দিনে কুকুর, রাতে মাদকসেবী: বেহাল রংপুর শহীদ মিনার

লিয়াকত আলী বাদল, রংপুর
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১২:১০আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০৭:৪৩

 

রংপুর শহীদ মিনার এলাকার অবস্থা রংপুরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি অযত্ন, অবহেলায় পড়ে থাকে বছরের বেশির ভাগ সময়। শুধুমাত্র একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, মহান বিজয় দিবস আর স্বাধীনতা দিবসের আগে একটু ধোঁয়া মোছা ও পরিষ্কার করা হয়। তাছাড়া দিনের বেলায় কুকুরের আবাসস্থল আর রাতে মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয় স্থানটি। এছাড়া শহীদ মিনারের মাত্র ১০ গজ দূরেই রয়েছে গণশৌচাগার। রংপুর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে শহীদ মিনার পরিচালিত হলেও এর কোনও দায়িত্বই তারা পালন করে না বলে অভিযোগ সংস্কৃতি ব্যক্তিত্বদের।

রংপুর শহীদ মিনার এলাকার অবস্থা সরেজমিনে দেখা গেছে, রংপুর শহীদ মিনারের পাশেই রয়েছে একটি গণশৌচাগার। তার পাশেই ময়লার স্তুপ। দুর্গন্ধে কাছেই যাওয়া যায় না। শহীদ মিনার এলাকায় রয়েছে অবৈধ ট্রাক পার্কিং।

এ ছাড়া শহীদ মিনারের পাদদেশটি বেওয়ারিশ  কুকুরের আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শহীদ মিনার থাকে  মাদকসেবীদের দখলে।

শহীদ মিনারের লাগোয়া স্থানে কারা গণশৌচাগার বানিয়েছে সে ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাবলিক লাইব্রেরির দুই কর্মচারী জানান, লাইব্রেরির মাঠের মধ্যেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার অবস্থিত হওয়ায় বছরের বেশির ভাগ সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে এ মাঠে মাসব্যাপী কিংবা সপ্তাহব্যাপী মেলা হয়। ওইসব অনুষ্ঠানের জন্য শহীদ মিনার লাগোয়া এলাকায় গণশৌচাগার বানানো হয়েছে। এটি বাঁশের তৈরি বেড়া দিয়ে ঢেকে রেখে শৌচাগার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এরপর মেলা বা অনুষ্ঠান শেষ হলে সেটি খুলে ফেলা হয়। বর্তমানে এই গণশৌচাগারের দুর্গন্ধে পরিবেশ আরও বিষিয়ে উঠছে। শহীদ মিনারটি রংপুর সিটি করপোরেশন কর্তৃক পরিচালিত হলেও বিশেষ দিন ছাড়া তাদের কোনও ভ্রক্ষেপ নেই।

রংপুর শহীদ মিনার এলাকার অবস্থা জানা যায়, প্রায় ২৫ বছর আগে চাঁদা তুলে তৎকালীণ পৌর মেয়র মোহাম্মদ আফজাল তৈরি করেছিলেন শহীদ মিনারটি। অথচ দীর্ঘ দিনেও এর  সংস্কার বা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে তৈরি করার কোনও উদ্যেগ নেওয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব মাধব চন্দ্র জানান,বিশেষ দিবসের আগে শহীদ মিনারটি রং-চং করা হয়। একটু পরিষ্কার করে চারদিকে আলোকসজ্জা করা হয়। এরপর শহীদ মিনার এলাকায় একটি লাইট দেওয়ারও প্রয়োজন মনে করে না কর্তৃপক্ষ।

রংপুর জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ হিরু জানান, ‘শহীদ মিনারের এমন অমর্যাদা কাম্য নয়। এর দায়িত্বে যারা আছেন তাদের অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না।’

রংপুর শহীদ মিনার এলাকার অবস্থা এ সব বিষয়ে রংপুর সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে গিয়ে মেয়র শরফ উদ্দিন আহাম্মেদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর মঞ্জুর হোসেন মঞ্জুসহ তিন কাউন্সিলর স্বীকার করলেন করপোরেশনের অবহেলার কথা। এ জন্য তারা দুঃখ প্রকাশ করে জানান, ‘আগামী সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করে এর সমাধান করা হবে।’

/বিটি/এসএনএইচ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বাংলাদেশ সফরের ব্যাখ্যা দিলো আইসিসি
বাংলাদেশ সফরের ব্যাখ্যা দিলো আইসিসি
বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে সহযোগীদের সমর্থন চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে সহযোগীদের সমর্থন চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
বিশ্বকাপের আগে খেলোয়াড়দের নিয়ে সতর্ক ফ্রান্স কোচ
বিশ্বকাপের আগে খেলোয়াড়দের নিয়ে সতর্ক ফ্রান্স কোচ
এক দিনেই ৭০০ তিমি ও ডলফিন হত্যা
এক দিনেই ৭০০ তিমি ও ডলফিন হত্যা
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান