মিরসরাই পৌর বিএনপি’র নেতা রেদোয়ানুল হককে (৫৫) জঙ্গিদের সহায়তা করার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) মিরসরাই সার্কেলের সিনিয়র এএসপি মাহবুবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, বুধবার (৮ মার্চ) রেদোয়ানুলের বাড়ির দোতলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) আস্তানার খোঁজ পায় পুলিশ। ওই সময় সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ গ্রেনেড ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বুধবার রাতে মিরসরাই পৌর বিএনপির সাবেক এই যুগ্ম সম্পাদককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।
এএসপি মাহবুবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাড়ি ভাড়া দিয়ে জঙ্গিদের সহায়তা করেছিলেন রেদোয়ানুল। তাই মিরসরাই থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে হওয়া মামলায় জেএমবির সহযোগী হিসেবে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।’
তিনি জানান, বুধবার ওই জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ গ্রেনেড উদ্ধার করেন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা। মিরসরাই স্টেডিয়ামের পাশে ‘রেদোয়ান মঞ্জিল’-এর দোতলা ভবনের আস্তানা থেকে এসব গ্রেনেড উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মিরসরাই থানায় ১০ জনকে আসামি করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে।
কুমিল্লার একটি চেকপোস্টে পুলিশের ওপর দুই ‘জঙ্গির হামলার’ পর মঙ্গলবার রাত থেকে এ অভিযান শুরু হয়ে বুধবার দুপুর ১টায় শেষ হয়। অভিযানে মিরসরাই থানা পুলিশ, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট, একটি স্পেশাল টিম এবং র্যাব ৭ এর সদস্যরা অংশ নেন।
গ্রেফতারের আগে রেদোয়ান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, জঙ্গি ও তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে কিছুই জানতেন না তিনি। কাপড়ের ব্যবসায়ী পরিচয়ে তারা বাড়ি ভাড়া নেয়।
চিটাগং মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বোমা নিস্ক্রিয়করণ ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের অক্টোবরে চট্টগ্রাম জেএমবির লালখান বাজারের খোয়াজনগর আস্তানায় যে ধরনের গ্রেনেড পাওয়া গিয়েছিলো মিরসরাইয়ের আস্তানায় পাওয়া গ্রেনেড একই ধরনের।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিএমপি’র বোমা নিস্ক্রিয়করণ ইউনিটের এক কর্মকর্তা জানান, ‘খোয়াজনগর ও মিরসরাই আস্তানায় উদ্ধার বোমা একই প্রক্রিয়ায় তৈরিও করা হয়।’
/এমএ/








