গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলায় গ্রেফতার সাবেক এমপি (অব) ডা. কর্নেল আবদুল কাদের খাঁনের প্রশিক্ষিত কিলার গ্রুপ এলাকায় ছিনতাইয়ে জড়িত ছিল। এই মামলায় গ্রেফতার মেহেদী হাসান, শামীম মণ্ডল, শাহীন মিয়া ও রানাও ওই কিনার গ্রুপে থেকে অবৈধ অস্ত্র ও মোটরসাইকেল ব্যবহার করে ছিনতাই গ্রুপ গড়ে তুলেছিল বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।
স্বীকারোক্তিতে তারা জানান, কাদের খাঁনের নিজ বাড়িতে লাইসেন্স করা পিস্তল ছাড়াও অবৈধ পিস্তলের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দিয়ে মেহেদী হাসান, শামীম মণ্ডল, শাহীন ও রানাকে নিয়ে যে কিলার গ্রুপটি গড়ে তুলেছিল তারা মাদকাসক্ত ছিল। তারা সুন্দরগঞ্জ ও পাশের এলাকায় ছিনতাই করতো। এসব ছিনতাইয়ের ঘটনায় কাদের খাঁনের ওই অবৈধ পিস্তল এবং তার দেওয়া বুলেটই ব্যবহৃত হতো। যে কারণে কাদের খাঁন তার লাইসেন্স করা পিস্তল ব্যবহারের জন্য কেনা ৪০ রাউন্ড বুলেটের সঠিক হিসাব পুলিশকে দিতে পারেনি। পিস্তল ও বুলেট জব্দ করার সময় তিনি ১০ রাউন্ড বুলেট জমা দেন। বাকি ৩০ রাউন্ড বুলেটের হিসাব তিনি দিতে পারেননি।এর মধ্যে ৫ রাউন্ড বুলেট এমপি লিটনকে খুনের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে এবং ১ রাউন্ড তার বাড়িতে প্রশিক্ষণকালে অসাবধানতাবশত মিস ফায়ার হয়। সে হিসেবে ২৪ রাউন্ড বুলেট প্রশিক্ষণসহ ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে।
অপরদিকে, এমপি লিটনের কিলাররা ১ ডিসেম্বর গাইবান্ধা-সুন্দরগঞ্জ সড়কে ধোপাডাঙ্গায় ফাইম নামে এক যুবকের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ছিনতাই করে। ছিনতাই শেষে তাড়াহুড়া করে পালাতে গিয়ে পিস্তলের ৬ রাউন্ড বুলেটের ম্যাগাজিনটি তাদের অগোচরে রাস্তায় পড়ে যায়। যা স্থানীয় জনগণের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ উদ্ধার করে এবং সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি জিডিও করা হয়।লিটন হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন হওয়ার পর হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বুলেট এবং ওই ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত প্রাপ্ত বুলেটের মিল পাওয়ার সূত্র ধরেই পুলিশ খুনিদের গ্রেফতার করা হয়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কাদের খানের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয় এবং খুনের রহস্য উদঘাটিত হয়।
ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ইয়াকুব আলী বলেন, ‘কাদের খাঁন মেহেদী, শামীম, শামীম, শাহীন ও রানাকে নিয়ে একটি ক্যাডার বাহিনী গড়ে তোলেন। এ ক্যাডার বাহিনীর কাজেই ছিল রাতের আধারে সাধারণ মানুষকে অস্ত্র ঠেকিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোবাইলসহ টাকা পয়সা ছিনতাই করা। প্রতি রাতে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা মোটরসাইকেল নিয়ে তারা ঘুরে বেড়াতো। সুযোগ মতো রাস্তার পথচারীকে আটকিয়ে ছিনতাই করতো।’
লিটন হত্যা মামলা তদন্ত কর্মকর্তা ও সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) আবু হায়দার মো.আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘লিটন হত্যা মামলায় গ্রেফতার মেহেদী, শামীম, শাহীন ও রানা পুলিশ ও আদালতে স্বীকারোক্তিতে ফাহিম নামে যুবকের মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করে। এছাড়া তারা অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই করার কথাও স্বীকার করেছে।
তবে ছিনতাইয়ের বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে থানায় কোনও অভিযোগ ছিল না।’
উল্লেখ্য, ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নে শাহবাজ (মাস্টাপাড়া) এলাকায় নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন এমপি মনজুরুল ইসলাম লিটন। এ ঘটনায় লিটনের বোন বাদী হয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এই ঘটনার দেড় মাসেরও বেশি সময় পর গত মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) লিটন হত্যার মূল হোতা সন্দেহে জাতীয় পার্টির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. আবদুল কাদের খাঁনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ডা. কাদেরের গাড়িচালক, এক ভাতিজা, কাজের ছেলে ও রানা নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই চার জনের সবাই এরই মধ্যে এমপি লিটন হত্যায় জড়িত থাকার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
২২ ফেব্রুয়ারি কাদের খাঁনকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার পর তার দেওয়া তথ্য অনুয়ায়ী তার বাড়ি থেকে একটি পিস্তল, ছয় রাউন্ড গুলি ও ম্যাগজিন উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে কাদের খান একটি পিস্তল ও ১০ রাউন্ড গুলি সুন্দরগঞ্জ থানায় জমা দিয়েছিলেন।
/এমডিপি/টিএন/







