মাগুরায় মেয়ের উত্ত্যক্তকারীকে চাপাতি দিয়ে কোপানোর ঘটনার পর মা ও মেয়ে কাউকেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এলাকায়। অন্যদিকে মামলার ভয়ে উত্ত্যক্তকারী কৃষ্ণ অধিকারীও হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়েছে। রবিবার (৭ মে) মাগুরা সদর থানার ওসি (অপারেশন) রফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে, শনিবার (৬ মে) দুপুরে মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের সামনে মেয়ের উত্ত্যক্তকারী বখাটে যুবক কৃষ্ণ অধিকারীকে কুপিয়ে জখম করেন শ্রীপুর কলেজের অনার্স তৃতীয়বর্ষের এক ছাত্রীর মা। এরপর বখাটে কৃষ্ণ অধিকারী পালিয়ে গিয়ে মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়। ভর্তির পর পুলিশের নজরদারিতে ছিল সে। ওসি (অপারেশন) রফিকুল ইসলাম শনিবার জানিয়েছিলেন, পুলিশি নজরদারিতে বখাটে যুবকের চিকিৎসা চলছে। উত্ত্যক্তের শিকার ছাত্রী বা তার মা মামলা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
রবিবার সকালে ওসি রফিকুল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জখম অবস্থায় কৃষ্ণ মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। তার নামে কোনও মামলা না হওয়ায় তাকে আমরা আটক করিনি। এখন তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’
এদিকে, মায়ের হাতে আহত হওয়ায় উত্ত্যক্তকারী কৃষ্ণ মামলা করতে পারেন- এমন আতঙ্ক থেকেই মা-মেয়ে বাড়ি থেকে পালিয়েছেন বলে ধারণা করছেন প্রতিবেশীরা। তারা কোনও আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিয়ে থাকতে পারেন বলে মনে করছেন অনেকে। এ বিষয়ে ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মামলা করার সুযোগ থাকলেও উত্ত্যক্তকারীর বিরুদ্ধে ছাত্রী বা তার মা কেউই মামলা করেননি। এমনকি সকাল থেকে তাদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।’ এই প্রতিবেদকও বাড়িতে গিয়ে মা-মেয়ে কাউকেই দেখতে পাননি। মোবাইল ফোনে চেষ্টা করেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।
আহত কৃষ্ণ অধিকারীর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে সে বাংলা ট্রিবিউনকে বলে, ‘এর আগে একবার ভুল বোঝাবুঝির কারণে শ্রীপুর থানা পুলিশ আমাকে আটক করেছিল। তবে সলিসের মাধ্যমে তা মীমাংসা করা হয়েছিল।’ শনিবারের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আবারও মামলা হতে পারে- এমন আশঙ্কার কারণেই আত্মগোপনে থাকার কথা জানায় কৃষ্ণ।
এসব বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘যেহেতু কোনও পক্ষই মামলা করেনি, তাই কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছি না। তবে বিষয়টি তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
/এসএমএ/টিআর/








