রাজশাহী সিটি করপোরেশনে স্মার্টকার্ড (জাতীয় পরিচয়পত্র) বিতরণের আনুষ্ঠানিকতার উদ্বোধন হলো। রবিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম।
প্রথম দিন ১০ জনের হাতে তুলে দেওয়া হয় স্মার্টকার্ড। তারা হলেন- প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, নৃত্যগুরু বজলুর রহমান বাদল, জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট, রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মুহা. হবিবুর রহমান, রাজশাহী সিটি কলেজের অধ্যক্ষ মফিজ উদ্দিন মোল্লা, বীর মুক্তিযোদ্ধা মহানগর কমান্ডার আবদুল মান্নান, দৈনিক সোনালী সংবাদের সম্পাদক লিয়াকত আলী, স্থানীয় সাংবাদিক আবু সালেহ মো. ফাত্তাহ, প্রকৌশলী ফেরদৌস শাহনেওয়াজ কান্তা ও রাজশাহী সরকারী পিএন স্কুলের প্রধান শিক্ষক তৌহিদ আরা।
স্মার্টকাড বিতরণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘২০০৮ সালে আমরা তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছি। বিশাল তথ্যভাণ্ডার থাকার পরও আমরা সব ভুল ঠিক করতে পারিনি। তবে এই জাতীয় পরিচয়পত্রে কোনও ভুল থাকবে না। আমরা একটি নিখুঁত ডাটাবেজ তৈরি করবো। জাতীয় পরিচয়পত্রের ভুল সংশোধনের জন্য নির্বাচন কমিশনের মাঠপর্যায়ের প্রত্যেক কর্মকর্তা সব ধরনের সহযোগিতা করবেন। এর সুষ্ঠু তদারকি নিশ্চিত করা হবে। বিশ্বব্যাংক আমাদের উন্নয়ন সহযোগী এবং আমাদের অনেক উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে তারা সম্পৃক্ত। বিশ্বব্যাংক তাদের সহযোগিতা সম্প্রসারিত করবে। ফলে আমরা প্রত্যেকের কাছে একদিন স্মার্টকার্ড পৌঁছে দিতে পারবো।’
রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম, নির্বাচন কমিশনের সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার নুর-উর-রহমান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বিপিএম, আইডিয়া প্রকল্পের পরিচালক ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুল ইসলাম, বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি সৈয়দ খালেদ আহসান, রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসার সুভাষ চন্দ্র সরকার প্রমুখ।
রাজশাহীর রাজপাড়া থানা নির্বাচন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ইতিমধ্যে স্মার্ট কার্ড বিতরণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) থেকে ওয়ার্ডভিত্তিক স্মার্টকার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। চলবে আগামী ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এই পরিচয়পত্র বিতরণ করা হবে।
এদিকে রাজশাহী জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য মতে, রাজশাহী মহানগরীর প্রায় তিন লাখ নাগরিককে পর্যায়ক্রমে স্মার্টকাড বিতরণ করা হবে। পাসপোর্ট করা ও নবায়ন, চাকরির আবেদন, স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়, বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন, নির্বাচনে ভোটার শনাক্তকরণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তিসহ ২২ ধরনের সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে এই স্মার্টকার্ড প্রয়োজন হবে।
আধুনিক পরিচয়পত্রটিতে ব্যক্তির নাম, মা-বাবার নাম, জন্মতারিখ ও জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন নম্বর দৃশ্যমান থাকছে। সেই সঙ্গে কার্ডের পেছনে রয়েছে ব্যক্তির ভোটার এলাকার ঠিকানা, রক্তের গ্রুপ ও জন্মস্থান। এছাড়া সব মিলিয়ে স্মার্টকার্ডের মধ্যে থাকা চিপ বা তথ্যভান্ডারে ৩১ ধরনের তথ্য থাকছে, যা মেশিনের মাধ্যমে পাঠযোগ্য হবে।
/জেএইচ/







