নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় একটি স্কুলের কয়েকজন শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগে একজন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি বৈঠক শেষে শনিবার বিকালে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বন্দর উপজেলার ধামগড় ইউনিয়নের হালুয়াপাড়া এলাকায় শেখ জামাল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে অষ্টম শ্রেণির একটি ক্লাসে ১২-১৫ জন ছাত্রের চুল কেটে দেন ক্রীড়া শিক্ষক মোহাম্মদ মাসুম। এ ঘটনার পরে ছাত্ররা লজ্জায় ও ভয়ে বিষয়টি পরিবারের কাছে গোপন রাখে। কেউ কেউ সেলুনে গিয়ে চুল ফেলে দিয়ে ন্যাড়া মাথা হয়ে যায়। পরে শুক্রবার রাতে ও শনিবার সকালে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়।
ক্রীড়া শিক্ষক মোহাম্মদ মাসুম বলেন, অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রের চুলে লাল রং করা ছিল। এ কারণে বৃহস্পতিবার আমি ওই ছাত্রকে চুল কাটানোর নির্দেশ দিই। ছাত্রটি তখন আমার কাছে চুল কাটানোর জন্য টাকা চায়।’ জবাবে আমি বলি ‘টাকা লাগবে কেন আমার কাছেই তো কাঁচি আছে। এই বলে আমি তার চুল ছোট করে দেই। আরও কয়েকজনের মাথায় চুল বড় ছিল, তাদের চুলও কেটে দেই।’
স্কুলের প্রধান শিক্ষক খন্দকার শামীমা আক্তার মুন্নি বলেন,‘আমি শিক্ষক মোহাম্মদ মাসুমকে বলেছিলাম শিক্ষার্থীদের ভয় দেখাতে, যাতে তারা চুল বড় না রাখে। পরে শুনতে পেয়েছি, শিক্ষক মাসুম ভয় দেখাতে গিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীর চুল কেটে দিয়েছেন। আমি এ ঘটনায় লজ্জিত ও দুঃখিত।’
স্কুলটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ধামগড় ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম আহাম্মেদ বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা লজ্জিত। ইতোমধ্যে ধামগড় ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বার আবু সাঈদকে প্রধান করে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া ক্রীড়া শিক্ষক মোহাম্মদ মাসুমকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্টে যারা দোষী প্রমাণিত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
/এপিএইচ/







