হক মিরুকে রবিবার রাত ১০টার দিকে রাজধানীর শ্যামলী এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত ২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের সময় পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরুর শটগানের গুলিতে দৈনিক সমকালের সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা প্রতিনিধি শিমুল আহত হন। শাহজাদপুরের দিলরুবা বাস টার্মিনাল থেকে উপজেলা সদর পর্যন্ত রাস্তার কাজ নিয়ে পৌর মেয়র মিরুর ছোট ভাই হাসিবুল ইসলাম পিন্টুর সঙ্গে পৌর আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ভিপি রহিমের শ্যালক ছাত্রনেতা বিজয়ের বিরোধ ছিল। এর জের ধরেই বিজয়কে বেধড়ক মারধর করেন পিন্টু। এতে তার হাত-পা ভেঙে যায়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দলের কর্মী-সমর্থক ও বিজয়ের মহল্লা কান্দাপাড়ার লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে দিলরুবা বাস টার্মিনাল এলাকায় গিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে। এক পর্যায়ে অবরোধকারীদের একটি অংশ মনিরামপুর এলাকায় অবস্থিত পৌর মেয়রের বাড়ি ঘিরে ইট-পাটকেল মারতে থাকে। ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহের সময় মেয়রের ছোড়া গুলিতে আহত হন সাংবাদিক শিমুল। আহত অবস্থায় তাকে বগুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শুক্রবার ঢাকায় নেওয়ার পথে দুপুরে মারা যান তিনি।
/এসএনএইচ/








